প্রতিদিন দেওয়া হবে দুই লাখ ডোজ টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের টিকার চালান হাতে পাওয়ার পর প্রতিদিন দুই লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Jan 2021, 09:18 AM
Updated : 19 Jan 2021, 10:24 AM

তিনি বলেছেন, টিকা পাওয়ার পর তা পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মীদের দেওয়া হবে। মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকা কর্মীরাই আগে টিকা পাবেন, ‘ভিভিআইপি’দের জন্য এখানে কোনো অগ্রাধিকার নেই।

ভারত থেকে আসা টিকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশ সরকারিভাবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তিন কোটি ডোজ কিনছে, যার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করছে সরকার।

তার আগেই বুধবার দেশে পৌঁছাবে ২০ লাখ ডোজ টিকা, যা ভারত সরকার উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে পাঠাচ্ছে। সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ডের টিকার এই ২০ লাখ ডোজ সরকারের কেনা তিন কোটি ডোজের অতিরিক্ত।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপহারের টিকা দেশে পৌঁছালে তিনি নিজে বিমানবন্দরে গিয়ে তা গ্রহণ করবেন।

“আমার আশা করছি, আমাদের যে শিডিউল আছে, সে অনুযায়ী আসবে। আগামীকালের একটা শিডিউল আছে, অথবা পরশুদিন আসবে। এটাই সবশেষ খবর। ভারত এই টিকা আমাদের কাছে পৌঁছে দেবে। আমি বিমানবন্দরে গিয়ে টিকা গ্রহণ করব।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশীদ আলম এর আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ভারত থেকে টিকা আসার পর তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিএমএসডি, ইপিআই এবং তেজগাঁও হেলথ কমপ্লেক্সের কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা হবে।

টিকার প্রথম চালান হাতে পাওয়ার পর সব জেলায় একসঙ্গে গণ টিকাদান কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনার কথাও তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন।

“প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের কিছু টিকা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এক সপ্তাহ পর সব জেলায় শুরু করা হবে। এটাই আমাদের পরিকল্পনা।”

সব কিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে মাঠ পর্যায়ে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেজন্য আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকেই অনলাইনে নিবন্ধন শুরু করার কথা ছিল।

এখন ভারতের উপহারের টিকা আগে চলে এলে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসবে কি না জানতে চাইলে জাহিদ মালেক বলেন, টিকা আগে চলে এলে প্রয়োগও আগে হবে।

“যেটা আমাদের ভারত সরকার দিচ্ছে সেটা যদি আগে পেয়ে যাই, তাহলে আমাদের কার্যক্রম কিছুটা আগেই শুরু করব। সারাদেশে পৌঁছুতে কিছুটা সময় লাগবে। সব জায়গায় পৌঁছালে আমরা সারাদেশে এক যোগে কাজ শুরু করব। শুরু হবে ঢাকা থেকে।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায়ে চারটি, উপজেলায় দুটি এবং মেডিকেল কলেজে ছয়টি দল টিকা দেওয়ার কাজ করবে। কয়েকটি দল কাজ করবে বিভিন্ন হাসপাতাল এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।

“প্রায় ২৮ হাজার ভলান্টিয়ার এই কাজে যুক্ত থাকবেন। প্রাথমিকভাবে আমরা ইউনিয়নগুলো বাদ দেব। শুধু জেলা, উপজেলা এবং সিটি করপোরেশন এলাকা হিসাব করে প্রতিদিন আনুমানিক ২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া যাবে।”

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই টিকা নিচ্ছেন- বাংলাদেশে এমন কিছু হবে কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপাতত সে ধরনের ‘চিন্তা নেই’।

“আমরা চিন্তাভাবনা করছি যাদের সবচেয়ে আগে প্রয়োজন, ফ্রন্টলাইনার, তাদের আগে দেব। ডাক্তার, নার্স, পুলিশ… প্রথমে আমরা সাংবাদিকদেরও দেব। যেটা প্ল্যান করা আছে, সেভাবেই হবে। ভিভিআইপি… আমাদের জন্য পুরো দেশের মানুষই ভিভিআইপি, আমরা সেভাবেই দেখি। যাদের প্রয়োজন আগে তাদের আগে দেওয়া হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক