Published : 09 Feb 2026, 05:11 PM
মানুষ কেন রেগে যায়? কখনও কারও ওপর, কখনও নিজের ওপর, কখনও পরিস্থিতির ওপর— এমনকি কোনো অজানা শূন্যতার কারণেও রাগ উঠতে পারে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “রাগ কেবল একটি আবেগ নয়; এর পেছনে লুকিয়ে থাকে অতীত অভিজ্ঞতা, অসহায়ত্ব, প্রত্যাখ্যান, অপূর্ণতা ও মানসিক প্রতিক্রিয়ার একটি জটিল স্তর।”
যদি রাগের উৎস বোঝা না যায়, চাপা দেওয়া হয় বা ভুল পথে প্রকাশ করা হয়, তাহলে এটি নিজেকে ও অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রাগ এক ধরনের সংকেত— যা বলে দেয়, ‘কোথাও কিছু একটা ঠিক নেই’।
রাগের অন্যতম কারণ ‘আত্মরক্ষা’। কেউ যখন মিথ্যা বলে বা সত্য গোপন করে, তখন নিজেকে প্রতারিত মনে হয়। এই অনুভূতি থেকে রাগ জন্ম নেয় প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া হিসেবে।
অবমূল্যায়ন বা অপূর্ণতার অনুভূতিও রাগের বড় উৎস। যখন কেউ আমাদের চাওয়া-পাওয়া, স্বপ্ন বা অর্জনকে তুচ্ছ করে দেখায়, তখন আত্মপরিচয়ে আঘাত লাগে।
‘আমাকে গুরুত্ব দেয়নি’, ‘আমি যথেষ্ট নই’— এই ধারণা থেকে ক্ষোভ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
প্রতারণা ও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা রাগের আরেকটি বড় কারণ। কেউ যখন মিথ্যা বলে নিজেকে ওপরে তুলতে চায় বা অন্যকে দোষ চাপায়, তখন নিজেকে খেলনার মতো ব্যবহৃত মনে হয়। এই অপমানজনক অনুভূতি থেকে রাগ তীব্র হয়ে ওঠে।
ডা. দিনা আরও বলেন, “ব্যর্থতা, লজ্জা বা দায় এড়ানোর প্রবণতাও রাগের জন্ম দেয়। নিজের ভুল স্বীকার না করে রাগ দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করা অনেকের অভ্যাস। প্রত্যাখ্যান বা অবহেলার অনুভূতিও রাগকে আর্তনাদে পরিণত করে— ‘আমাকে বোঝো’, ‘আমাকে দেখো’।
আকাঙ্ক্ষা ও ঈর্ষাও রাগের উৎস। কারও সাফল্য, জনপ্রিয়তা বা ভালোবাসা যখন গভীর কামনা বা ঈর্ষা জাগায়, তখন হীনমন্যতা থেকে রাগ জন্ম নেয়।
অনেকের ক্ষেত্রে রাগ অভ্যাসগত প্রতিক্রিয়া। যে পরিবেশে বেড়ে ওঠা হয়েছে সেখানে রাগই ছিল সমস্যার একমাত্র প্রতিক্রিয়া। ফলে মিথ্যা, ধোঁকা বা অবহেলায় রাগই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
“রাগ দুর্বলতার চিহ্ন নয়; এটি মানসিক সংকটের জোরালো বহিঃপ্রকাশ”- মন্তব্য করেন এই মনোবিদ।
রাগকে বুঝে নিয়ন্ত্রণ করা ও উপযুক্ত উপায়ে প্রকাশ করা সম্ভব হলে সম্পর্ক বাঁচানো, নিজেকে জানা এবং সংবেদনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। রাগের উৎস বোঝা মানেই নিজেকে বোঝা।
আরও পড়ুন