ছুটছে কে-পপের ঘোড়া

নতুন পরিসংখ্যান বলে দেয় সংগীতের জনপ্রিয়তায় জায়গা হারিয়েছে পশ্চিমা শিল্পীরা।

গ্লিটজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Feb 2024, 09:30 AM
Updated : 23 Feb 2024, 09:30 AM

গেল বছর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে মার্কিন সংগীত শিল্পী টেইলর সুইফটের গানের রেকর্ড। এরপরই আছে দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পীদের অবস্থান।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই ব্যান্ড ‘সেভেনটিন’ ও ‘স্ট্রে কিডস’। এছাড়া সাত নম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘টুমরো এক্স টুগেদার’ এবং কিশোরীদের পপ দল ‘নিউজিন্স’ আছে আট নম্বরে। বিক্রিবাটার এই তালিকায় এক থেকে দশের মধ্যে চারটি অবস্থান গেছে দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্পীদের দখলে। 

এছাড়া, চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন র‌্যাপার ও সঙ্গীতলেখক ড্রেক এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছেন গায়ক ও সঙ্গীতলেখক দ্য উইকেন্ড। এই দুজনই কানাডার।

বিবিসি বলছে, ইউকে টপচার্টের এই চিত্রই বলে দেয় গানের দুনিয়ায় পশ্চিমা শিল্পীদের জায়গা কিছুটা হলেও নড়বড়ে হয়ে উঠেছে।

এই পরিসংখ্যান করেছে রিপ্রেজেন্টিং দ্য রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি ওয়ার্ল্ডওয়াইট-আইএফপিআই নামের যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান।

আইএফপিআই বলছে, কোনো ব্যান্ডই 'ইউকে টপ-৪০' এর রেকর্ড ভাঙতে না পারলেও দক্ষিণ কোরিয়ার গায়ক সাইয়ের গ্যাংনাম স্টাইল বিশ্বজুড়ে সংগীতাঙ্গনের দারুণ সাড়া তৈরির পর শেষ এক যুগে কে-পপের দাপট বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেই কে-পপের বাজার বড় হচ্ছে।

তবে কে-পপের  আলো ছড়ানো শুরু হয় সাত সদস্যের জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএসের হাত ধরে। বিশ্বের শীর্ষ কে-পপ ব্যান্ডে নিজেদের পরিণত করেছে তারা, জন্ম দিয়েছে ‘স্প্রিং ডে’, ‘ডায়নামাইট’, ‘বাটার’ এর মতো গান।

ইতিবাচক বার্তার পাশাপাশি গানের ভিডিওতে তাদের সাবলীল নৃত্য এবং ব্যান্ডের সদস্য আরএম, জিমিন, জাংকুকদের সাধারণ জীবনধারা ও বিভিন্ন ধরনের দাতব্য কাজ অনুপ্রেরণা ছড়ায় চারপাশে।

২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বিটিএস। ২০১৮ সালে বিলবোর্ডের ২০০ অ্যালবামের তালিকার শীর্ষে ওঠে ‘লাভ ইয়োরসেলফ: টিয়ার’। এরপর ২০১৯ সালে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে প্রথম 'কে-পপ' ব্যান্ড হিসেবে পিরিচিতি পায় বিটিএস। এর দুই বছরের মধ্যে তারা গ্র্যামিতে পারফর্ম করে ও রক ব্যান্ড কোল্ডপ্লের সঙ্গেও কাজ শুরু করে।

এর মধ্যে উত্থান হয় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী দল ‘ব্ল্যাকপিংকের’। দারুণ খ্যাতি অর্জন করেন দলের জিসো, জেনি, রোজ আর লিসা নামের চার তরুণী।

২০২২ সালে টাইম সাময়িকীর ‘এন্টারটেইনার অব দ্য ইয়ার’ হয় ‘ব্ল্যাকপিঙ্ক’। বিটিএসের পর দ্বিতীয় কোরীয় ব্যান্ড হিসেবে এ স্বীকৃতি পায় চার তরুণীর এই ব্যান্ড। গত বছর তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কোচেলা উৎসব ও লন্ডনের বিএসটি হাইড পার্কে পারফর্ম করে দর্শকদের মাতিয়ে তোলে।

বিটিএস এবং ব্ল্যাকপিংকদের সাফল্যের পেছনের কারিগর হল ওয়াইজি এবং বিগ হিটের মতো মিউজিক এজেন্সিগুলো। এই প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো কনসার্ট বা অনুষ্ঠান অথবা রেকর্ড তৈরির আগে শিল্পীদের প্রস্তুত করতে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়।

