Published : 22 Dec 2025, 01:09 PM
স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছি এই ভাবনাটাই অনেককে আশ্বস্ত করে। তবে বাস্তবে দেখা যায়, নিয়ম মেনে খাওয়ার পরও ওজন কমছে না, বরং কোথাও যেন আটকে যাচ্ছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো বাইরে থেকে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও সঠিকভাবে না বুঝে বা মাত্রার বাইরে খেলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে।
মূলত নাম বা পরিচয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, এসব খাবারের ভেতরের উপাদান ও পরিমাণ।
প্রোটিন বার: সুবিধার ফাঁদ
অনেকেই সকালে নাশতার পর অল্প মিষ্টি হিসেবে বা হালকা খাবার হিসেবে প্রোটিন বার খেতে পছন্দ করেন। মনে করা হয় প্রোটিন বেশি থাকলে পেট ভরবে, ওজন কমবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পুষ্টিবিদ সারা গ্যারোন ইটদিস নটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “এই ধরনের খাবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত এবং এতে লুকিয়ে থাকে অনেক ক্যালরি ও যোগ করা চিনি।”
এক টুকরা বারই অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ খাবারের সমান শক্তি সরবরাহ করে ফেলে। ফলে নাশতার বদলে এটি খেলে সারাদিনের মোট ক্যালরি হিসাব এলোমেলো হয়ে যেতে পারে।
ওজন কমাতে চাইলে খাবারের সুবিধার চেয়ে তার সামগ্রিক প্রভাব বোঝা জরুরি।
স্বাদযুক্ত দই: উপকারের আড়ালে চিনি
দই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে সব দই এক রকম নয়।
সারা গ্যারোনের মতে, “স্বাদযুক্ত দেইতে প্রাকৃতিক দইয়ের গুণ থাকলেও তাতে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা থাকে। এই চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, ফলে কিছু সময় পর আবার খিদে লাগে।”
নিয়মিত এমন দই খেলে ওজন কমার বদলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে ওঠে। সাধারণ দই বা অল্প চিনি যুক্ত দই তুলনামূলকভাবে নিরাপদ পছন্দ।
বাদাম ও বীজ মিশ্রণ: উপাদান নির্বাচনে ভুল
বাদাম ও বীজ স্বাস্থ্যকর এ নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে মিশ্রণের ক্ষেত্রে সমস্যা হয় উপাদান নির্বাচনে।
অনেক মিশ্রণে বাদামের চেয়ে বেশি থাকে চকলেট বা চিনি মাখানো শুকনো ফল। এতে স্বাদ বাড়লেও ক্যালরির পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। হাতে নিয়ে খেতে খেতে কখন যে মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তা বোঝা যায় না।
ফলাফল হিসেবে ওজন কমার বদলে ক্যালরি জমা হতে থাকে।
ভাজা ওটসের মিশ্রণ: স্বাস্থ্যকর ভাবনার অতিরিক্ত ব্যবহার
অনেকের কাছেই ভাজা ওটসের মিশ্রণ শব্দটির সঙ্গে স্বাস্থ্যকর জীবনের ছবি জড়িয়ে আছে। সকালের নাশতায় বা হালকা খাবার হিসেবে এটি জনপ্রিয়।
তবে সারা গ্যারোন মনে করিয়ে দেন, ভাজা ওটসের মিশ্রণে থাকা শস্য ও আঁশ ভালো হলেও এতে চর্বি ও চিনি বেশি থাকতে পারে। সমস্যাটা হয় পরিমাণে।
অনেকেই এক বাটির বদলে দুই বাটি খেয়ে ফেলেন, যা সহজেই দৈনিক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শক্তি যোগ করে দেয়।
সচেতন না হলে এই অভ্যাস ওজন কমানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
স্মুদি: তরল খাবারের বিভ্রান্তি
ফল ও সবজি একসঙ্গে নেওয়ার সহজ উপায় হিসেবে স্মুদি অনেকের পছন্দ।
কিন্তু সারা গ্যারোনের মতে, “স্মুদি বানাতে গিয়ে বাদামের মাখন, মধু বা ঘন দুধ বেশি ব্যবহার করলে এটি অল্প সময়েই শক্তিতে ভরপুর হয়ে ওঠে।”
আরও একটি সমস্যা হল, তরল খাবার চিবিয়ে খাওয়ার মতো তৃপ্তি দেয় না। ফলে স্মুদি খাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার খেতে ইচ্ছে করে।
ওজন কমাতে চাইলে স্মুদির উপাদান ও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
চর্বিমুক্ত মিষ্টান্ন: নামের বিভ্রান্তি
চর্বি নেই এই কথাটা শুনে অনেকেই নিশ্চিন্তে মিষ্টান্ন খেয়ে ফেলেন।
সারা গ্যারোন এক্ষেত্রে সতর্ক করে বলেন, “চর্বি কমাতে গিয়ে অনেক সময় চিনি বা কৃত্রিম উপাদান যোগ করে।”
এতে স্বাদ ঠিক থাকলেও শরীরের জন্য তা সহায়ক হয় না। বরং অল্প পরিমাণে সাধারণ মিষ্টান্ন খাওয়া অনেক ক্ষেত্রে বেশি যুক্তিসংগত।
শুকনো ফল: সহজে বেশি খেয়ে ফেলা
শুকনো ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর, কিন্তু ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটু সাবধানে খাওয়া দরকার।
পানি কমে যাওয়ায় শুকনো ফলে শক্তির ঘনত্ব বেশি থাকে। অল্প পরিমাণেই অনেক ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করে।
অন্যদিকে তাজা ফলের রস শরীরকে তৃপ্ত ও হজমে সাহায্য করে। তাই ওজন কমাতে চাইলে শুকনো ফল সীমিত রাখা ভালো।
আরও পড়ুন
ওজন কমাতে খাবারের আদর্শ পরিমাণ