Published : 07 Jul 2026, 04:49 PM
অভিভাবকদের মধ্যে বাল্যবিয়ের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ছে বলে মনে করেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী জছি মিঞা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবেদ আলী। তার মতে, নানামুখী প্রচারণা ও প্রশাসনের কঠোর ভূমিকার কারণে মানুষের মধ্যে এই সচেতনতা তৈরি হচ্ছে।
হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে শিক্ষক সমাজের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন এই শিক্ষক।
হ্যালো: আপনার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতায় বাল্যবিয়ের কী পরিবর্তন দেখছেন? এটি কি আগের তুলনায় কমেছে, নাকি এখনো একই রকম আছে?
মো. আবেদ আলী: বাল্যবিয়ের হার আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। এখন অভিভাবকরা বেশি সচেতন। পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর নজরদারিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
হ্যালো: কুড়িগ্রামে বাল্যবিয়ের ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। আপনার মতে, এই অঞ্চলে বাল্যবিয়ের পেছনে প্রধান কারণ কী?
মো. আবেদ আলী: এই অঞ্চলে বাল্যবিয়ে অন্যতম কারণ দারিদ্র্য। অভাবের কারণে অসচেতন অভিভাবকরা অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেন।
হ্যালো: কোনো শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে আছে কিনা, তা বোঝার জন্য আপনারা কী ধরনের উপায় অনুসরণ করেন?
মো. আবেদ আলী: আমরা প্রতি মাসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইন-হাউস’ আলোচনা করি। সেখানে তারা নিজেদের সমস্যার কথা জানায়। এভাবে আমরা বুঝতে পারি কেউ বিয়ের ঝুঁকিতে আছে কি না।
হ্যালো: কোনো শিক্ষার্থীর বিয়ের খবর পাওয়ার পর তা বন্ধ করা বা তাকে আবার বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে আপনারা কীভাবে কাজ করেন?
মো. আবেদ আলী: এমন খবর পেলে আমরা প্রথমে অভিভাবকদের বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে বলি। সচেতন করার চেষ্টা করি। তাতেও কাজ না হলে প্রশাসনের সহায়তা নিই। তবে অনেক সময় বাড়ি থেকে দূরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়ে গোপনে বিয়ে করিয়ে দেয়। তখন তা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
হ্যালো: পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে আপনারা কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেন কি?
মো. আবেদ আলী: প্রতিদিন প্রাত্যহিক সমাবেশে আমরা এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করি। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরাও নিয়মিত এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
হ্যালো: বাল্যবিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করতে সমাজ ও সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
মো. আবেদ আলী: আমার মতে, কাজী ও ইমামদের আরও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি কেউ যাতে বয়স বাড়িয়ে জন্মসনদ করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রতিবেদকের বয়স: ১২। জেলা: কুড়িগ্রাম।