Published : 03 Jul 2026, 10:18 PM
দেশে হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রোগটির প্রতিষেধক বা টিকা পেয়েছে যেই শিশুরা, সেই একই বয়সিদের খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল। অথচ কাগজ-কলমে দুই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিশু সংখ্যায় ব্যবধান ৩৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৩ জন!
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কর্মসূচির তুলনায় হাম-রুবেলা কর্মসূচিতে আসার সংখ্যা প্রায় চার মিলিয়ন কম হলেও সরকারি হিসাবে কী করে টিকার কাভারেজ ১০৩ শতাংশ হলো? তাহলে কি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার ক্ষেত্রে বড়সড় কোনো গলদ রয়েছে?
আবার শিশুদের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ জৈব যৌগ উপাদান ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা। এর মধ্যে হাম কিংবা উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে বাস্তবে কোনো বড় ধরনের সফলতাও নেই।
দুই কর্মসূচিরই শিশুর বয়স ৬ থেকে ৫৯ মাস জানিয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইপিআইয়ের টার্গেট শিশু হয়েছে আন্ডারএস্টিমেড, আর পুষ্টি প্রতিষ্ঠানেরটা (ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচি) হয়েছে ওভার।”

হাম-রুবেলা প্রতিরোধে এবারের জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে মোট এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ হাজার শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্য ঠিক করা হয়। মাস দুয়েক আগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
হামের শুক্রবারের বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এক কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ জন শিশুকে প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ।
এর মধ্যে গত ২৮ জুন সারাদেশে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হয়েছে, যা দুর্গম অঞ্চলে চলেছে আরো চারদিন ধরে।
এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ভিটামিন এ খাওয়ানো হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের (আইপিএনএইচ) পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের টার্গেট ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর। তবে এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।”
এ ক্যাম্পেইনের আগে গত ২৫ জুন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, “জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।”

আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন গত রোববার ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করে বলেন, “সারাদেশের বাচ্চাদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু করেছি; যার মধ্যে ছয় মাস থেকে ১১ মাস বয়সি ৩৫ লাখ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। দুটি মিলে ২ কোটি ৫৫ লাখের বেশি শিশুদের এই ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।”
একদিকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের তথ্যের ভিন্নতা সরকারি পরিসংখ্যানের গ্রহণযোগ্যতাকে ফের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে; অন্যদিকে এর সঙ্গে হামের টিকার বৃহৎ পার্থক্য—সব শিশু আদৌ টিকা পেয়েছে কি না তা নিয়ে তৈরি করেছে সংশয়।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। আর হামের বুলেটিনের পরিসংখ্যান অনুসারে, টিকা নিয়েছে এক কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ জন শিশু। তার মানে আরও অন্তত ৩৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৩ জন শিশু টিকা খাওয়ার উপযোগী।
|
কর্মসূচি |
লক্ষ্যমাত্রা |
পূরণ |
|
ভিটামিন এ |
২,২৬,৬১,৫৬৪ |
২,২৩,৬০,৫০৯ |
|
হাম-রুবেলা টিকা |
১,৮০,১৫,০৬৪ |
১,৮৪,৭৭,৬১৬ |
|
ব্যবধান |
৩৮,৮২,৮৯৩ |
|
গলদ কোথায়?
ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে ঠিক করা হয়েছিল, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, “আমরা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে শিশুদের তথ্য চেয়েছিলাম, তাদের থেকে পাওয়া তথ্য একসঙ্গে করে আমরা ক্যাপসুল খাওয়ানোর শিশুদের সংখ্যা নির্ধারণ করেছি।”
হামের টিকাদানের চেয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানোতে শিশু সংখ্যার তারতম্য নিয়ে তিনি বলেন, “সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কেন্দ্র কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে জানা নাই। আমরা আমাদের পদ্ধতিতে শিশুদের তালিকা করেছি।”

হামের টিকাদান কর্মসূচি এবং ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন কর্মকর্তা-বিশেষজ্ঞ বলেন, মাইক্রোপ্ল্যান করে টিকাদানের যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়, এবার সেটি ঠিক করার মতো ‘পর্যাপ্ত সময় মেলেনি’। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত মাইক্রোপ্ল্যানের জন্য সাধারণত দুই থেকে তিন মাস সময়ের দরকার পড়ে। এবার টিকার ক্যাম্পেইন মে মাসের শুরুতে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ফলে মে মাসের ক্যাম্পেইন শুরু হয় এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ।
একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “ইপিআই জুন মাসের আগে টিকা ক্যাম্পেইনের পক্ষে ছিল না। কিন্তু সরকারি চাপ এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় টিকা দেওয়া শুরু হয়।
হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে সরকার জরুরি ভিত্তিতে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় ছয় থেকে ৫৯ মাস বা অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সিদের টিকা দেওয়া শুরু হয় ৫ এপ্রিল। এরপর ১২ এপ্রিল শুরু হয় চার সিটি করপোরেশন এলাকায়। ২০ এপ্রিল সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার, যা শেষ হয় ২০ মে।
ইপিআই সম্পর্কে ওয়াকিবহাল—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবার পরিস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ের পরিকল্পনা বা ‘মাইক্রোপ্ল্যানের’ জন্য সেভাবে সময় পাওয়া যায়নি। তাই ২০২২ সালের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে টিকার জন্য টার্গেট শিশুর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়।”
তার ভাষ্য, জরুরি ক্যাম্পেইনের জন্য ২ কোটি ১০ লাখের মতো টিকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
“সেই হিসাবে ক্যাম্পেইনে আরো শিশু টিকা পাওয়া কথা।”

