Published : 14 Sep 2022, 04:46 PM
ঘুমের সমস্যা হলে ত্বকে প্রভাব পড়বেই। আর ঘুম কম হওয়ার একটা কারণ হতে পারে ক্যাফেইন।
ক্যাফেইন গ্রহণের উপকারিতা বা অপকারিতা নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্যাফেইন দেহের মতো ত্বকের জন্যও উপকারী। আবার মাত্রাতিরিক্ত গ্রহণে ঘুমের সমস্যা হয়। যা থেকে হতে পারে নানান জটিলতা ও ত্বকের সমস্যা।
ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক’য়ের ত্বক বিশেষজ্ঞ ও ‘ডা. ডেনিস গ্রস স্কিনকেয়ার’য়ের প্রতিষ্ঠাতা ডেনিস গ্রস বলেন, “দৈনিক এক কাপ (১২ আউন্স) কফি পান ত্বকে কোনো ক্ষতি করে না। তবে অতিরিক্ত কফি পান নেতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে।”
ত্বকের জন্য ক্যাফেইনের ক্ষতিকারক দিক
পানি শূন্যতা সৃষ্টি: ডা. গ্রস মনে করেন, “ক্যাফেইন মূত্র বর্ধক। এ জন্য দেহে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে। আর দেহ পানি শূন্য হলে ত্বক হয়ে পড়ে নির্জীব ও মলিন।”
নিউ ইয়র্ক’য়ের পুষ্টিবিদ মেলিসা রিফকিন বলেন, “ক্যাফেইন গ্রহণ মানে সারাদিন দেহে পানি শূন্যতা সৃষ্টি। তাই এই ঘাটতি কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত।”
দেহে পানিশূন্যতা রয়েছে কি-না তা বোঝার উপায় হল মূত্রের রং বিবেচনা করা। যদি তা হালকা হলুদাভ বর্ণের হয়ে থাকে তবে বুঝতে হবে দেহে পানির ঘাটতি রয়েছে। তখন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
ঘুমে ব্যঘাত সৃষ্টি ও চেহারায় ক্লান্তিভাব: দুপুরের পরে ক্যাফেইন গ্রহণ ঘুম চক্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ডা. গ্রস বলেন, “বেলা চারটার পরে ক্যাফেইন গ্রহণ রাতের ঘুমকে এক ঘন্টার বেশি বিলম্বিত করতে পারে।”
এর ফলে অনিদ্রা, নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। যা মানসিক চাপ বৃদ্ধি, স্নায়ুবিক কার্যকারিতা হ্রাস, চোখের চারপাশে কালো দাগ এবং ফোলাভাব দেখা দেয়।
দেখা দিতে পারে রোজেইশা: সবার দেহে ক্যাফেইনের প্রভাব এক রকম নয়। অনেকেই ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল হতে পারে।
ডা. গ্রস বলেন, “ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা ‘রোজেইশা’ বা চামড়ার সমস্যা সৃষ্টি করে। এর ফলে ফোলাভাব, লালচে ভাব ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।”
মানসিক চাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে ত্বক তৈলাক্ত ও মলিন করে: ডা. গ্রসের মতে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ কর্টিসোল ও অ্যাড্রিনালিন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্নায়ুবিক চাপ বাড়ায়।
“ক্যাফেইন অতিরিক্ত গ্রহণ না করা হলেও এটা মানসিক যে পরিবর্তন আনে তা শারীরিক ক্লান্তির মতোই প্রভাব রাখে। দেহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং ত্বক থেকে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। যে কারণে ফোলাভাব, মলিনতা, চোখের চারপাশে কালচেভাব এমনকি তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা সৃষ্টি করে।”
ক্যাফেইন ত্বকের কিছু উপকারও করে থাকে
ক্যাফেইনের ক্ষতিকর দিক থাকার পরেও এর কিছু উপকারিতা রয়েছে।
ডা. গ্রস বলেন, “রূপচর্চায় ব্যবহৃত সামগ্রীতে ক্যাফেইনের ব্যবহার উপকারী। বিশেষত চোখ পরিচর্যার সামগ্রীতে এবং ত্বকের লালচেভাব কমায় এমন প্রসাধনীতে। ফোলাভাব, লালচেভাব ও প্রদাহ কমাতে ক্যাফেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
প্রদাহরোধী উপাদান: “ক্যাফেইনে আছে ‘ভ্যাসোকন্সট্রাক্টর’ বা রক্তনালী সংকুচিত করার ক্ষমতা। তাই ত্বকে সরাসরি ক্যাফেইন ব্যবহার লালচেভাব, ফোলাভাব এবং ত্বকের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে”, বলেন ডা. গ্রস।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ: ডা. গ্রস বলেন, “কফি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। এটা উন্মুক্ত রেডিকেলের কারণে হওয়া ত্বকের ক্ষয় কমাতে সহায়তা করে এবং ভবিষ্যতে হওয়া সম্ভাব্য ক্ষয় থেকে সুরক্ষিত রাখে।”
যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিদ রায়ান অ্যান্ড্রোর মতে, “অন্যান্য খাবারের মতো ক্যাফেইন-ও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন প্রভাব রাখে। এই প্রভাব কারও ক্ষেত্রে ধীর আবার কারও ক্ষেত্রে দ্রুত। কারও ক্যাফেইন বিপাক করার ক্ষমতা দ্রুত, কারও বা ধীর। তাই ত্বকে এর প্রভাবও পড়ে ভিন্নভাবে।”
তাই ক্যাফেইন গ্রহণের সঙ্গে ত্বকের সম্পর্কে কেমন তা ব্যক্তিভেদে বিবেচ্য।
আরও পড়ুন
অতিরিক্ত ক্যাফেইনের শারীরিক ইঙ্গিত