০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

ঢামেকে এনআইসিইউতে জায়গা না পেয়ে অন্য হাসপাতালে, শরীর ঝলসে আশঙ্কাজনক নবজাতক

“বাচ্চাটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক; তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে,” বলেন এক চিকিৎসক।

ঢামেকে এনআইসিইউতে জায়গা না পেয়ে অন্য হাসপাতালে, শরীর ঝলসে আশঙ্কাজনক নবজাতক

শরীর দগ্ধ নবজাতকটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Nov 2026, 11:50 PM

Updated : 08 Nov 2026, 12:13 AM

রাজধানীর চাঁনখারপুলে বেসরকারি রয়েল কেয়ার হাসপাতালের এনআইসিইউয়ের ইনকিউবেটরে এক নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তার স্বজনদের মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

শিশুটির জন্ম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হলেও শুরুতে সেখানে এনআইসিইউ বেড খালি না থাকায় ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

শিশুটিকে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার মুখ, মাথা, পিঠ ও পায়ের অংশ পুড়ে গেছে।

এ হাসপাতালের চিকিৎসক তাজকিয়া হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাচ্চাটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।”

রয়েল কেয়ার হাসপাতালের ‘এনআইসিইউয়ের ইনকিউবেটরে ওভার হিটে’ শিশুর শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও ওই হাসপাতালের ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি অস্বীকার করেছে। শিশুর স্বজনদের মারধরের অভিযোগের বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।

কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটিকে এনআইসিইউতে ভর্তির প্রক্রিয়া চলছিল। তার আগেই তাকে বেডে রাখা হয়। তখন ‘দুর্ঘটনাবশত’ ওই ঘটনা ঘটেছে। ‘শর্ট সার্কিট থেকে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে’ বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

বগুড়ার কাহালু থানার পলি বগুই গ্রামের মো. রাব্বানী তার স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেলের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করান। শনিবার ভোর ৪টার দিকে তার স্ত্রীর ছেলে সন্তান জন্ম হয়।

রাব্বানী বলেন, “জন্মের পরপরই বাচ্চার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা হচ্ছিল। সে কারণে এখানকার (ঢাকা মেডিকেল) চিকিৎসকরা দ্রুত এনআইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতালের এনআইসিইউতে সিট খালি ছিল না। তখন একজন চিকিৎসক বাচ্চাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরে এক ওয়ার্ড বয়ের মাধ্যমে বাচ্চাকে আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে রয়েল কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাই।”

তার অভিযোগ, “রয়েল কেয়ার হাসপাতালে ভাতিজার সঙ্গে কিছু কাগজপত্র ঠিক করতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ সবার চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি আমার বাচ্চা যে মেশিনের মধ্যে ছিল, সেটি দাউদাউ করে জ্বলছে আর শরীরে আগুন লেগে গেছে। পরে সেখানকার স্টাফদের নিয়ে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন।”

শিশুটির বাবার দাবি, “ছেলেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলেও চিকিৎসকরা আবার রয়েল কেয়ার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। তখন আবার সেখানে নিয়ে গেলে এবং ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ওখানকার স্টাফরা আমাকে মারধর করে।

“রয়েল কেয়ার হাসপাতালের এনআইসিইউয়ের ইনকিউবেটর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই আগুন লেগে আমার ফুটফুটে বাচ্চার মাথা, পিঠ ও পায়ের কিছু অংশ পুড়ে ঝলসে যায়।”

এ বিষয়ে রয়েল কেয়ার হাসপাতালের ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভোর পাঁচটার দিকে ওই বাচ্চাকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয় এবং তাকে (এনআইসিইউতে) ভর্তি করার আগেই বেডে রাখা হয়। তার ভর্তির প্রক্রিয়া চলছিল। সেই সময় দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা ধারণা করছি- শর্ট সার্কিট থেকেই দুর্ঘটনার ঘটেছে। এটি নিছক দুর্ঘটনা।”

ওই ঘটনায় নিজেদের গাফিলতি ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগের বিষয়টিও সম্পূর্ণ ভুল। মারধরের বিষয়টি ঘটছে রোগীদের আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে। কারণ সেখানে ভুক্তভোগী বাচ্চা ছাড়াও আরও বাচ্চা ছিল। তাদের স্বজনদের সঙ্গেই কোনো বিষয় নিয়ে মারামারি হয়।”