Published : 07 Jun 2026, 04:51 PM
রান্নাঘরে আধুনিক যন্ত্র হিসেবে কাচের চুলার ব্যবহার দেখা যায়। এই চুলা দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি রান্নার পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও তুলনামূলক সহজ।
তবে চুলা ব্যবহারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, এর পৃষ্ঠে বা কাচের ওপরের অংশে আঁচড় পড়তে না দেওয়া। বিশেষ করে পরিষ্কারের সময়ে বিষয়টি বেশি খেয়াল রাখতে হয়।
অনেকের ধারণা শক্তভাবে ঘষে পরিষ্কার করলেই বুঝি ময়লা দূর হবে। তবে এই অভ্যাস কাচের চুলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক রিনাত ফৌজিয়ার মতে, “কাচের চুলার অধিকাংশ আঁচড় তৈরি হয় ভুল পরিষ্কার পদ্ধতি, অনুপযুক্ত উপকরণ এবং তাড়াহুড়ো করে কাজ করার কারণে।”
আঁচড়ের প্রধান কারণ কোথায়?
পরিষ্কার করার তরল নয় বরং ধাতব ঘষুনি, শক্ত স্ক্রাবার, ভুলভাবে ব্যবহৃত ব্লেড কিংবা পৃষ্ঠে বা কাচের ওপরে পড়ে থাকা ছোট ছোট খাবারের কণা কাচের চুলায় আঁচড় পড়তে পারে।
রিনাত ফৌজিয়া বলেন, “শুকনো অবস্থায় পোড়া ময়লা জোরে ঘষার সময় কাচের ওপর অতিরিক্ত ঘর্ষণ তৈরি হয়। এমনকি ক্ষুদ্র একটি পোড়া খাবারের টুকরাও কাচের ওপর দাগ ফেলে দিতে পারে। তাই পরিষ্কার শুরু করার আগে পৃষ্ঠে থাকা কণা সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
যেসব উপকরণ ব্যবহার করা উচিত নয়
কাচের চুলা পরিষ্কার করতে গিয়ে ধাতব ঘষুনি, শক্ত স্ক্রাবার, ক্ষয়কারী গুঁড়া বা তীব্র রাসায়নিক ব্যবহার করা একেবারেই উচিত না।
এই বিশেষজ্ঞর মতে, “এগুলো কাচের স্বচ্ছতা নষ্ট করে। আর স্থায়ী দাগও তৈরি করতে পারে।”
এছাড়া অনেক পরিষ্কারক গুঁড়াতে এমন খনিজ উপাদান থাকে যা কাচের ওপর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষয়ও তৈরি করে। আবার কিছু পরিষ্কারক দীর্ঘমেয়াদে কাচের রং পরিবর্তন করে ঘোলাটে ভাব আনে।
পরিষ্কারের আগে ধৈর্য
কাচের চুলা পরিষ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল, সেটিকে পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দেওয়া। অনেকেই রান্নার পরপরই পরিষ্কার করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। তবে গরম অবস্থায় পরিষ্কারক দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং পরিষ্কার করার ফলাফলও ভালো হয় না।
গরম পৃষ্ঠে কাজ করলে বড় ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া গরম চুলায় ঠান্ডা পানি পড়লে চুলার কাচ ফেটে টুকরো হয়ে যেতে পারে।
“তাই পরিষ্কার শুরুর আগে চুলা সম্পূর্ণ ঠান্ডা হয়েছে কি-না, তা নিশ্চিত করা উচিত”, বলেন রিনাত ফৌজিয়া।
প্রথমেই খাবারের কণা সরানো
পরিষ্কারের আগে নরম কাপড় বা টিস্যু দিয়ে পৃষ্ঠে থাকা খাবারের কণা, লবণ বা পোড়া অংশ আলতোভাবে সরিয়ে ফেলতে হবে।
এই ধাপ এড়িয়ে গেলে পরিষ্কারের সময় সেই কণাগুলো কাপড়ের সঙ্গে ঘষা খেয়ে কাচে আঁচড় ফেলতে পারে।
অনেক সময় সরাসরি কাপড় দিয়ে মোছা শুরু হয়ে যায়। এতে ক্ষুদ্র লবণের দানা বা শক্ত খাবারের টুকরো কাচের ওপর টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যা দাগ পড়ার অন্যতম কারণ।
পোড়া ময়লা নরম করা
পোড়া বা জমে থাকা তেল-ময়লা জোরে ঘষে তোলার চেষ্টা না করে আগে নরম করা প্রয়োজন। এজন্য কাচের চুলার উপযোগী ক্রিম-ধর্মী পরিষ্কারক ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই ধরনের পরিষ্কারক, চর্বি ও ময়লা আলগা করে দেয়। কাচের উজ্জ্বলতাও বজায় রাখে। বিভিন্ন সুপারশপ ও অনলাইনে চুলা পরিষ্কারের ক্রিম ও তরল পরিষ্কারক মিলবে।
ময়লা বেশি হলে পরিষ্কারক লাগিয়ে, এর ওপর গরম পানিতে ভেজানো কাপড় কয়েক মিনিট রেখে দেওয়া যেতে পারে।
এই বিশেষজ্ঞর পরামর্শ দেন, “তেল ও ময়লা ভাঙতে সাহায্য করে খাবার সোডা। আবার এতটাই কোমল যে কাচে আঁচড়ও ফেলে না। ভেজা কাপড়ে কয়েক ফোঁটা বাসন ধোয়ার তরল ও খাবার সোডা মিশিয়ে জমাট তেল-চর্বির ওপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিলে, শক্ত ময়লাও সহজে নরম হয়ে যায়।”
ধীরে ধীরে মোছা
ময়লা নরম হয়ে গেলে নরম তন্তুযুক্ত কাপড় দিয়ে আলতোভাবে গোলাকার ভঙ্গিতে মুছতে হবে। অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা কোনভাবেই উচিত হবে না। কারণ জোরে ঘষা মানেই বেশি পরিষ্কার হওয়া নয়, বরং কাচের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ানো।
পরিষ্কার শেষে শুকনো ও পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিলে কাচে দাগ বা রেখা পড়ে না। আর স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।
আবার সামান্য সাদা ভিনেগার ব্যবহার করেও বাড়তি চকচকে ভাব আনা যায়।
আরও পড়ুন