Published : 03 Jun 2026, 03:00 PM
পর্যটন শহর কক্সবাজারে আবারও বড় পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
‘কক্সবাজার টকিজ’ শিরোনামে ধারাবাহিক আয়োজনের প্রথম পর্বে আগামী ৫ ও ৬ জুন শহরের শহীদ সুভাষ পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে প্রদর্শিত হবে ছয়টি আলোচিত চলচ্চিত্র ও ডকুমেন্টারি।
আয়োজকদের ভাষায়, এটি শুধু চলচ্চিত্র উৎসব নয়; বরং দেশের চলচ্চিত্র ও শিল্পচর্চার ওপর সাম্প্রতিক আক্রমণ এবং সাংস্কৃতিক সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী অবস্থান।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ‘কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটি’র নেতারা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে সিনেমা ও শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। সেই প্রেক্ষাপটে ‘কক্সবাজার টকিজ’ আয়োজনের মাধ্যমে তারা শিল্প ও চলচ্চিত্রচর্চার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন।
কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত বলছিলেন, “আর্ট সবার জন্য। সিনেমা আজকের বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ভাষা।
“মানুষের হাতে থাকা মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসগুলোই প্রমাণ করে, এভরিহোয়্যার ইজ ফিল্ম। তাই নতুন প্রজন্মকে চলচ্চিত্র থেকে দূরে রাখার কোনো সুযোগ নেই।”

তিনি বলেন, “কক্সবাজার দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম বিনোদননগরী হিসেবে পরিচিত। অথচ এখানে এখন কোনো সিনেমা হল নেই। সমুদ্রসৈকত কেন্দ্রিক পর্যটনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনোদনের ক্ষেত্রও সম্প্রসারণ প্রয়োজন। সেই ভাবনা থেকেই মানুষকে আবার সিনেমার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জাহিন ফারুক আমিন বলেন, “কক্সবাজারের মতো প্রাণবন্ত শহরে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সিনেমা হল নেই।
“এক সময় থাকা তিনটি সিনেমা হলও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এখানকার মানুষের জন্য চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। সেই শূন্যতা থেকেই এই উদ্যোগ।”
দুই দিনব্যাপী আয়োজনে ৫ জুন বিকাল ৩টায় উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’। এরপর প্রদর্শিত হবে শাহীন দিল-রিয়াজ নির্মিত ডকুফিকশন ‘দ্য প্রজেকশনিস্ট’। সন্ধ্যা ৭টায় থাকবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’।
৬ জুন বিকাল ৩টায় দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে দেখানো হবে ধ্রুব হাসান পরিচালিত ‘ফাতিমা’। ইরানের ফজর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ক্রিস্টাল সিমোর্গ পুরস্কারপ্রাপ্ত এ চলচ্চিত্র মুক্তিযুদ্ধকে সমকালীন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার একটি প্রয়াস। এরপর প্রদর্শিত হবে ফজলে রাব্বি নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘তাদাত্ম অন্বেষ্ণণঃ দ্যা ইন্টার্নাল জার্নি’।
দুই দিনের আয়োজনের সমাপনী প্রদর্শনী হিসেবে ৬ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দেখানো হবে তানিম নূর পরিচালিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’ অবলম্বনে নির্মিত এ চলচ্চিত্রকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ‘বিশেষ আগ্রহ’ রয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নিতে প্রতিদিনের জন্য ১০০ টাকা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অনলাইন ও ভেন্যু দুই মাধ্যমেই নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা বলেন, কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটির লক্ষ্য কেবল চলচ্চিত্র প্রদর্শন নয়; বরং চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রশিক্ষণ, চলচ্চিত্রবিষয়ক বিভিন্ন কলাকৌশল চর্চা এবং ভবিষ্যতে কক্সবাজারে আবারও সিনেমা হল ফিরিয়ে আনার দাবিকে শক্তিশালী করা।
তারা বলেন, “আমরা মানুষকে আবার সিনেমায় ফেরাতে চাই। কক্সবাজারে চলচ্চিত্রচর্চার নতুন যাত্রা শুরু হোক এই প্রত্যাশাই আমাদের।”