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান ২৭ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “টিকাদানের ক্ষেত্রে গ্যাভি মূলত পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুসরণ করে। আর সর্বশেষ পরিসংখ্যানে আমাদের শিশুদের সংখ্যা কিছুটা কম দেখানো হয়েছে। এই একটি কারণে টিকাদান এবং ক্যাপসুল খাওয়ানোর টার্গেট শিশু সংখ্যার বড় ব্যবধান দেখা দিতে পারে।
“দ্বিতীয়ত, ইপিআইয়ের টিকাদানের ক্ষেত্রে এবার খুব ভালোভাবে মাইক্রোপ্ল্যান হয়নি, সেটি আরেকটি কারণ হতে পারে।”
সব শিশুর হামের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, “এটি ছাড়া হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।”
টিকার ‘কাভারেজ’ নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি হিসাবে লক্ষ্যের তুলনায় ১০৩ শতাংশ টিকাদানের তথ্য দেওয়া হলেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণেই যে গলদ আছে তা ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচিতে স্পষ্ট। দেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুর ‘প্রকৃত সংখ্যা’ কত তা জানারও এই মুহূর্তে সুযোগ নেই। তবে ‘প্রকৃত সংখ্যার’ চাইতে ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ শিশুকে টিকা দেওয়ায় এখনো হাম নিয়ন্ত্রণে আসেনি না বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ।
সরকারি হিসাবেই শুক্রবার পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে ৭২৪ জনের প্রাণ গেছে। প্রতিদিনই এ পরিসংখ্যানে নতুন নতুন নাম যোগ হচ্ছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যে সরকারি টিকার ‘কাভারেজ’র তথ্য নিয়ে সন্দিহান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারি যে টার্গেট শিশু—তারা কাভারেজের অংশ হয়েছে। সেখানে দেশের সব শিশু অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে।
“সর্বশেষ ক্যাম্পেইনের আগে পর্যাপ্ত সময় পায়নি, তাই হয়তো মাইক্রোপ্ল্যানে অনেক শিশু বাদ পড়েছে। কিন্তু মহামারী মোকাবিলায় সবাইকে টিকা দেওয়া জরুরি।”
টিকার ‘কাভারেজ’ নিয়ে সংশয় রয়েছে আরেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদেরও।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটি এলাকায় টিকার কাভারেজ যদি ৯৫ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে সেই এলাকায় হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”
সরকারের ১০০ শতাংশের বেশি ‘কাভারেজের’ দাবির বিষয়ে অধ্যাপক বেনজির বলেন, “টিকার কাভারেজ সরকার যা বলছে তা হয়তো সঠিক নয়।
“কারণ শতভাগ টিকা কাভারেজ হলে এত সময় পর অবশ্যই হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসতো, যেটি হয়নি। এটি থেকে বোঝা যায়, টিকার কাভারেজে সমস্যা আছে।”
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের দাবি, টিকার ‘কাভারেজ’ খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি গত ১৮ জুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “বর্তমানে হামের সংক্রমণ, নিশ্চিত হাম রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা আগের চেয়ে কমে গেছে। আর হাম একবারে কমে যাবে না। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আশা করি, জুন মাসের শেষে একেবারে কমে যাবে।”
টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী রোববার বলেন, “এত বড় সংখ্যা ব্যবধানের একটি বিষয় হতে পারে যে, আমাদের দেশের কিছু জায়গায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আওতায় আগেই হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “টিকা কাভারেজে সংখ্যার ভুল হওয়ার কথা নয়। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা আমাদের টার্গেট শিশু সংখ্যা নির্ধারণে সাহায্য করে। তবে বিষয়টা নিয়ে আমরা আরেক বার মিলিয়ে দেখব।”

তবে জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী মনে করেন, এবার ‘আসলেই’ লক্ষ্যমাত্রায় গলদ হয়েছে।
“টিকার কাভারেজ সরকারিভাবে যা দেখানো হচ্ছে, সেটি ঠিক নয়। ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর সংখ্যাই সঠিক। হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ টিকার কাভারেজ প্রয়োজন, তা থেকে আমরা দূরে আছি। এ জন্য হামের সংক্রমণ কমছে না। দ্রুত শিশুদের টিকা দিতে হবে।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শুক্রবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুটারই টার্গেট শিশুর সংখ্যা সঠিক। তবে টিকার গ্রহণের ভীতি থেকে অনেক বাচ্চা টিকা নেয়নি, সে কারণে টিকা ক্যাম্পেইনে শিশুর সংখ্যা কম হয়েছে। আর ক্যাপসুলের ক্ষেত্রে সেটা বেশি হয়েছে।
“তবে আমাদের টিকার ক্যাম্পেইন শেষ হলেও বাদ পড়া শিশুদের এখনো টিকা দেওয়া হচ্ছে৷ আশা করি, বাদ পড়া বড় সংখ্যক শিশুরাও টিকার আওতায় আসবে।”