Published : 28 Dec 2025, 05:11 PM
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু পেটের মেদ যেন একটুও নড়ছে না? এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই।
খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন, ব্যায়ামও করছেন, তবু ভুঁড়ি অটল। কেন এমন হয়?
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়নের মতে, পেটের মেদ কমাতে শুধু ক্যালরি কমানো যথেষ্ট নয়।
এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারার বিষয়— খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামের ধরন, ঘুম, মানসিক চাপ সবকিছু মিলিয়ে কাজ করতে হয়।
প্রথমত, পেটের মেদ দুই ধরনের: ত্বকের নিচে জমা চর্বি এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গের চারপাশে জমা ‘ভিসেরাল ফ্যাট’।
এই ‘ভিসেরাল ফ্যাট’ স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। কারণ এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
ওজন কমলেও ভুঁড়ি না কমার কারণ হল, ‘ফ্যাট লস স্পট রিডাকশন’ হয় না। অর্থাৎ, শুধু পেটের ব্যায়াম করে পেটের মেদ কমানো সম্ভব নয়। চর্বি সারা শরীর থেকে সমানভাবে কমে।
ডা. আফসানা হক পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেন, “খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। তেল-চর্বিযুক্ত, মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান। লাল চাল, লাল আটা, ওটস, ছাতু – এই ধরনের গোটা শস্য বেছে নিন।”
ব্যায়ামের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ‘সিট-আপ’ বা ‘ক্রাঞ্চ’ করে ভুঁড়ি কমবে না।
“কার্ডিও ব্যায়াম করতে হবে— দৌড়, সাইকেলিং, সাঁতার, দড়িলাফ। এতে হৃদস্পন্দন বাড়ে, সারা শরীরের মেদ কমে”- বলেন এই চিকিৎসক।
ওজন তোলার ব্যায়াম যোগ করুন, যাতে পেশি বাড়ে এবং মেটাবলিজম দ্রুত হয়। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম করুন।
ঘুমের অভাব ভুঁড়ি বাড়ায়। রোজ কমপক্ষে সাত ঘণ্টা ঘুমান। ঘুম কম হলে ‘কর্টিসল’ হরমোন বেড়ে যায়, যা পেটে মেদ জমাতে সাহায্য করে। মানসিক চাপও একই কারণে দায়ী।

চাপে কর্টিসল বাড়ে, ক্ষুধা বাড়ে, মেদ জমে। মন প্রফুল্ল রাখুন, ধ্যান বা যোগ-ব্যায়াম করুন।
ধূমপান করলে ত্যাগ করুন, কারণ এটি খারাপ চর্বি বাড়ায়।
ডা. আফসানা হক বলেন, “ধৈর্য ধরুন। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অবলম্বন করলে ভুঁড়ি ধীরে ধীরে কমবে। ওজনের চেয়ে কোমরের মাপ দেখুন— এটি স্বাস্থ্যের ভালো সূচক। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শুরু করুন, বিশেষ করে যদি অন্য স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে।”
আরও পড়ুন