ঢামেক হাসপাতালে দুদক চেয়ারম্যান, দেখলেন ‘অব্যবস্থাপনা’, শুনলেন অভিযোগ
দুদক কর্মকর্তারা রোগীদের শয্যাপাশে যান এবং তাদের চিকিৎসার সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামানসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় তারা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সাধারণ রোগীদের নানাবিধ অভিযোগ ও ভোগান্তির কথা শোনেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দুদকের একটি উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন দুদকের কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এবং সচিব সাইদুর রহমান খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
এ সময় চাঁদপুরের মতলব নালুয়া আশ্রম থেকে আসা এক রোগীর স্বজন তাদের উদ্দেশে বলেন, “এখানে ভালো চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এক দালাল আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যায়। কিন্তু এখন তার কোনও খবর পাচ্ছি না। খুঁজেও পাচ্ছি না। আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। আমার স্বামী একজন সামান্য রিকশাচালক।”
দুদক কর্মকর্তারা তার কথা শোনেন এবং পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগ পরিদর্শন করেন। এ সময় দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনও ছিলেন। দুদক কর্মকর্তারা রোগীদের শয্যাপাশে যান এবং তাদের চিকিৎসার সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন।
সেখানেও রোগীরা দালাল চক্রের হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন। দুদক চেয়ারম্যান রোগীদের অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি সব ধরনের অনিয়ম বন্ধের তাগিদ দেন।
পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান এ কে এম. আসাদুজ্জামান। তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দুদকের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “হাসপাতালে রোগীরা অনেক সুবিধাই পাচ্ছে না। একদম জরাজীর্ণ পরিবেশ দেখলাম হাসপাতালে এসে। সারাদেশের স্বাস্থ্যখাতের প্রায় একই অবস্থা। তবে ঢাকায় যে এইরকম অবস্থা, সারাদেশে তো আরও খারাপ অবস্থা। মেডিকেল থেকে রোগীকে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর সাথে ডাক্তারদের বড় একটা অংশ জড়িত কিনা এটাও খতিয়ে দেখতে হবে।”
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন বলেন, “আগে হাসপাতালে ঠিক মত ওষুধ পাওয়া যেত না। এখন বেশিরভাগ ওষুধ আমরা পাচ্ছি এবং অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছে আগের থেকে। তবে পুরোপুরি উন্নতি করতে কিছুটা সময় লাগবে।
“আপনারা দেখছেন এখানে দুজন চেয়ারম্যান এবং দুই কমিশনার আছেন। তাদের উপস্থিতিতেই আপনারা অব্যবস্থাপনাটা দেখলেন, রোগীদের অভিযোগ দেখলেন। এটা কিন্তু চিরাচরিতভাবে চলে আসছে। আপনারা জানেন এখানে ২৬০০ বেড; প্রতিদিন এখানে আউটডোরে কাছে থেকে দূর থেকে অনেক রোগী আসে।
“আমরা ভালো করি। এখানে রোগীর আধিক্যের জন্য কোন রোগী যদি মিস ম্যানেজ হয়ে চলে যায়, এই ধরনের কোনো খারাপ… আমাদের নাই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সরকারের একটা প্রায়রিটি। আমাদের ডাক্তার, চিকিৎসক, নার্স সব মিলে আমরা আছি। ইনশাল্লাহ আমরা ভবিষ্যতে থাকব। আমরা আশাকরি ভালো কিছু হবে ইনশাল্লাহ।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা শেষে ১.১০ মিনিটের দিকে দুদক চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
