Published : 16 Nov 2025, 06:42 PM
ব্যবসায় অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৭ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ করা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরী।
রোববার বিকালে ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৩ এর বিচারক আফরোজা তানিয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তারা।
শুনানি নিয়ে আদালত তাদের জামিনের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন মেহজাবীনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার।
এর আগে ব্যবসায় অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৭ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ করা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগে মেহজাবীন এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে একই আদালত।
মামলার বাদী আমিরুল ইসলাম গত ১০ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করার তথ্য দেন।
তিনি বলেন, সেদিন এ মামলায় আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তারা হাজির হননি। এজন্য আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
আমিরুল ইসলাম গত ২৪ মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেছিলেন।
রোববার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার সংবাদ সংবাদমাধ্যমে আসার পর তা নিয়ে আলোচনার মধ্যে মামলাটি ‘ভিত্তিহীন’ বলে পরে ফেইসবুকে পোস্ট দেন এ অভিনেত্রী।
তিনি বলেন, যে বা যারা মামলাটি করেছেন তাদের তিনি চেনেন না।

পরে সন্ধ্যায় আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মেহজাবীন ও তার ভাই।
আদালতে তাদের পক্ষে জামিনের শুনানি করেন তুহিন হাওলাদার।
শুনানি নিয়ে আদালত তাদের জামিনের আদেশ দিয়েছেন জানিয়ে এ আইনজীবী বলেন, “মেহজাবীন একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। তাকে হয়রানি করার জন্য মামলাটি করেছেন।”
আগামী ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের জবাব দাখিলের দিন ধার্য করার কথা বলেন তিনি।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “আমিরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দিব, কালকে দিবো বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপন করে।
“পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা চাইতে যান তিনি। তাকে ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা বলেন ‘এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না। তোকে বাসার সামনে পুনরায় দেখলে জানে মেরে ফেলব’।”
এসব কথা বলে তারা আমিরুলকে জীবননাশের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মামলার খবর সামনে এলে পরে ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে মেহজাবীন বলেছেন তার বিরুদ্ধে মামলার খবরটি দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।
ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “এই ধরনের কোনো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত নই। যে বা যারা এমন ভিত্তিহীন মামলা করেছেন, তাদের কাউকে আমি চিনি না। যারা আমাকে চেনেন, তারা জানেন আমি কেবল আমার অভিনয় ও পেশাগত দায়িত্বে সর্বদা নিবেদিত। আমি এমন কোনো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নেই, যেখানে আইনি জটিলতায় জড়ানোর প্রশ্ন আসে।”
তিনি বলেন, “একজন শিল্পী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি সবসময় দেশের আইন, নীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ মেনে চলেছি। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে মিডিয়ায় পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছি, যার সাক্ষী আমার দর্শক, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
“আমি আমার সহকর্মী গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করছি, ভিত্তিহীন কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া প্রকাশ করবেন না। এবং আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, ভক্ত ও পরিচিতজনদের বলবো - আপনাদের ভালোবাসা আর আস্থাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সত্যের পাশে থাকুন।”
‘অর্থ আত্মসাৎ এবং হত্যার হুমকি’: অভিনেত্রী মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা