২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শিশুর ‘লিকি গাট’ সমস্যার লক্ষণ ও করণীয়

অন্ত্রে তরল শোষণের ক্ষমতা বেড়ে যাওয়াকে ‘লিকি গাট’ বলা হয়। যা থেকে শিশুর নানান সমস্যা দেখা দেয়।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Sep 2026, 07:00 PM

Updated : 26 Sep 2026, 06:44 PM

শিশুর বারবার পেটের সমস্যা ও ত্বকের অ্যালার্জির কারণ হতে পারে ‘লিকি গাট’।  

মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত্র শুধু খাবার হজমই করে না, খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শরীরে শোষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্ত্রের দেয়ালে থাকা কোষগুলোর মধ্যে এক ধরনের বিশেষ সংযোগ থাকে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টাইট জাংশন’ বলা হয়। এগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টি শরীরে প্রবেশ করতে দেয় এবং ক্ষতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান শরীরে শোষিত হতে বাধা তৈরি করে।

কোনও কারণে অন্ত্রের এই প্রাকৃতিক বাধার কার্যকারিতা কমে গেলে অন্ত্রের ‘ভেদ্যতা’ বা তরল শোষণের ক্ষমতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বিষয়টিকে অন্ত্রের অতিরিক্ত ভেদ্যতা বলা হয়, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘লিকি গাট’ নামে পরিচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের সংক্রমণ বা প্রদাহ, দীর্ঘদিনের কোনও পরিপাকতন্ত্রের রোগ, অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত শর্করা গ্রহণ এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে অন্ত্রের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হতে পারে।

অন্ত্রের এই বাধার পরিবর্তনের সঙ্গে শিশুর পেট ফাঁপা, গ্যাস, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হতে পারে। তবে গবেষকদের মতে, অটিজম, এডিএইচডি, বিষণ্ণতা বা উদ্বেগের মতো মানসিক ও স্নায়বিক রোগের সরাসরি কারণ হিসেবে লিকি গাটকে দায়ী করার মতো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

এছাড়া গ্লুটেন, দুধ বা সয়া- সব শিশুর জন্য ক্ষতিকর, এমন ধারণাও সঠিক নয়।

চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ছাড়া শিশুর খাদ্যতালিকা থেকে দুগ্ধজাত পণ্য এবং গ্লুটেন বাদ দিলে, পুষ্টির মারাত্মক ঘাটতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুর বয়স অনুযায়ী ওজন বা উচ্চতা না বাড়লে, দীর্ঘস্থায়ী বমি বা ‘রিফ্লাক্স’, একজিমা এবং মলদ্বারের সঙ্গে রক্তক্ষরণ দেখা গেলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শিশুর অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বয়স উপযোগী ও বৈচিত্র্যময় পুষ্টিকর খাবার দেওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত, ঘরে তৈরি সুষম খাবার যেমন— ভাত, রুটি, ডাল, মাছ, ডিম ও শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।

দ্বিতীয়ত, চিপস ও কোমল পানীয়র মতো অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে।

তৃতীয়ত, অন্ত্রের উপকারী জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা বাড়াতে পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার এবং শিশুর বয়স অনুযায়ী নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

সঙ্গে নিজের সিদ্ধান্তে কোনও ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করে এবং শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখলে অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব।

লেখক: পুষ্টিবিদ লিনা আকতার। রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।

পুরানো খবর:

শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন
গরমে নবজাতকের যত্ন নিতে
উচ্চতা বাড়াতে শিশুকে যেসব খাবার দিতে পারেন
প্রথম সন্তানের আগেই প্রস্তুতি নিন