Published : 20 Apr 2026, 06:16 PM
ব্যস্ত জীবনে ওজন নিয়ন্ত্রণ অনেকের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই ডায়েট চার্ট, জিম বা বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন।
তবে সবচেয়ে সহজ, সস্তা এবং সব বয়সের জন্য উপযোগী উপায় হলো প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা।
প্রশ্ন উঠতে পারে— শুধু হাঁটলে কি সত্যিই ওজন কমে। উত্তর হল, ‘হ্যাঁ’।
তবে চাই সঠিক নিয়ম ও অন্যান্য অভ্যাসের সমন্বয়।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “প্রতিদিন ৩০ থেকে ৬০ মিনিট দ্রুতগতিতে হাঁটলে ক্যালরি পোড়ে, মেদ কমে এবং শরীরের মেটাবলিজম বাড়ে। তবে শুধু হাঁটা নয়, সঙ্গে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাপন করলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়।”
প্রতিদিন হাঁটলে শরীরে যা হয়
হাঁটা একটি ‘কার্ডিওভাসকুলার’ ব্যায়াম। এটি শরীরের ক্যালরি খরচ করে, হৃদস্পন্দন বাড়ায় এবং পেশিকে সক্রিয় রাখে।
গড় হিসেবে প্রতিদিন এক কিলোমিটার দ্রুত হাঁটলে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ ক্যালরি খরচ হয়। ১০ হাজার কদম হাঁটলে দিনে ৩০০ থেকে ৪০০ ক্যালরি পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
দীর্ঘদিন নিয়মিত হাঁটলে শরীরের মেদ কমে, পেশি শক্ত হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
তবে শুধু দূরত্ব নয়, হাঁটার গতি ও সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ।
“সাধারণ হাঁটার চেয়ে দ্রুত হাঁটা (ব্রিস্ক ওয়াকিং) বেশি ক্যালরি পোড়ায়। ইন্টারভেল ওয়াকিং (দ্রুত-ধীরে বিরতি দিয়ে হাঁটা) ওজন কমাতে আরও কার্যকর”- বলেন এই চিকিৎসক।
হাঁটা যেভাবে ওজন কমায়
ক্যালরি খরচ: হাঁটার সময় শরীরের পেশি সক্রিয় হয় এবং ক্যালরি পোড়ে।
মেটাবলিজম বৃদ্ধি: নিয়মিত হাঁটা শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়ায়, যা সারাদিন ক্যালরি খরচে সাহায্য করে।
মানসিক চাপ কমায়: হাঁটা ‘স্ট্রেস’ কমায়, ফলে কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে চর্বি জমার হার কমায়।
হৃদযন্ত্র ও হাড়ের স্বাস্থ্য: হাঁটা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং হাড় মজবুত করে।
হাঁটার পরিমাণ
একজন সুস্থ মানুষের জন্য সাধারণ নিয়ম পালন করতে বলা হয়। সেগুলো হল-
হাঁটার সঙ্গে আরও যা করা উচিত
হাঁটার সময় সতর্কতা
ডা. নয়ন বলেন, “প্রতিদিন এক কিলোমিটার হাঁটলেই দ্রুত ওজন কমবে তা কিন্তু নয়। এক মাসে প্রায় ০.১৫ থেকে ০.২৫ কেজি মেদ কমতে পারে। তবে নিয়মিত করলে ধীরে ধীরে ফল পাওয়া যায়।”
হাঁটার সাথে ধৈর্য ধরা এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনা মেদ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন