১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

যেভাবে এসি ব্যবহার করলে বিল কমবে

১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালালে ঘর দ্রুত ঠাণ্ডা হয় বটে, তবে বিদ্যুৎ খরচও বাড়ে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Mar 2026, 04:26 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:08 PM

বাসাবাড়িতে যে কয়টা যন্ত্রের কারণে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসে, সেগুলোর মধ্যে এসি বা এয়ারকন্ডিশনার আছে।

আর গরমকাল আসার সাথে সাথে এসি’র ব্যবহারও বাড়ে।  

ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রনি হোসেন বলেন, “অনেকেই ভাবেন এসি ১৬-১৮ ডিগ্রিতে রাখলে দ্রুত ঠাণ্ডা হবে। তবে এতে কম্প্রেসর বারবার চালু-বন্ধ হয়, বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায় দ্বিগুণ-তিনগুণ।”

‘হোলসেল ইলেকট্রনিক্স সিটি’র কর্নধার ফয়সাল হোসেন যোগ করেন, “এসির তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রি রাখলে ঘর আরামদায়ক থাকে, শরীরও ভালো থাকে। প্রতি ১ ডিগ্রি কমালে বিদ্যুৎ খরচ পাঁচ থেকে সাত শতাংশ বাড়ে। ফলে এক মাসে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা বিল বেড়ে যেতে পারে।”

ইনভার্টার এসি বেছে নেওয়া

নতুন এসি কিনলে ইনভার্টার প্রযুক্তির নেওয়া যেতে পারে। এতে কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রিত হয়, একবার ঠাণ্ডা হলে কম পাওয়ারে চলে। নন-ইনভার্টারের চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম খায়। দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমে যায়।

দরজা-জানালা বন্ধ, পর্দা টানা

এসি চালু থাকলে দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হবে। ঠাণ্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে গেলে এসিকে বেশি কাজ করতে হয়।

দুপুরের রোদ ঢোকার পথে পুরু পর্দা বা ‘ব্লাইন্ডস’ লাগানো উপকারী। এতে ঘরের তাপমাত্রা চার-পাঁচ ডিগ্রি কম থাকে। ফলে এসি কম চালাতে হয়।

অপ্রয়োজনে চালু  না রাখা

ঘর থেকে বের হলে এসির সুইচ একেবারে বন্ধ রাখাই উচিত। স্ট্যান্ডবাই মোডেও বিদ্যুৎ খরচ হয়।

অন্য যন্ত্র, যেমন- টিভি, চার্জার প্লাগে লাগিয়ে রাখবেন না। ছোট ছোট অভ্যাসে মাসে ২শ’ থেকে ৫শ’ টাকা বাঁচে।

তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রিতে রাখা

ফয়সাল হোসেন বলেন, “২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হল আদর্শ। এতে কম্প্রেসর কম চলে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। ১৮ ডিগ্রিতে রাখলে ঘর দ্রুত ঠাণ্ডা হয় ঠিকই, তবে কম্প্রেসর ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সময় চালু থাকে। ২৫ ডিগ্রিতে রাখলে কম্প্রেসর ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ সময় চলে। ফলে বিল কমে।”

রাতে ঘুমের সময় ২৬-২৭ ডিগ্রি রাখলে আরাম হয়, খরচও কম।

সিলিং ফ্যানের সঙ্গে চালানো

এসি চালু থাকা অবস্থায় সিলিং ফ্যান চালালে ঠাণ্ডা বাতাস নিচে নেমে আসে, ঘর দ্রুত শীতল হয়। এতে এসি কম চলে।

একটা ফ্যান মাসে ৫০ থেকে ৭০ টাকা বিদ্যুৎ খরচ করে। তবে এসির ২০-৩০ শতাংশ কাজ কমিয়ে দেয়। যে কারণে মোট খরচ কমে।

রনি হোসেন বলেন, “ফ্যান ছাড়া এসি চালালে ঘরের ওপরের অংশ ঠাণ্ডা হয়, নিচে গরম থাকে। ফ্যান চালালে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে।”

টাইমার ও স্লিপ মোড ব্যবহার

ঘুমের সময় এসি সারারাত ২৪ ডিগ্রিতে চললে অপচয় হয়। গভীর রাতে ঘর এমনিতেই ঠাণ্ডা হয়।

এমনভাবে টাইমার সেট করতে হবে যাতে দুতিন ঘণ্টা পর বন্ধ হয়ে যায়।

‘স্লিপ মোডে’ তাপমাত্রা ধীরে ধীরে দুয়েক ডিগ্রি বাড়ে। এতে রাতে ৩০ থেকে ৪০ শতংশ বিদ্যুৎ বাঁচে।

নিয়মিত সার্ভিসিং করানো

এসির ফিল্টারে ধুলা জমলে বাতাস চলাচল কমে, কম্প্রেসর বেশি চাপ পায়। বছরে দুবার সার্ভিসিং করানো উচিত।

কয়েল ও ফিল্টার পরিষ্কার, গ্যাস পরীক্ষা— এসব করলে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।

ফয়সাল হোসেন বলেন, “ধুলা জমা এসি ৩০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ খায়।”

বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুধু বিল কমানো নয়— এটা দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলার একটা অংশ।

গরমের এই সময়ে এসি ব্যবহারে সচেতন হলে ঘর আরামদায়ক থাকবে, বিলও কমবে। ছোট পরিবর্তন দিয়ে হবে বড় সাশ্রয়।

আরও পড়ুন

গরমে এসির যত্নে বড় ভুল

এখন যে কারণে এসি সার্ভিসিং করাবেন

‘এসি’তে ঘুমালে যা হয়

এসি ছাড়াও শীতল থাকতে