২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

হৃদযন্ত্রের রক্ষাকবজ

বয়স বাড়লেই নয়, কম বয়স থেকেই হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Oct 2022, 05:00 PM

Updated : 24 Oct 2022, 05:00 PM

কিছু নিয়ম মেনে চললে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ‘প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি অ্যান্ড কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন’য়ের প্রধান লেসলি চো বলেন, “৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই হৃদরোগ চিকিৎসাযোগ্য। তবে যে কেউ এই রোগ যে কোনো স্থানেই প্রতিরোধ করতে পারেন।”

ইটদিস নটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “খাবারে লবণ খাওয়া কমিয়ে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখে আর ধূমপান বর্জন করেই হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে ফেলা সম্ভব।”

আর পরিবারে যদি হৃদরোগের ইতিহাস থাকে তারপরও এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখার মাধ্যমে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের কল্যাণে হৃদরোগ থেকে সুরক্ষিত থাকা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘বোর্ড সার্টিফায়েড ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান’ টমি মিচেল বলেন, “সব বয়সেই হৃদযন্ত্রের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত। আর বয়স যত বাড়ে, যত্ন নেওয়ার গুরুত্বও ততই বাড়ে।” 

ছুটির দিনে সতর্ক থাকা: ডা. মিচেল বলেন, উৎসবের সময় বা ছুটির দিনগুলোতে সহনশীল হতে হবে। এই সময় খাদ্যাভ্যাসে প্রচণ্ড অনিয়ম হয়ে যায়। আর সবারই ধারনা এই সময়গুলোতে লাগাম টানাও সম্ভব নয়। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে উৎসবের সময়গুলোতেও খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়।”

শারীরিক পরিশ্রম: ডা. মিচেল বলেন, “হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে ভালো উপায় হলো নিয়মিত শরীরচর্চা। এতে শুধু যে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে তা নয়, সার্বিক সুস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব অনন্য। দিনে আধা ঘণ্টা শরীরচর্চা করতে পারলেই সুস্থ থাকা যায়।”

ধূমপান ছাড়ুন: ডা. মিচেল বলেন, “ধূমপানের অভ্যাস যাদের আছে তারা হৃদযন্ত্রের জন্য সবচাইতে উপকারী যে কাজটি করতে পারেন তা হল ধূমপান ত্যাগ। হৃদরোগের অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো এই ধূমপান।”

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা: উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ বয়ে আনে।

ডা. মিচেল সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ কমিয়ে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।”

তাছাড়া যা মাপা হয় না তা নিয়ন্ত্রণও করা হয় না। তাই নিয়মিত রক্ত চাপ পরীক্ষা করতে হবে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: ডা. মিচেল জোর দেন খাদ্যাভ্যাসের দিকে।

তার ভাষায়, “কী খাওয়া হচ্ছে সেটার একটা বড় প্রভাব থাকবে সার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর। প্রচুর ফল, সবজি, পরিপূর্ণ শষ্য, চর্বিহীন প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি খেতে হবে। তবেই সুস্থ থাকবে হৃদযন্ত্র।”

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: ডা. মিচেল বলেন, “যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের হৃদযন্ত্র ভালো রাখার জন্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।”

প্রধান কাজ হল, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখা। চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়ম মেনে খাওয়া।

শুধু হৃদরোগ নয়, সকল রোগের তীব্রতাকে কয়েক গুন বাড়িয়ে দেয় রক্তে অনিয়ন্ত্রিত শর্করার মাত্রা বা ডায়াবেটিস।

রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই রক্তনালীই অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পুরো শরীরে সরবরাহ করে। তাই রক্তনালীর ক্ষতি হলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গুগুলোও ক্ষতির শিকার হবে।

আরও পড়ুন

পুরানো খবর:

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে যেসব খাবার

পুরানো খবর:

উচ্চ রক্তচাপে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর খাদ্যাভ্যাস

পুরানো খবর:

অতি আওয়াজে হৃদরোগের ঝুঁকি