Published : 19 May 2025, 04:03 PM
দৃষ্টিতে ঝকঝকে পরিষ্কার হলেও অনেক সময় বাসন-কোসন থেকে ভেসে আসে মাছ, মাংস বা গতকালের ভাতের গন্ধ। বারবার ধোয়ার পরেও রয়ে যায় সেই বেঁচে থাকা গন্ধ।
শুধু অস্বস্তির কারণই নয়, অনেক সময় এতে ব্যাক্টেরিয়া জন্ম নেয়, যা স্বাস্থ্য ঝুঁকিরও কারণ হতে পারে।
গন্ধ সৃষ্টিকারী এই ব্যাক্টেরিয়া বা ‘মাইক্রোবস’ বাসনের গায়ে আটকে থাকা খাবারের অংশ বা তেল চিটচিটে আবরণের সঙ্গে লুকিয়ে থাকে। তবে এই সমস্যা সমাধানে ভরসা রাখা যায় ঘরের কিছু সাধারণ উপাদান ও অভ্যাস পরিবর্তনের ওপর।
আবারও ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া
গন্ধের অন্যতম কারণ হচ্ছে সঠিকভাবে পরিষ্কার না করা। গরম পানি ও ভালো মানের ডিটার্জেন্ট বা সাবান ব্যবহার করলে খাবার ও তেলের আস্তরণ সহজেই দূর করা সম্ভব।
রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে ঘর-পরিষ্কার ও দাগ ওঠানোর বিষয়ে বিশ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ম্যারি মার্লো লেভেরেট এই বিষয়ে আরও বলেন, “গরম পানিতে বাসন ডুবিয়ে রেখে পরিষ্কারক বা সাবান দিয়ে পরিষ্কার স্পঞ্জ বা নরম ব্রাশে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে। পরে আবার গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে শুকাতে হবে। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে তবেই সংরক্ষণ করা উচিত।”
ভিনেগার দিয়ে ভেজানো
ডিস্টিল্ড হোয়াইট ভিনেগার ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক কার্যকর উপাদান।
একটি পাত্রে গরম পানি ও ভিনেগার সমান পরিমাণে নিয়ে বাসনগুলো এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে শুকাতে হবে।
“এটি শুধু গন্ধ নয়, দাগ দূর করতেও দারুণ কাজ করে”- বলেন ম্যারি।
বেইকিং সোডা দিয়ে ঘষা
ম্যারি বলেন, “বেইকিং সোডা প্রাকৃতিক ডিওডোরাইজার বা গন্ধনাশক হিসেবে কাজ করে।”
আধা কাপ বেইকিং সোডা ও দুই টেবিল-চামচ পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে একটি নরম ব্রাশ দিয়ে পেস্টটা বাসনের ওপর লাগিয়ে ঘষে নিন।
এক ঘণ্টা পর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি টমেটো, হলুদ বা মসলার দাগ দূর করতেও উপকারী।
দাগ বা গন্ধ অতিরিক্ত হলে যা করবেন
গন্ধ যদি তীব্র হয়, তবে বাসনগুলো সারা রাত ভিনেগারে বা বেইকিং সোডা পেস্টে ভিজিয়ে রাখলে উপকার মিলবে। আর সকালে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই গন্ধ ও দাগ চলে যাবে।
গন্ধ হওয়া প্রতিরোধের উপায়
শুধু ঠিক মতো পরিষ্কার করলেই হবে না। কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
ডিশওয়াশার ও সিঙ্ক পরিষ্কার রাখা: অনেক সময় বাসন থেকে নয়, গন্ধ আসে ডিশওয়াশার কিংবা সিঙ্ক থেকেই। কারণ সেগুলোও ব্যাক্টেরিয়ার আঁতুড়ঘর হতে পারে।
প্রতি তিন মাস অন্তর ডিশওয়াশার পরিষ্কার করতে হবে। ফিল্টার খুলে ভেতরের খাদ্যাংশ ও ময়লা পরিষ্কার একান্ত প্রয়োজন।
সিঙ্ক, ড্রেইন ও আবর্জনা ফেলার জায়গা বা ডাস্টবিন প্রতিদিন ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ব্যবহৃত স্পঞ্জ ও কাপড় নিয়মিত ধুয়ে নিন এবং দুয়েক সপ্তাহ অন্তর নতুন ব্যবহার করা উচিত।
বাসন রাখার আগে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া: বাসন ধোয়ার পর ভেজা অবস্থায় রেখে দিলে ছত্রাক বা ‘মোল্ড’ জন্ম নিতে পারে, যা দুর্গন্ধের অন্যতম উৎস। তাই বাতাসে শুকানোর তাক বা র্যাক ব্যবহার করে পুরোপুরি শুকিয়ে তবেই রাখতে হবে।
গরম পানি ব্যবহার: চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ইনফেকশন কন্ট্রোল টুডে’-এর তথ্য অনুযায়ী, গরম পানি (১২০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে) তেল, চিটচিটে ভাব ও ব্যাক্টেরিয়া দূর করতে কার্যকর।
গিজার বা ওয়াটার হিটারের তাপমাত্রা যথাযথভাবে সেট করা আছে কিনা দেখে নেওয়া উচিত।
ভালো মানের পরিষ্কারক ব্যবহার: যেসব সাবানে ‘সোডিয়াম লরল সালফেট (এসএলএস)’ থাকে, তা গ্রিজ ও তেলকে পানিতে দ্রবণীয় করে তুলতে পারে। এতে গন্ধ কমে যায়।
তাই পরিষ্কারক কেনার সময় লেবেল দেখে নিতে হবে।
কেবিনেট পরিষ্কার: বাসন রাখার জায়গাগুলোও পরিষ্কার রাখা জরুরি। রান্নার ধোঁয়া বা তেলের কণা এসব জায়গায় লেগে গিয়ে বাসনে গন্ধ ছড়াতে পারে। তাই মাসে অন্তত একবার কেবিনেট ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে।
ফাটলযুক্ত বাসন ফেলে দেওয়া: ফাটলযুক্ত প্লাস্টিক বা সিরামিকের বাসনের ভেতরে সহজেই ব্যাক্টেরিয়া জমে থাকে। সেটা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। তাই এমন বাসন দ্রুত বাদ দিতে হবে।
আরও পড়ুন
তোয়ালে নরম ও তুলতুলে রাখার উপায়