Published : 18 May 2025, 04:07 PM
ধুলা— এ যেন ঘরের এমন এক অদৃশ্য শত্রু, যা পরিষ্কার করার পরদিনই আবার হাজির হয়!
হাঁচি, কাশি বা অস্বস্তির জন্য দায়ী এই ধুলা শুধু স্বাস্থ্য নয়, বাসার সৌন্দর্যও নষ্ট করে দেয়।
তবে প্রতিদিন পরিষ্কার করেও যদি ঘরে ধুলা জমে, তাহলে কীভাবে বোঝা যায় বাসা অস্বাভাবিক ধুলাময়, নাকি এটা স্বাভাবিক?
ধুলা আসলে কী?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘মলি মেইড’-এর বিশেষজ্ঞ মার্লা মক রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “ধুলা মানে শুধু মাটি বা বালির কণা নয়। এটি তৈরি হয় ত্বকের মৃতকোষ (মানুষ ও পোষা প্রাণী উভয়ের), চুল, কাপড় বা আসবাবের আঁশ, গাছের পরাগরেণু, ধুলিকণা, এমনকি ধুলাবালির সঙ্গে থাকা ধুলাবাহিত জীবাণু ও বিষ্ঠা থেকেও।”
অন্যদিকে ‘আল্পাইন মেইডস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস উইলাট বলেন, “একেক অঞ্চলের পরিবেশ এবং ঋতু অনুযায়ী ধুলার ধরন ও মাত্রা আলাদা হয়। যেমন- বসন্তকালে পরাগরেণুর পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে ঘরেও ধুলা বেশি জমে। আবার যদি বাড়িতে বেশি মানুষ বা পোষা প্রাণী থাকে, তাহলে ধুলাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে।”
কতটা ধুলা ‘স্বাভাবিক’?
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আগে বুঝতে হবে— ধুলার পরিমাণ বাড়ছে কি-না!
উইলাট বলেন, “সাধারণভাবে একটি গড়পড়তা ঘরে সপ্তাহের ব্যবধানে হালকা পরিমাণে ধুলা জমে। এটি স্বাভাবিক।”
তবে প্রতিদিন পরিষ্কার করার পরও ধুলা দুয়েক দিনের মধ্যে আবার স্পষ্ট দেখা যায়, তাহলে সেটি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
মক বলেন, “ধুলা যদি ভারী স্তরে জমে থাকে, বাতাসে চোখে দেখা যায় এমন ধুলিকণা ভেসে বেড়ায় বা নিয়মিত পরিষ্কারের পরও ধুলা জমতে থাকে, তাহলে সেটা অস্বাভাবিক।”
কীভাবে বুঝবেন নিজের ঘরে ধুলা বেশি?
উইলাট একটি সহজ পদ্ধতি বলে দিয়েছেন। আর সেটা হল ‘ফিঙ্গার সুইপ টেস্ট’ বা আঙুল পরখ করার পদ্ধতি।
একটি সমতল ও মসৃণ জায়গায় (যেমন— ড্রেসার, টিভি স্ট্যান্ড) আঙুল বুলিয়ে দেখতে হবে। দুয়েকদিন পর আবার দেখতে হবে সেই জায়গায় ধুলা স্পষ্টভাবে জমেছে কি-না।
আরেকটি কৌশল হল ‘হোয়াইট ক্লথ টেস্ট’ বা সাদা কাপড় পরীক্ষা।
উইলাট বলেন, “বইয়ের তাক বা জানালার সেলফে একটি সাদা কাপড় সাত থেকে ১০ দিন রেখে দিন। যদি কাপড়ে স্পষ্ট ধুলা জমে থাকে, তাহলে বুঝবেন এয়ার ফিল্টারেশন সিস্টেম বা পরিষ্কারের রুটিনে পরিবর্তন আনা দরকার।”
ধুলা কমানোর কার্যকর উপায়
ঘরে যদি নিয়মিত অতিরিক্ত ধুলা জমে, তাহলে নিচের কার্যকর পরামর্শগুলো মেনে চলা উচিত।
ওপর থেকে নিচে পরিষ্কার: উইলাট বলেন, “ধুলা পরিষ্কারের সময় সবসময় ওপরের অংশ থেকে নিচের দিকে কাজ করতে হবে। এতে ধুলা নিচে পড়ে। আর শেষে নিচের অংশ পরিষ্কার করলে সবই চলে যাবে।”
মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার: মক পরামর্শ দেন- মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করার।
তিনি বলেন, “এই কাপড় ধুলা আটকে রাখে। আর ধুলা ছড়িয়ে পড়তে দেয় না। হালকা ভেজা অবস্থায় মাইক্রোফাইবার কাপড় সবচেয়ে কার্যকর।”
যে ঘরগুলোতে চলাচল বেশি, সেখানে বেশি পরিষ্কার: হলওয়ে, রান্নাঘর বা শিশুদের খেলার ঘর— এই জায়গাগুলোতে নিয়মিত ধুলা জমে।
মক বলেন, “এইসব ঘর সপ্তাহে অন্তত একবার ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত।”
কার্পেট নিয়মিত ভ্যাকুয়াম করা: উইলাট বলেন, “কার্পেট ধুলা জমার অন্যতম উৎস। তাই সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার ভ্যাকুয়াম করা উচিত।”
যদি ভ্যাকুয়াম না থাকে তবে হালকা পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে মুছে ওপরের বাড়তি ময়লা পরিষ্কার করা যায়।
ঝাড়ু দিয়ে ঝাড়া ঠিক পদ্ধতি নয়। বরং এতে কার্পেটের সমস্ত ধুলা ঘরে জমে যাবে।
এইচভিএসি ফিল্টার পরিষ্কার: বাতাস পরিশোধনের জন্য যদি ফিল্টার থাকে এবং ব্যবহৃত এই ফিল্টার যদি পরিষ্কার না থাকে, তাহলে ঘরে ধুলা বাড়বে।
উইলাট বলেন, “প্রতি ৯০ দিন পরপর ফিল্টার পরিবর্তন করতে হবে। এতে ঘরের বাতাসের গুণগত মান উন্নত হবে।”
এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার: এটি ঘরের বাতাস থেকে ধুলা ও অন্যান্য অশুদ্ধতা সরাতে সাহায্য করে।
উইলাট বলেন, “এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা, তবে উপকার অনেক বেশি।”
অবহেলিত জায়গাগুলো পরিষ্কার: সিলিং ফ্যান, বিছানার ফ্রেম, শোপিস, ছবি কিংবা পর্দার ওপর ধুলা জমে। তবে এগুলো প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়।
উইলাট বলেন, “সপ্তাহে অন্তত একবার এসব জায়গা পরিষ্কার করা উচিত।”
আরও পড়ুন
পরিষ্কার করতে যেসব পণ্য কেনার প্রয়োজন নেই