Published : 09 Jul 2025, 05:11 PM
বাইরের জগতে যেমন বিপদ লুকিয়ে থাকে, তেমনি নিজের ঘরের মধ্যেও অনেক অদৃশ্য বিপদ যা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
অনেক সময় এগুলোর অস্তিত্ব আমরা জানিই না, অথবা জানলেও গুরুত্ব দিই না। অথচ এই গৃহস্থালী বিপদগুলোর প্রভাব স্বাস্থ্য, আর্থিক নিরাপত্তা এবং মানসিক শান্তি— সব কিছুর ওপরেই পড়তে পারে।
ফাঙ্গাস
কোণায় কালচে ছোপ মানে হতে পারে সেটা ‘ফাঙ্গাস’ বা ছত্রাক। এটি শুধুমাত্র দৃষ্টিকটু নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাচারোপ্যাথিক’ চিকিৎসক সাবরিনা সল্ট রিয়েল সিম্পলডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “ছত্রাক শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা বিঘ্নিত করতে পারে। মস্তিষ্ক ঝাপসা ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট এমনকি পরিপাকতন্ত্রের সমস্যাও সৃষ্টি হতে পারে।”
ছত্রাক সাধারণত আর্দ্র, অন্ধকার এবং সঠিক বায়ুচলাচলহীন স্থানে জন্মায়। যেমন— সিঙ্কের নিচে, পানি লিক হওয়া দেয়ালের পেছনে, জানালার ফ্রেমের চারপাশে, বেসমেন্টে কিংবা কার্পেটের নিচে।
এমনকি ওয়াশিং মেশিনের রাবার সিলেও ছত্রাক জন্মাতে পারে যদি নিয়মিত পরিষ্কার না করা হয়।
যদি ছত্রাক শনাক্ত করা যায়, তবে ঘরোয়া উপায়ে তা দূর করা ঝুঁকিপূর্ণ। পেশাদার লোক প্রয়োজন।
পোকামাকড় বা দূষিত কীট পতঙ্গের উপদ্রব
একটা দুটো পোকা দেখা যেতেই পারে। কিন্তু ঘন ঘন ইঁদুর, তেলাপোকা বা ছারপোকার আনাগোনা দেখা দিলে তা শুধুই বিরক্তির বিষয় নয়। এটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করে।
ইঁদুর, তেলাপোকা বা ছারপোকা শুধুমাত্র জ্বালাতন করে না, বরং রোগ ছড়ায় এবং অ্যাজমা বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।
যদি ঘরে বারবার পোকা দেখা যায় এবং ঘরোয়া ফাঁদ বা ওষুধে কাজ না হয়, তবে অবিলম্বে পেশাদার ‘পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিস’ নিতে হবে।
ভাঙা জানালা
শিলাবৃষ্টি বা দুর্ঘটনার কারণে জানালা ভেঙে গেলে সেটা শুধু একটা ছোটখাটো ঝামেলা নয়, বরং বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। খোলা জানালা দিয়ে চোর ঢুকতে পারে, বৃষ্টির পানি বা আর্দ্রতা ভেতরে ঢুকে ছত্রাক গজাতে পারে। আবার ঠিকভাবে বাতাস চলাচল না হওয়াতে ঘরে দূষিত পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
একটা সামান্য ফাটলও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই দেরি না করে মেরামত করা জরুরি।
সীসাযুক্ত রং
পুরানো বাড়ি মানেই ঐতিহ্যবাহী নকশা এবং মজবুত গঠন এই ধারণা অনেকের। তবে এর পাশাপাশি সীসার উপস্থিতিও থাকতে পারে।
১৯৭৮ সালের আগে নির্মিত অধিকাংশ ভবনে সীসাযুক্ত রং ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই রং ধীরে ধীরে খসে গিয়ে বাতাসে মিশে গেলে তা শিশুদের জন্য বিশেষ করে ভয়াবহ হতে পারে। কারণ এটি বুদ্ধি বিকাশে বাধা দেয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে।
পুরানো রংয়ের স্তর ফেটে গেলে এর মাধ্যমে সীসার ধুলা ছড়িয়ে পড়ে। তাই ঘরের রং যদি অনেক পুরানো হয়ে থাকে, তাহলে এটি নতুন করে রং করার যথার্থ সময়।
অ্যাসবেস্টস (অগ্নিনিরোধক খনিজ তন্তু)
এই উপাদান নিজে তেমন ক্ষতিকর নয়, তবে যখন এটি কাটা, ভাঙা বা নড়াচড়া হয়, তখন এর সূক্ষ্ম কণাগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এমনকি ক্যানসারও হতে পারে।
এটি সাধারণত ১৯৮০ সালের আগের বাড়িগুলোর ছাদের 'পপকর্ন টেক্সচার' বা ইনসুলেশনে থাকে।
পুরানো কার্পেট
পুরানো কার্পেট যেমন দেখতে বাজে লাগে, তেমনি এর মাঝে জমে থাকা ধুলা, ‘ডাস্ট মাইট’ এক ধরনের পোকা এবং অ্যালার্জেন বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। অ্যাজমা, চর্মরোগ বা অ্যালার্জি বারবার দেখা দিলে এর পেছনে পুরানো কার্পেট দায়ী হতে পারে।
বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ভাড়া বাসায় কার্পেট পরিবর্তন না হলে সমস্যা বাড়ে। সম্পূর্ণ বদলানো সম্ভব না হলে, অন্তত পেশাদার পরিষ্কারক দিয়ে পরিষ্কার করানো উচিত।
ভূ-সংযোগ ছাড়া সকেট
অনেকেই জানেন না যে, ঘরের বৈদ্যুতিক সকেট ‘গ্রাউন্ডেড’ না হলে এটি বৈদ্যুতিক শক বা যন্ত্রপাতি নষ্টের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে রান্নাঘর বা বাথরুমের মতো পানির সংস্পর্শে থাকা জায়গাগুলোয় এটি ঝুঁকিপূর্ণ।
পুরানো ভবনগুলোতে এমন ‘অগ্রাউন্ডেড’ সকেট বেশি দেখা যায়। এগুলোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহ ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত না হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চিনে নিতে হলে খেয়াল করতে হবে সকেটের মধ্যে ‘টেস্ট’ ও ‘রিসেট’ বাটন আছে কিনা। না থাকলে সেটা ভূ-সংযোগযুক্ত নয়।
আরও পড়ুন