ইস্ট্রোজেন হরমোন নারীদের হৃদয় সুরক্ষা দিতে পারলেও হৃদরোগের ঝুঁকি থেকেই যায়।
Published : 02 Oct 2022, 06:29 PM
নারীদের হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কম। বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল থেকে চিকিৎসকরাও এই বিষয়ে সমর্থন করেন।
এর পেছনের কারণ হিসেবে রয়েছে নারীদের ‘সেক্স হরমোন’ ইস্ট্রোজেন। যা হৃদযন্ত্রের সুরক্ষার স্তর হিসেবে কাজ করে।
এই বিষয়ে ভারতের ফরিদাবাদে অবস্থিত ‘অমৃতা’ হাসপাতালের অধ্যাপক এবং ‘কার্ডিওলজি’ বিভাগের প্রধান ডা. বিবেক চতুর্বেদী বলেন, “নারীদের হার্ট অ্যাটাকের বিরুদ্ধে আপেক্ষিক প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে, আর সেটা মেনোপজের আগে। তবে খুব সাধারণ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের উপস্থিতিতে, হৃদরোগের বিরুদ্ধে এই সুরক্ষা স্তরে ভাটা পড়ে।”
টাইমসঅফ্ইন্ডিয়া ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদেনে তিনি আরও বলেন, “এছাড়াও মেনোপজের পরে, এই সুরক্ষা কমে যায় এবং নারীরাও পুরুষদের মতোই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে থাকেন। আর স্থূলতা আরেকটি উচ্চ ঝুঁকির কারণ।”
ভারতের মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পরামর্শক ও ‘কার্ডিওলজিস্ট সার্ভিসেস’ ডা. অরিন্দম পান্ডে একই প্রতিবেদনে বলেন, “ফুসফুস থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত নারী ও পুরুষের শারীরিক গঠণ এবং শারীরবৃত্তি আলাদা। ‘কার্ডিওভাস্কুলার’ বা হৃদসংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো আলাদা হওয়াতে নারীদের হৃদপিণ্ড ও ধমনী পুরুষের চেয়ে ছোট হয়। আর এই পার্থক্যের কারণে পুরুষদের থেকে নারীদের হৃদরোগ তৈরি হওয়ার পন্থাও আলাদা হয়।”
‘কার্ডিওভাসকুলার’ রোগ (সিভিডিএস) নারীদের তুলনায় কম বয়সে পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হল ঋতুস্রাবের বয়সে উত্পাদিত ইস্ট্রোজেন হরমোন, যা হার্ট অ্যাটাক থেকে রক্ষা করে।
ভারতের ‘ন্যাশনাল হার্ট ইন্সটিটিউট’য়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. ওপি জাদাভা বলেন, “বয়স ৪০ এর নিচে নারী ও পুরুষের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির অনুপাত ১:১০। নারীদের এই ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় বয়স ৪৫ এর পরে। গত ৬০ বছরের পরীক্ষায় দেখা গেছে এক্ষেত্রে পুরুষের ঝুঁকি একই থাকে। ক্ষেত্র বিশেষে কিছুটা বাড়তে পারে।”
ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরল মেনোপোজের পরে বৃদ্ধি পায়। ফলে বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। তবে বংশগত কারণে অনেক নারীর মাঝে কম বয়সেই হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা দেখা দেয়।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ
এ সম্পর্কে ডা. অরিন্দম পান্ডে জানান, হার্ট ফেইল হলে বমিভাব হল সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে। এছাড়াও শ্বাস কষ্ট, ক্রমাগত কাশি, ঘ্রাণসহ সাদা ও গোলাপি কফ সঙ্গে রক্ত, দেহের কোষে বাড়তি পানি জমা- পেট ফুলে যাওয়া, পা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া ও ওজন বৃদ্ধি ঘটতে পারে।
অনেকের ক্ষেত্রে বিক্ষিপ্ত চিন্তা ভাবনা, দ্রুত হৃদগতি যেমন- হৃদস্পন্দন বাড়া, লাফালাফি কিংবা দৌড়াদৌড়ি করার মতো অনুভব হওয়া হল হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ।
হালকাভাবে না নেওয়া
ইস্ট্রোজেন হার্ট অ্যাটাকের বিরুদ্ধে একজন নারীকে যে সুরক্ষা দেয়। তারপরও একজন নারী অবশ্যই নিজেকে ‘হার্ট অ্যাটাক’ প্রতিরোধী বলে মনে করা উচিত নয়। নিয়মিত ব্যায়াম না করা, বাইরের খাবার খাওয়া, আদর্শ ওজন বজায় না রাখা ইত্যাদি এই সমস্যা সৃষ্টি করতেই পারে।
চিকিৎসকরা মনে করেন যে, পুরুষের চেয়ে নারীদের নিজেদের বেশি যত্ন নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে যেসব খাবার