Published : 08 Jul 2026, 02:24 PM
রেললাইনে পানি ওঠা ঠেকাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের ৪৭ কিলোমিটার অংশ ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা সরকারের আছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
বুধবার দুপুরে নগরীর ষোলশহর শমসের পাড়া এলাকায় রেললাইনে জমে থাকা পানি দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, “আমাদের বর্তমান সরকারের ভবিষ্যত চিন্তা হচ্ছে আমরা এই লাইনটাকে আরো ৫ ফুট উঁচা করব। ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়ে আছে, প্রায় ৪৭ কিলোমিটার।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের ষোলশহর শমসের পাড়া অংশ পরিদর্শন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
“এটা যখন উঁচা হয়ে যাবে তখন পানি ৩ ফুট বাড়লেও রেলের আর সমস্যা হবে না চলাচলে। দুদিন যাবৎ যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে তা রেকর্ড সংখ্যক। অনেকে বলে গত ৪৫ বছরেও এত বৃষ্টিপাত চট্টগ্রামে হয়নি। তারপরও ভবিষ্যত পরিকল্পনা হচ্ছে এমন পর্যায়ে রেললাইনের উচ্চতা নিয়ে যাওয়া যাতে ভারি বৃষ্টি হলেও রেল চলাচল বিঘ্নিত না হয়।”
আরেব প্রশ্নে জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এখানে নির্মাণগত কোনো ত্রুটি নেই। ৪৫ বছর আগে এরকম বৃষ্টি হয়েছিল। আমরা এটা রেকর্ড রাখছি, বৃষ্টিতে রেললাইন কি পরিমাণ ডুবে যাচ্ছে। কোথাও দুই ফুট কোথাও তিন ফুট।
“তাই সরকারের সিদ্ধান্ত ৫ ফুট উঁচু করা যাতে ভবিষ্যতে ডুবে না যায়। যদি কোন বিপর্যয় ঘটেও তাহলে রেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।”
দুদিনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথের একাধিক ট্রেনের যাত্রা বাতিল বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, “আমরা যাত্রীদের জন্য রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে চাই। কিন্তু বৃষ্টিতে লাইনে যে পরিমাণ পানি জমেছে তাতে রেল চলাচল করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য এই বিরূপ আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ বন্ধ রেখেছি।”
যাত্রা বাতিল হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা টিকেট কেটে যেতে পারছে না তাদের টিকেটের অর্থ ‘ফেরত দেওয়া হবে’।
মঙ্গলবার ৪২ বছরের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটারের রেকর্ড বৃষ্টিতে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। এই পরিস্থিতির মধ্যে নগরীর ষোলশহর সুন্নিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনে পানি উঠে যায়।
রেললাইনে পানি জমে থাকায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ষোলশহর স্টেশন অতিক্রম করে কিছুদূর এগিয়ে আটকা পড়ে। এরমধ্যে রেললাইনে একটি গাছও ভেঙে পড়ে।
পরে মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে ট্রেনটিকে ষোলশহর স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে ট্রেনটিকে চট্টগ্রাম স্টেশনে আনা হয়। দিনভর যাত্রীদের চরম ভোগান্তির পর মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বুধবার ভোরে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছে। কিন্তু বুধবার সকালেও রেলললাইনের ওই অংশে পানি থাকায় এই ট্রেনটিও আর কক্সবাজারের পথে যেতে পারেনি। পরে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রাও বাতিল করা হয়।
লাইনের পানি সরেনি, সারাদিন আটকা পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রা মধ্যরাত