Published : 14 May 2026, 08:24 PM
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই প্রকাশ্যে আসছে পশ্চিমবঙ্গের নাটক-সিনেমার শিল্পীদের মনের ক্ষোভ-বিক্ষোভের কথা।
সেই কাতারে শামিল হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের গেল বারের প্রার্থী অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। সহকর্মী অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের কথার সুরে সুর মিলিয়ে শ্রাবন্তী বলেছেন, এই পরিবর্তনে রাজ্যের কল্যাণ হলে তা ‘গ্রহণযোগ্য’।
পাশাপাশি তিনি আরও বলেছেন, শিল্পীদের উপরেও অনেক ধরনের ‘চাপ থাকে’। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবে শিল্পীরা যেন ‘ব্যান কালচার’ এর শিকার না হন, সে ব্যাপারে নতুন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার অভিনেত্রী মমতা শঙ্কর, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, যীশু সেনগুপ্ত, সংগীজ্ঞ পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদারসহ অনেকে।
ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরাডুবির পর নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেক শিল্পী।
অভিনেতা পরামব্রতর মত মমতার নির্বাচনি প্রচারে দেখা গিয়েছিল শ্রাবন্তীকেও।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি একজন শিল্পী। আর একজন শিল্পী হিসাবেই গিয়েছিলাম প্রচারে। শিল্পীদের উপর অনেক চাপ থাকে। আমি ছাড়াও অনেকেই দিদির আহ্বানে প্রচারে গিয়েছিলেন। আমি তো নগণ্য। ভোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগে আমায় অনেকেই প্রশ্ন করেছিলেন, আমি প্রার্থী হচ্ছি কি না। আমি তো দলে যোগ দিইনি। কারণ, আমি জানি আমি হব না।’’
পালাবদলের খবর পেয়েই প্রথমে কী মনে হয়েছিল প্রশ্নে শ্রাবন্তী বলেন, “সত্যি কথা বলতে, প্রথমেই অভয়ার (আরজি করকাণ্ড) মায়ের মুখটা ভেসে উঠেছিল। মনে হল, এই বার তিনি বিচার পাবেন। সেই আশায় বসে আছি। নির্যাতিতার মায়ের প্রতি আমার অসীম শ্রদ্ধা। তিনি অভয়ার জন্য লড়ে যাচ্ছেন। একজন মা হিসাবে অবশ্যই চাইব তিনি যেন তার মেয়ের বিচার পান।’’
এই পরিবর্তন কি চেয়েছিলেন? শ্রাবন্তী বলেন, ‘‘আসলে জনতাই জনার্দন। সত্যিই যদি পরিবর্তন আসতে পারে, সত্যিই যদি এই বাংলার জন্য ভালো কিছু হতে পারে তা হলে কেন চাইব না পরিবর্তন? যাঁরা চাকরি পাচ্ছেন না তাঁরা যদি চাকরি পান, ভাল তো!’’
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা আছে কী না জানতে চাইলে শ্রবন্তী বলেছেন, রাজনীতি তার জায়গা নয়।
“আমি যখন প্রার্থী হয়েছিলাম, তখন হয়ত একজন অভিনেত্রীকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে মেনে নিতে অসুবিধা হয়েছিল মানুষের। এখন আমি অভিনেত্রী হিসাবেই ভালো আছি। আজকে এত কুৎসা হচ্ছে, শিল্পীদের নিয়ে এত কথা এত ট্রোলিং চলছে, কী বলব! শিল্পীরা কী ভাবে চলেন, এ সব বলার আগে সাধারণ মানুষ কি এক বারও ভাবেন? আমাদের উপরেও তো চাপ থাকে।’’
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির হয়ে বেহালা পশ্চিম থেকে লড়েছিলেন শ্রাবন্তী। তার বিরুদ্ধে প্রার্থী ছিলেন তৃণমূলের পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রায় ৬০ হাজার ভোটে হেরেছিলেন শ্রাবন্তী। সেই হার নিয়ে এখনো আফসোস আছে তার।
তিনি বলেন, ‘‘বেহালা পশ্চিম আমার পাড়া, আমার স্কুল, আমার বেড়ে ওঠা— সবটাই ওই জায়গায়। তাই সেই সুযোগটা পেয়েছিলাম বলে খুশি হয়েছিলাম। মানুষ আমায় গ্রহণ করেনি, জনগণের রায়ে সেই হার মাথা পেতে নিয়েছিলাম। কিন্তু তার কিছু দিন পরেই যখন আমার বিরোধী প্রার্থীর (পার্থ) বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার হল, তার দুর্নীতির সব সামনে এল, তখন খুব আফসোস হয়েছিল। মনে হয়েছিল, মানুষ যদি আমায় একটু বিশ্বাস করতেন তা হলে আমি ভালো কাজ করতে পারতাম। কিন্তু যখন হেরে গেলাম তখন আমি বুঝেছিলাম রাজনীতি আমার জন্য নয়।’’
নতুন সরকারের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন শ্রাবন্তী।
নায়িকা বলেন, ‘‘নারী নিরাপত্তার দিকটা সুনিশ্চিত হোক। বহু মানুষ রাত করে বাড়ি ফেরেন। তারা যেন নির্ভয়ে ফিরতে পারেন। আমি চাই, যারা যোগ্যতা থাকার পরেও বাড়িতে বসে আছেন তারা যেন চাকরি পান। অবশ্যই রাস্তাঘাটের কথা বলব, বিশেষ করে বেহালায়, জল জমে, ট্রাফিক জ্যাম হয়, সেগুলো যেন উন্নত হয়। দরিদ্রদের সন্তানেরা যেন পড়াশোনার সুযোগ পায়’’
পালাবদলের পর ইন্ডাস্ট্রির বন্ধু বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন শ্রাবন্তী।
“রুডি, মানে রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে আমার একেবারে ছোট থেকে সম্পর্ক। তাকে আমি শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আর ইন্ডাস্ট্রির কারও সঙ্গে সেইভাবে কথা হয়নি। তবে অবশ্যই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ হিসাবে চাই, আর কোনোদিন কোনো শিল্পীকে যেন ‘ব্যান্ড’ হতে না হয়। শিল্পীদের ‘ব্রেড অ্যান্ড বাটার’ তো কাজই। গ্রুপিজম, লবি— এগুলোর বাইরে এসে যেন যোগ্যেরা কাজ পান। ইন্ডাস্ট্রিতে যেন সকলে প্রাণ খুলে কাজ করতে পারেন।’’
শুভেন্দুর নেতৃত্বে শপথ নিল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার
নির্বাচনে ভরাডুবি, রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা পরিচালক রাজের
পদ্ম ফোটালেন রূপা-রুদ্ররা, তৃণমূলের আলোচিতরা কে কার কাছে হারলেন