Published : 14 May 2026, 08:00 PM
প্রত্যেকটি আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে মানুষের পুষ্টি চাহিদা বিভিন্ন হয়। তেমনি গরম আবহাওয়াতে পুষ্টি চাহিদা ভিন্ন।
এই গরমে মানুষের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যেমন- অতিরিক্ত ঘাম ও ঘামাচি, ত্বকে অতি সংবেদনশীল হয়ে র্যাশ ওঠা, দেহে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে গিয়ে হতে পারে পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যা।
এছাড়াও অতিরিক্ত গরমে হতে পারে বদহজম, পেট-ফাঁপা, ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বর ও বমি।
তাই প্রথম থেকে শরীরের যত্ন নিতে হবে। এছাড়া পরিবারে শিশু, বৃদ্ধ বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন তাদের প্রতি আলাদা নজর দেওয়া উচিত।
এই গরমে প্রধান সমস্যা হতে পারে পানিশূন্যতায় ভোগা। তাই প্রথম থেকেই খাবারে বেছে নিতে হবে পানিযুক্ত রসালো খাবার। যেমন-
শাকসবজি: দেহের তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে এবং আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে সবুজ শাকসবজিতে ৮০-৯০ ভাগ পানি থাকে। যেটি সহজেই হজম করে এবং শরীর ঠাণ্ডা রাখে। এজন্য বিভিন্ন রকম শাকসবজি দিয়ে সালাদ ও স্যুপ করে খাওয়া যেতে পারে। যেমন- পালংশাক, লেটুস, মুলা, শসা পুদিনা দিয়ে।
এছাড়া মৌসুমি সবজি, যেমন- লাউ, পেঁপে, ঝিঙা, ধুন্দল, চিচিঙ্গা খেতে পারেন। অবশ্যই শাকসবজি শরীরে সহজে শোষণ হওয়ার জন্য ভিটামিন সি যুক্ত করে খেতে হবে, যেমন এক টুকরা লেবু বা কাচা মরিচ।
আর শাকসবজি থেকে ভালো গুণাগুণ পেতে হলে অধিক সময় রান্না করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সিট্রাস বা টক ফল: এই ধরনের ফলের মধ্যে আছে- লেবু, কমলা, আমড়া, আমলকি। এগুলোতে যেমন ক্যালরি কম তেমনি দেহের তাপমাত্রাকেও নিয়ন্ত্রণ করবে।
যাদের ওজন বেশি এবং ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য এগুলো হতে পারে আদর্শ খাবার।
অপরদিকে ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মিষ্টি ধরনের ফলগুলো পরিমিত পরিমাণে খেতে পারবে, যে কোনও একটি। যেমন- মৌসুমি ফল তরমুজ, বেল, বাঙ্গি, জাম, জামরুল আম, কাঠাল ইত্যাদি।
আর যাদের কিডনি বা বৃক্কে সমস্যা আছে তারা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
ইলেকট্রোলাইটস পূরণ করা: অতিরিক্ত গরমে শরীর পানিশূন্যতা হয়ে ইলেকট্রোলাইটস ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, যাকে বলে ‘ইলেক্ট্রোলাইটস ইমব্যালেন্স’ হয়। আর এই ইলেকট্রোলাইট পূরণে সোডিয়ামের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়ামও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে- ডাবের পানি, পপকর্ণ, ফলের রস, দুধ, দই, দুধের বিকল্প আমন্ড বা কাঠবাদামের দুধ, কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, তিসীবীজ, কুমড়ার বীজ, গোটা দানা শস্য, কলা, বাঙ্গি, আনারস, কিউই, আঙুর।
মাছ: প্রোটিন-ধর্মী খাবারের মধ্যে মাছ হতে পারে আদর্শ। কেননা প্রাকৃতিকভাবে মাছ হল শীতল, যা শরীরে তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। মাছের গুণাগুণ পেতে হলে খুব বেশি ভাজা যাবে না।
একে ‘স্টিমিং’ বা ভাপিয়ে রান্না করতে হবে। এছাড়া খাওয়া যেতে পারে পাতলা ডাল।
অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার: এমন খাবারের মধ্যে আছে- টমেটো, বেরি ধরনের ফল, তরমুজ, পেয়ারা ইত্যাদি।
বেরি ধরনের ফলের মধ্যে আছে- স্ট্রবেরি, চেরি বা জাম। এগুলাতে পানি থাকে বেশি।
এছাড়া এসব ফলে ‘অ্যালকাইন’ থাকার কারণে শরীরে তাপ ছাড়তে সহায়তা করে যা দেহ ঠাণ্ডা রাখবে।
সবুজের চাইতে লাল টমেটোতে বেশি পানি আছে, প্রায় ৯৪ ভাগই পানি। এছাড়া তরমুজ হতে পারে এই গরমে ‘সুপার ফুড’, এটিতে পানির পরিমাণ ৯৫ শতাংশ।
তরল খাবার: এই গরমে বাইরের খোলা জায়গায় পানি, শরবত ও আখের রস পরিহার করতে হবে। কেননা এগুলো পেট খারাপ, ডায়রিয়া, আমাশয় হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাই ঘরের বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যুপ, ডিটক্স ওয়াটার, ঘরে তৈরি লেবুর শরবত, বেলের শরবত, লাচ্ছি, ফালুদা গ্রহণ করা উপকরী হবে।
তবে ‘কিডনি’ ও ‘হার্ট ফেইলর’য়ের রোগীরা তরল বা পানি গ্রহণের ব্যাপারে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেবেন।
এছাড়া ডায়াবেটিসের রোগীদের মিষ্টি শরবতের ব্যাপারে অবশ্যিই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে
গরমে আরও যেসব বিষয়ে নজর দিতে হবে
![]() |
লেখক: পুষ্টিবিদ লিনা আকতার। রাইয়ান হেল্থ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর। |
আরও পড়ুন
বাজারের অভ্যাসই বলে দেবে হৃদযন্ত্র কতটা সুস্থ থাকতে পারে