Published : 19 Nov 2025, 05:41 PM
মানুষের সার্বিক সুস্থতার ক্ষেত্রে পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হজম শক্তি, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা— সবকিছুর সঙ্গেই এটি জড়িত।
তবে অনেকেই জানেন না, পরিপাকস্বাস্থ্যের এই যাত্রা শুরু হয় মুখ থেকে। মুখের ব্যাক্টেরিয়া, দাঁতের পরিচর্যা আর খাদ্যাভ্যাস— সব মিলেই প্রভাব ফেলে উপকার বা অপকারে।
রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত ‘টুথ কেয়ার’য়ের দন্ত-চিকিৎসক এবং ম্যাক্সিলোফেশিয়ল সার্জন মৌসুমি ইকবাল বলছেন, “মুখের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করলে পরিপাকতন্ত্রও সুস্থ থাকে।”
মুখ আর পরিপাকস্বাস্থ্য: এক গভীর সংযোগ
মুখ আর পরিপাকস্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। মুখের যত্ন নেওয়া মানে দাঁত ও মাড়ির পাশাপাশি পরিপাক-স্বাস্থ্যেরও সুরক্ষা।
খাবার মুখে প্রবেশ করার পর প্রথম ধাপেই শুরু হয় ব্যাক্টেরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ।
মুখে থাকে লক্ষ-কোটি জীবাণু— কিছু ক্ষতিকর, কিছু উপকারী। মুখের যত্নে অবহেলা করলে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া বাড়ে এবং সেগুলো ‘গাট’ বা অন্ত্রে পৌঁছে পরিপাকক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
এই দন্ত-চিকিৎসক বলেছেন, “মুখ আর পরিপাক-স্বাস্থ্য দুটির জীবাণুও পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। যখন দুটোই ভারসাম্যে থাকে, শরীরের প্রদাহ কম থাকে। দীর্ঘমেয়াদে যারা পরিপাক-স্বাস্থ্যের প্রদাহে ভোগেন, তাদের মাড়ির প্রদাহও বেশি দেখা যায়।”
অন্যদিকে, মুখের রোগজীবাণু রক্তে ছড়িয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রদাহ তৈরি করতে পারে।
দাঁতের মাড়ির রোগের জীবাণু রক্তে প্রবেশ করে শরীরের অন্যান্য অংশে সমস্যা সৃষ্টি করে।
পেটের অম্লতা বেশিরভাগ জীবাণু নষ্ট করলেও কিছু জীবাণু অন্ত্র পর্যন্ত পৌঁছে গিয়ে পরিপাক-স্বাস্থ্যের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
পরিপাকস্বাস্থ্যে জীবাণু বিশৃঙ্খলা: মুখের জীবাণু অস্থির হয়ে গেলে পরিপাকতন্ত্রেও ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞ মৌসুমি ইকবাল বলেন, “ক্ষতিকর মুখের ব্যাক্টেরিয়া পরিপাকতন্ত্রে স্বাভাবিক অণুজীবকে দুর্বল করে, এমনকি অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে।"
সার্বিক প্রদাহের ঝুঁকি: মাড়ির রোগ, দাঁতে প্লাক— সব মিলিয়ে মুখে প্রদাহ তৈরি হয়। এই প্রদাহ রক্তে ছড়িয়ে পরিপাকতন্ত্রের দেওয়াল দুর্বল করতে পারে। এতে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, এমনকি হজমজনিত সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
খাওয়া ও চিবানোর সমস্যা: দাঁতের ব্যথা, মাড়ির ক্ষত বা দাঁতের ক্ষয় থাকলে সঠিকভাবে চিবানো যায় না। ফলে খাবার পুরোপুরি ভাঙতে না পেরে অন্ত্রে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
এতে হজমের সমস্যা দেখা দেয় এবং অনেকে নরম, প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন, যা অন্ত্রের জন্য আরও ক্ষতিকর।
নিয়মিত দাঁত ব্রাশ ও ফ্লস করা: সকালে ও রাতে দুই মিনিট করে দাঁত ব্রাশ আর প্রতিদিন ফ্লস করা মাড়ির প্রদাহ কমাতে সবচেয়ে কার্যকর।
নরম ব্রাশ ও ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করলে ফল আরও ভালো।
পর্যাপ্ত পানি পান: পানি শরীরের জীবাণু-সমাজকে ভারসাম্য রাখতে সহায়তা করে।
শরীরে পানি কমে গেলে মুখ শুকিয়ে যায়, এতে উপকারী ব্যাক্টেরিয়া কমে এবং ক্ষতিকর জীবাণু বাড়ে।
আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া: খাদ্যের আঁশ ভালো ব্যাক্টেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়। ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসও জীবাণু ভারসাম্য রক্ষায় জরুরি।
নিয়মিত দাঁতের চিকিৎসা নেওয়া: ব্যথা না থাকলেও নিয়মিত দাঁত পরীক্ষা করা জরুরি। মুখের অসুখ প্রথম থেকেই ধরা পড়লে শরীরের অন্যান্য অংশও সুস্থ থাকে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে দাঁতের সমস্যা আরও দ্রুত বাড়তে পারে, তাই নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন