Published : 12 Oct 2025, 02:54 PM
শরতের শেষের দিকে আবহাও জানিয়ে দেয় শীতকাল আসছে। তাই এবার শখের গাছগুলোর দিকে যত্নের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
প্রকৃত গাছপ্রেমীরা জানেন, শীতের প্রস্তুতি যদি এ সময় থেকেই শুরু করা যায়, তাহলে গাছপালা ঠাণ্ডায় নষ্ট না হয়ে বরং আরও শক্ত হয়ে উঠবে।
আবহাওয়ার খবর রাখা
প্রথমেই সবচেয়ে সহজ তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আবহাওয়ার খোঁজ রাখা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাগান বিশেষজ্ঞ ক্রিসি হ্যান্ডলি রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “আবহাওয়া ও তাপমাত্রা অনুযায়ী গাছের যত্নের ধরন ঠিক করতে হয়। হঠাৎ বৃষ্টির খবর আগে থেকে না জানলে গাছের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।”
তাই প্রতিদিনের আবহাওয়া সম্পর্কে খবর থাকলে কখন গাছ ঢেকে রাখতে হবে, কখন পানি দেওয়া বন্ধ করতে হবে, বা কখন ফল ও সবজি তোলার সময় বোঝা যাবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা মানে গাছ আগেই প্রস্তুত।
গাছকে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করা
রাতের শেষ অংশে শীতের ঠাণ্ডা এখন টের পাওয়া যাচ্ছে। এমন রাতে গাছ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই তাপমাত্রা হ্রাসের আগে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পুরানো চাদর, প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করে গাছ ঢেকে রাখা যেতে পারে।
এগুলো ছোট কাঠামো, যা গাছকে ঠাণ্ডা বাতাস থেকে রক্ষা করে। তবে দিনে সূর্যের আলোয় গাছগুলোকে খুলে দিতে হবে, না হলে ভেতরে গরম ও আর্দ্রতা বেড়ে গাছের ক্ষতি হতে পারে।
মাটির যত্ন
শরতের সময় মাটি শক্তিশালী করা সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজগুলোর একটি।
হ্যান্ডলি বলেন, “গাছগুলো এখন সক্রিয় অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে বিশ্রামে যাবে। তাই মাটির পুষ্টি ও গঠন ভালো রাখতে হবে।”
কম্পোস্ট, পচা পাতা বা গোবর সার মিশিয়ে মাটিকে নতুন করে তৈরি করে ফেলা যায়। এতে মাটিতে থাকা ক্ষয় হওয়া পুষ্টি ফিরবে, গাছের শিকড় মজবুত হবে, আর শীতে গাছ টিকে থাকবে শক্তভাবে।
মাচা বা মালচ
মালচ দেওয়া গাছের শিকড়কে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করার সহজ উপায়।
হ্যান্ডলি বলেন, “মালচ মূলত শিকড়কে ঢেকে রাখে, যাতে ঠাণ্ডা মাটি সরাসরি শিকড়ের ক্ষতি না করে।”
মাচা দেওয়া বা আবরণ দেওয়া হল- এমন একটি বাগান পরিচর্যা পদ্ধতি যেখানে গাছের গোড়ার চারপাশে একটি সুরক্ষামূলক স্তর বিছিয়ে দেওয়া হয়।
এই আবরণ হতে পারে শুকনা পাতা, ঘাসের কুচি, খড়, কাঠের গুঁড়া বা ছাই, নারিকেলের ছোবড়া কুচি বা প্রস্তুতকৃত জৈব মালচ, যা অনেক বাগানের দোকানে পাওয়া যায়।
নিজের বড় ছাদবাগান থাকলে সেখানে শুকনা পাতা জমিয়ে রাখা যায় এবং পাতলা করে গাছের গোড়ায় বিছিয়ে দেওয়া ভালো উপায়। এতে গাছ উষ্ণ থাকবে ও মাটির আর্দ্রতাও ঠিক থাকবে।
তবে খেয়াল রাখতে হবে, মালচ যেন গাছের কাণ্ডে লেগে না যায়। এতে পচন ধরতে পারে।
পানি দিন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে
অল্প অল্প করে ঠাণ্ডা বাড়লে অনেকে পানি দেওয়া বন্ধ করে দেন, যা ভুল।
যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন বীজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আউটসাইডপ্রাইড-এর প্রধান ট্রয় হেক বলেন, “নতুন গাছ বা বীজ অঙ্কুরিত হতে গেলে মাটির আর্দ্রতা দরকার। তাই শীত শুরু হওয়ার আগে গাছের শিকড়কে শক্ত করতে নিয়মিত পানি দিতে হবে।”
তবে রাতে নয়, সকালে পানি দেওয়া ভালো। এতে গাছ দিনভর পানি শোষণ করতে পারবে এবং রাতে মাটিতে ঠাণ্ডা জমে গাছের ক্ষতি হবে না।
শুকনা পাতা ও আবর্জনা পরিষ্কার
শরতের সময় বাগানে শুকনা পাতা, পচা ফল বা গাছের শুকনা অংশ জমে থাকে। এগুলো ফেলে না দিলে ছত্রাক ও কীটপতঙ্গের বাসা বাঁধে।
হ্যান্ডলি সতর্ক করে বলেন, “আর্দ্র আবহাওয়াতে ছত্রাক দ্রুত বাড়ে, যা ঘাস বা ফুলের জায়গা নষ্ট করে দিতে পারে।”
তাই ছাদবাগান পরিষ্কার রাখতে হবে। পচা গাছ তুলে ফেলা, মৃত শাখা কেটে ফেলা, আর মাটি ঝরঝরে রাখা জরুরি। এতে গাছপালা নতুন করে বাড়ার সুযোগ পাবে এবং শীতের পর বসন্তে বাগান আরও সুন্দর দেখাবে।
সংবেদনশীল গাছ ঘরে তোলা
সব গাছ ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারে না। তুলনামূলক নরম প্রকৃতির গাছ, যেমন- তুলসি, ধনেপাতা বা রোজমেরি এগুলো ঠাণ্ডায় টিকে না।
তাই শীতের আগেই ঘরে এনে রোদেলা জানালার পাশে রাখতে হবে।
আবার অনেকেই সৌন্দর্যবর্ধক গাছ, যেমন- জেরেনিয়াম, বিগোনিয়া, হিবিসকাস বা ম্যান্ডেভিলা পছন্দ করেন, শখ করে বাগানে লাগান।
তবে ঠাণ্ডায় এগুলো টিকে থাকতে পারে না। তাই শীতের আগেই ঘরে এনে নিয়মিত পানি ও আলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এভাবে রাখলে গাছগুলো শুধু টিকে থাকবে না, বরং সারা শীত জুড়েই ফুল ও তাজা পাতা উপহার দেবে।
আরও পড়ুন
ঘরে রাখা যে গাছগুলো দীর্ঘজীবী হয়