২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

রোজায় শিশু ও কিশোর কিশোরীদের স্বাস্থ্যকর খাবার

ফল, সবজি বা ডাল দিয়ে তৈরি করা খাবার থেকে মিলবে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ।

রোজায় শিশু ও কিশোর কিশোরীদের স্বাস্থ্যকর খাবার
ছবি: রয়টার্স।

বিডিনিউজ২৪

পুষ্টিবিদ লিনা আকতার

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Mar 2026, 02:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:05 PM

রমজান এলে বড়দের মত শিশুরা রোজা রাখতে খুব আগ্রহ প্রকাশ করে। তবে সমস্যা হচ্ছে অনেক শিশু ও কিশোর কিশোরীরা স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করেন না ছোটবেলা থেকে।

তাই বিকল্প হিসেবে কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার দিলে সকল পুষ্টিচাহিদা পূরন করা সম্ভব। পাশপাশি তারা অনেক খাবার বড়দের মতো খেতেও পারে না। তাই অল্প খাবার খেয়ে সহজেই পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য কয়েকটি খাবারের নাম দেওয়া হল।

হালুয়া

উচ্চ ক্যালরিসমৃদ্ধ ও নানান পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার। হালুয়া বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। এক এক হালুয়াতে যেমন এক এক রকম পুষ্টিগুণ, তেমনি এর স্বাদ ও গন্ধ বেশ বৈচিত্র্যময় যা শিশু, কিশোর-কিশোরীদের জন্য অনেক উপকারী।

যেমন- বুটের হালুয়া উচ্চ ক্যালরি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। কারণ এর সাথে দুধ, বাদাম, ঘি, থাকে। এক টুকরা হালুয়া থেকে ৩২০ ক্যালরি পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি মিলবে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন।  

আবার গাজরের হালুয়া খেলে দৃষ্টিশক্তি উন্নত হবে। কারণ এই সবজিতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি এবং ই।

এছাড়া খেজুরের হালুয়া খেলে হাড় মজবুত ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে কাজ করবে। কাজু ও কাঠবাদামের হালুয়া ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দূর করবে। কাঁচা পেঁপের হালুয়া ত্বক সুন্দর ও পেট পরিষ্কার রাখবে।

তবে এসব হালুয়া তৈরি করতে কোনো কৃত্রিম উপাদান না ব্যবহার করাই ভালো।

পুডিং

সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। কারণ এতে দুধ ও ডিম থাকে যা থেকে মিলে প্রথম শ্রেণীর প্রোটিন। এছাড়া পাওয়া যায় ভিটামিন ও খনিজ।

যেসব শিশু, কিশোর-কিশোরী লাদাভাবে ডিম ও দুধ খায় না তাদের জন্য পুডিং একটি আদর্শ খাবার।

ফ্রুট কাস্টার্ড

এই খাবার তৈরি করতে লাগে বাদাম, দুধ, কাস্টার্ড পাউডার ও ফল। এসবগুলোই শিশুর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার।

এটি বানানো যেমন সহজ তেমনি সুস্বাদু। যেসব শিশু ফল খেতে চায় না তাদেরকে বিভিন্ন প্রকারের রঙিন ফল অল্প করে দিয়ে পরিবেশন করলে সহজেই পেয়ে যাবে ভিটামিনস ও খনিজ।

মিল্কশেইক

বিভিন্ন প্রকারের মিল্কশেইক বানানো যায়- যেমন ব্যানানা-মিল্কশেইক, ফ্রুট-মিল্কশেইক, চকলেট মিল্কশেইক, প্রোটিন মিল্কশেইক ইত্যাদি।

এসবের প্রতিটি থেকে আলাদা পুষ্টিগুণ পাওয়া সম্ভব।

প্রতিদিন নিয়ম করে এক গ্লাস মিল্কশেইক গ্রহণ করলে রোজায় শরীর পানিশূন্যতায় ভুগবে না।

নিয়মিত কলার মিল্কশেইক পানে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দূর হবে।

তবে অবশ্যই চিনি ছাড়া বাসায় তৈরি করা খাবার খাওয়া ভালো। তাজা ফল থেকে মিল্কশেইক তৈরি করলে হবে স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবার।

সবজি খিচুড়ি

যেসব শিশু সবজি খেতে চায় না তাদের জন্য সবজি খিচুড়ি একটি আদর্শ খাবার এই রমজানে। এতে যোগ করা বিভিন্ন সবজি থেকে নানান পুষ্টি উপাদান পেয়ে যাবে সহজেই। মিলবে ক্যালরি, প্রোটিন ও আঁশ- যা একটি সুষম খাবারও বটে।

লেখক পরিচিতি: পুষ্টিবিদ- রাইয়ান হেল্থ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।

আরও পড়ুন

উচ্চতা বাড়াতে শিশুকে যেসব খাবার দিতে পারেন

শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় খাবার

যেসব খাবার শিশুর ওপর বাজে প্রভাব ফেলে