এ বিষয়ে মিউজিক এজেন্সি এসএম ইন্টারটেইনমেন্টের প্রধান ক্রিস লি বলেছিলেন, "যদি আপনি অলিম্পিকে অংশ নিতে চান, তাহলে নিশ্চিতভাবে আপনাকে প্রশিক্ষিত হতে হবে। আমরাও তাই করেছি। একজন শিল্পীকে মিডিয়ার সামনে কথা বলা শেখানো হয়। দর্শক-শ্রোতাদের সঙ্গে কথা বলতে শেখানো হয়। পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিত্ব অর্জন করাও শেখানো হয়।

তবে আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তার পরও বিটিএস এবং ব্ল্যাকপিংকের গত বছরের বিক্রি হওয়া গানগুলো 'আইএফপিআই'র সেরা গানের তালিকায় নেই।

বিটিএস সদস্যরা বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা কার্যক্রমে ব্যস্ত আছে। আর ব্ল্যাকপিঙ্ক মিউজিক এজেন্সি ওয়াইজির সঙ্গে তাদের চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত আছে।

সাড়া ফেলেছে স্ট্রে কিডস

বিটিএস বা ব্ল্যাকপিঙ্ককে ছাড়িয়ে এবার সাড়া ফেলেছে স্ট্রে কিডস। তাদের গান ছুঁয়েছে দর্শক শ্রোতাদের। এই দলে আছেন ফেলিক্স, চ্যাংবিন, লি নো, হান, সিউংমিন, আই এন, ব্যাং চ্যান ও হিউনজিন।

আইএফপিআইর তালিকায় গানের রেকর্ড বিক্রিতে তৃতীয় স্থানে থাকা কে-পপ ব্যান্ড স্ট্রে কিডসের ভাষ্য, তাদের গান গতানুগতিক ধারার বাইরের।

গত বছর স্ট্রে কিডসের দলটির আলোচিত গান ছিল ‘সেভেনটিনথ হ্যাভেন’। মুক্তির আগেই ৫.২ মিলিয়ন গ্রাহক অ্যালবামটির জন্য অর্ডার করে। মুক্তির আগে সবচেয়ে বেশি অর্ডার হওয়া কে-পপের এটিই প্রথম অ্যালবাম।

বিবিসি লিখেছে, স্ট্রিমিংয়ের এই যুগেও বিপুল সংখ্যক সিডি বিক্রি করছে ব্যান্ডগুলো। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে সংগীত বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডিস্কের কাভারে নজরকাড়া চমকপ্রদ সব পোস্টার, স্টিকার বা লিরিক কার্ডের ব্যবহার মানুষকে আকৃষ্ট করছে।

আর তাই সিডি কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন কে-পপ ভক্তরা। তবে এটা ভাবার অবকাশ নেই যে, যাবতীয় সাফল্য রেকর্ড বিক্রির ওপরই নির্ভর করছে।

গত বছরের শেষে রক ব্যান্ড রোলিং স্টোন, ম্যাগাজিন এনএমই ও বিলবোর্ড ম্যাগাজিনসহ অন্যদের করা একাধিক তালিকায় 'বর্ষসেরা' হয়েছে কিশোরীদের কে-পপ দল ‘নিউজিন্সের’ গান ‘সুপারশাই’। এই ব্যান্ডটি আইএফপিআইর তালিকায় আছে আট নম্বরে।

শীর্ষ ২০ শিল্পী

১. টেইলর সুইফট (যুক্তরাষ্ট্র)

২. সেভেনটিন (দক্ষিণ কোরিয়া)

৩. স্ট্রে কিডস (দক্ষিণ কোরিয়া)

৪. ড্রেক (কানাডা)

৫. দ্য উইকেন্ড (কানাডা)

৬. মর্গ্যান ওয়ালেন (যুক্তরাষ্ট্র)

৭. টুমরো এক্স টুগেদার (দক্ষিণ কোরিয়া)

৮. নিউজিন্স (দক্ষিণ কোরিয়া)

৯. ব্যাড বানি (যুক্তরাষ্ট্র/পুয়ের্তো রিকো)

১০. লানা ডেল রে (যুক্তরাষ্ট্র)

১১. এড শির্যারন (যুক্তরাজ্য)

১২. আইভিই (দক্ষিণ কোরিয়া)

১৩. এসজেডএ (যুক্তরাষ্ট্র)

১৪. এমিনেম (যুক্তরাষ্ট্র)

১৫. এনসিটি ড্রিম (দক্ষিণ কোরিয়া)

১৬. জ্যাক ব্রায়ান (যুক্তরাষ্ট্র)

১৭. ট্রাভিস স্কট (যুক্তরাষ্ট্র)

১৮. কানিয়ে ওয়েস্ট (যুক্তরাষ্ট্র)

১৯. পোস্ট ম্যালোনে (যুক্তরাষ্ট্র)

২০. কিং অ্যান্ড প্রিন্স (জাপান)।