Published : 16 Nov 2025, 05:23 PM
অর্থ ‘আত্মসাৎ করা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগে করা মামলাটি ‘ভিত্তিহীন’ বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, যে বা যারা এই মামলাটি করেছেন তাদের তিনি চেনেন না। ফেইসবুকে এক পোস্ট দিয়ে মামলার বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন মেহজাবীন।
ব্যবসায় অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৭ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ করা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগে মেহজাবীন এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক আফরোজা তানিয়া।
আট মাস আগে এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গত ১০ নভেম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও রোববার মামলার বাদী আমিরুল ইসলাম এ তথ্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের হাতে এসেছে। এরপর মামলার বিষয়ে জানতে মেহজাবীনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পরে ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে মেহজাবীন বলেছেন তার বিরুদ্ধে মামলার খবরটি দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, “আমি মেহজাবীন চৌধুরী। আজ একটি ভূয়া ও মিথ্যা মামলার সংবাদ দেখে আমি বিস্মিত। আমি মনে করি, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছাড়া কিছু নয়। এই ধরনের কোনো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত নই। যে বা যারা এমন ভিত্তিহীন মামলা করেছেন, তাদের কাউকে আমি চিনি না। যারা আমাকে চেনেন, তারা জানেন আমি কেবল আমার অভিনয় ও পেশাগত দায়িত্বে সর্বদা নিবেদিত। আমি এমন কোনো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নেই, যেখানে আইনি জটিলতায় জড়ানোর প্রশ্ন আসে।”
ইতোমধ্যে তার আইনজীবী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলেও জানিয়েছেন মেহজাবীন।
তিনি লিখেছেন, “একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি দেশের আইন, নিয়মনীতি ও সামাজিক দায়িত্বে বিশ্বাসী। ইতোমধ্যে আমার আইনজীবী যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, যাতে এসব গুজব ও মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ হয় এবং ভবিষ্যতে কেউ আর এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু করতে না পারে!”
খবর প্রকাশের আগে যাচাই করে নিতে সংবাদমাধ্যমকর্মীদের কাছে সে অনুরোধ রেখেছেন মেহজাবীন।
তিনি বলেন, “একজন শিল্পী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি সবসময় দেশের আইন, নীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ মেনে চলেছি। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে মিডিয়ায় পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছি, যার সাক্ষী আমার দর্শক, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
“আমি আমার সহকর্মী গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করছি, ভিত্তিহীন কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া প্রকাশ করবেন না। এবং আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, ভক্ত ও পরিচিতজনদের বলবো - আপনাদের ভালোবাসা আর আস্থাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সত্যের পাশে থাকুন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কপিতে দেখা গেছে মামলা নম্বর ১১১/ ২৫ এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তারিখ ১০ নভেম্বর।
আমিরুল বলেন, গত ১০ নভেম্বর মামলার আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ঠিক থাকলেও তারা আসেনি। এজন্য আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ১৮ ডিসেম্বর দিন ঠিক করেছে আদালত।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “আমিরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দিব, কালকে দিবো বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপন করে।
“পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা চাইতে যান তিনি। তাকে ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা বলেন ‘এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না। তোকে বাসার সামনে পুনরায় দেখলে জানে মেরে ফেলব’।”
এসব কথা বলে তারা আমিরুলকে জীবননাশের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেয়।
এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম গত ২৪ মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
‘অর্থ আত্মসাৎ এবং হত্যার হুমকি’: অভিনেত্রী মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা