Published : 13 Jan 2026, 02:10 PM
দিনের কাজ, মানসিক চাপ আর শারীরিক ক্লান্তির মধ্যে অনেক সময় ঘর গুছিয়ে তোলার শক্তি থাকে না। মনে হয়, গুছানো মানেই বড় আয়োজন, দাঁড়িয়ে কাজ করা, ভারী জিনিস সরানো।
তবে ঘর গোছানোর অনেক কাজই বসে বসে করা যায়। আর তাতেই ঘরে ও মনে বড় পরিবর্তন আসে।
মানে ঘরের বিশৃঙ্খলা দূর করার জন্য সব সময় পূর্ণ শক্তির প্রয়োজন হয় না। অনেক অর্থবহ কাজ বসেই করা সম্ভব।
ছোট কাজ, বড় মানসিক স্বস্তি
মানুষ সাধারণত মনে করে ঘর গুছানো মানে পুরো শরীর খাটিয়ে বড়সড় কাজ করা। অথচ সোফায় বসে, বিছানায় হেলান দিয়ে বা আরামকেদারায় বসেও এমন অনেক জায়গা পরিষ্কার করা যায়, যেগুলো প্রতিদিন চোখে পড়ে, কিন্তু অবহেলায় জমে ওঠে।
এই ছোট জায়গাগুলো পরিষ্কার হলে মানসিক ভার হালকা হয়, মনও অনেক শান্ত লাগে।
হাতব্যাগ ও পার্স পরিষ্কার
অনেকেই নিয়মিত দুই-তিনটি হাতব্যাগ বা পার্স ব্যবহার করেন। সময়ের সঙ্গে এগুলো হয়ে ওঠে অপ্রয়োজনীয় কাগজ, পুরানো রসিদ, খালি মোড়ক কিংবা হারিয়ে যাওয়া ছোটখাটো জিনিসের ভাণ্ডার।
অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “এগুলোই সবচেয়ে সহজে বসে বসে গুছিয়ে নেওয়া যায়। সোফায় বসে ব্যাগ উল্টে সব বের করে দেখা, দরকারি আর অপ্রয়োজনীয় জিনিস আলাদা করা। এই সামান্য কাজই মানসিকভাবে হালকা অনুভূতি দেয়।”
প্রতিদিন ব্যবহৃত জিনিসগুলো ঠিকঠাক থাকলে ব্যস্ত সময়ে খোঁজাখুঁজিও কমে যায়।
বিছানার পাশের টেবিল
বিছানার পাশে রাখা টেবিল অনেক সময় বিশৃঙ্খলার জায়গা হয়ে ওঠে। আধপড়া বই, চার্জার, পুরানো ওষুধ, পানির বোতল- সব মিলিয়ে দিনের শেষে এখানে জিনিস ফেলে রাখা হয়।
এই অন্দর সজ্জারবিদের পরামর্শ, “রাতে ঘুমানোর আগে বিছানায় বসেই এই টেবিলটা একটু গুছিয়ে নেওয়া যায়। কোন জিনিস সত্যিই দরকার, আর কোনটা শুধু জায়গা দখল করে আছে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলেই পরিপাটি করা সহজ হবে। এতে ঘুমানোর পরিবেশ শান্ত হয়, মনও আরাম পায়।”
ড্রয়ার
ড্রয়ার মানেই অনেকের কাছে অজানা ভাণ্ডার। ভেতরে কী আছে, অনেক সময় তা নিজেই ভুলে যেতে হয়।
একটি ড্রয়ার খুলে শান্তভাবে সোফা বা বিছানায় বসে পাঁচ মিনিট সময় দিলেই অনেক কিছু পরিষ্কার করা যায়।
ছোট বাটি বা পুরানো কৌটা ব্যবহার করে টুকিটাকি জিনিস আলাদা রাখা যায়- বলে মত দেন এই গৃহসজ্জাকর।
তবে এর জন্য নতুন কিছু কেনার দরকার নেই। ঘরে থাকা জিনিস দিয়েই কাজ চলে। অনেকের কাছেই আলমারির ড্রয়ার গোছানো মানেই পুরো ঘর একটু বেশি ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠা।
কাগজ জমার জায়গা
প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই দরজার কাছে বা কোনো এক কোণে চিঠিপত্র, বিজ্ঞপ্তি, খরবের কাগজ, কুপন বা অচেনা কাগজ জমে ওঠে। এই জায়গা বসে বসেই গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব।
এখানে রাখা কাগজের যা দরকার নেই সেগুলো আলাদা করলেই ঘরের অংশটি অনেকটা পরিষ্কার দেখায়। ঘরে ঢুকেই চোখে পড়া এই জায়গা পরিষ্কার হলে প্রথম অনুভূতিটাই বদলে যায়।
ডিজিটাল জঞ্জাল পরিষ্কার
শক্তি একেবারেই কম থাকলে ডিজিটাল জিনিস গুছানো ভালো বুদ্ধি।
বিছানায় শুয়ে বা সোফায় বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের ভেতরের অপ্রয়োজনীয় ছবি, স্ক্রিনশট বা পুরানো অপ্রয়োজনীয় বার্তা মুছে ফেলা যায়।
এ যন্ত্রগুলোও ঘরেরই অংশ। তাই এগুলো পরিষ্কার হলে মনে শৃঙ্খলা আসে। পরে প্রয়োজনীয় ছবি বা তথ্য খুঁজে পাওয়া সহজ হয়, সময়ও বাঁচে।
আরও পড়ুন