Published : 13 May 2026, 06:32 PM
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল মন্তব্য করে এ খাতে আগামী বাজেটে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
গত অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে এই বরাদ্দ ছিল জিডিপির ০.৬৭ শতাংশ।
বুধবার দুপুরে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউদ্দিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছেন। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সমন্বিত ও কার্যকর কাঠামোয় রূপ দিতে সরকার কাজ করছে।”
দেশের সব ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামীতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে জিয়াউদ্দিন হায়দারের ভাষ্য, “হাম-রুবেলা টিকার ক্যাম্পেইন প্রতি চারবছর পর পর হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২১ সালে কোভিডের সময় যে ক্যাম্পেইন হয়েছে, সেটার কাভারেজের তথ্য সঠিক নয়। কারণ তৎকালীন সরকার ডেটা টেম্পারিয়ে ভয়াবহ এক্সপার্ট ছিল।
“পরে ২০২৪ সালে যে ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল, সেটাও হয়নি। তাই আমরা জাতিগতভাবে একটা ডিজাস্টারের মধ্যে পড়েছি।”
স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট হলে প্রতিটি পরিবার মাসে অন্তত একবার স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা পাবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে থাকবে ব্লাড সুগার ও রক্তচাপ পরীক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, গর্ভবতী নারীদের কাউন্সিলিং, পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের শারীরিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ এবং টিকাদান কার্যক্রম।
“প্রতিটি নাগরিককে ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড দেওয়া হবে। রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে তাকে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটে পাঠানো হবে। সেখানে চিকিৎসা সম্ভব না হলে রেফার করা হবে উপজেলা কিংবা টারশিয়ারি পর্যায়ের হাসপাতালে।”
সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “দেশের হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর মূল একটি একটি হল নিউমোনিয়া, আর আরেকটি হল অপুষ্টিতে ভোগা। আমরা দ্রুতই মা ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতে কাজ করব।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৮ জেলার উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ ৩০ উপজেলা ও ১৩ পৌরসভায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপ শুরু হয়। দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।
“ডিজিএইচএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তাই খুব শিগগিরই দেশে হামের সংক্রমণ কমে আসবে।”
যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি, এমনকি নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুরাও যেন ক্যাম্পেইনের আওতায় হাম-রুবেলা টিকা নেয়, তা নিশ্চিত করতে তিনি অভিভাবকদের আহ্বান জানান।
প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “আমরা জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ভেন্টিলেটর এবং আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধির ব্যাপারে কাজ করছি। আশা করি দ্রুতই এসব হাসপাতালে রোগীরা আইসিইউ সেবা পাবে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।