Published : 06 Feb 2026, 04:07 PM
বর্তমান বিশ্ব শিশুদের জন্য ‘ভীষণ অনিরাপদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। তাই শিশুর জন্য এই পৃথিবীকে নিরাপদ করে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
কলকাতার আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাতৃত্ব, শিশুদের নিরাপত্তা ও সমাজের মানসিক ব্যাধি নিয়ে জয়া কথা বলেছেন। সে সব কথায় জায়গা পেয়েছে তার অভিনয় জীবনের বিষয়টিও।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জয়া বলেন, "আমি চাইলে কিন্তু সন্তান দত্তক নিতে পারি। কিন্তু বাধা একটাই। একটা শিশুকে পৃথিবীতে আনলে তার জন্য একটা নিরাপদ জায়গা করে দিতে হবে। কিন্তু মানুষ প্রতিনিয়ত ‘আমি আমি’ করে চলছে।“
জয়ার ভাষ্য তিনি নিজেকে একজন ‘মা’ বলে মনে করেন।
“আমি তো নিজেকে মা-ই মনে করি। হয়ত আমি কাউকে জন্ম দিইনি। কিন্তু আমার সঙ্গে আমার পোষ্যদের যে সম্পর্ক কিংবা আমার বাড়ির গাছেদের, তাতে আমি নিজেকে মা বলেই ভাবি। ওদের সঙ্গে আমি কথা বলি, আমার সঙ্গে সময় না কাটালে গাছেরা মরে যায়, পোষ্যেরা কষ্ট পায়। আমি ওদের কথা বুঝতে পারি।
“আমার কলকাতার বাড়িতে এলে গাছগুলোর নতুন পাতা গজাতে দেখেছি। ওরা আমাকে দেখলে খুশিতে ঝলমল করে। জন্ম দিতে পারলেই কি সন্তানেরা মায়ের কাছে থাকে? আমি জগতের সকলের মা হয়ে থাকতে চাই, তার মধ্যেই আনন্দ, সারদাদেবীর মত।”
শুক্রবার কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এ বছরে জয়ার প্রথম সিনেমা ‘ওসিডি’; পরিচালনা করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। শৈশবের তিক্ত অভিজ্ঞতা কীভাবে একজন শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে, সে গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি।

‘ওসিডির’ প্রচারে কলকাতায় আছেন জয়া। সেখানেই 'ওসিডি' সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা, তার চরিত্র, চরিত্রের জন্য নিজের প্রস্তুতির গল্প করেছেন তিনি।
জয়া বলেন, এই সিনেমাটি তার অন্যতম প্রিয় একটি কাজ। এর মাধ্যমে তিনি নিজের ভেতরের ‘বাতিক’ বা মানসিক টানাপড়েনও খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছেন।
“নিখুঁত অভিনয়ের প্রতি আমার এক ধরনের ‘ওসিডি’ রয়েছে। বারবার নিজের অভিনয় নিয়ে সন্দেহ, আরও ভালো করার চাপ মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। তবে মন দিয়ে কোনও কাজ করলে চাপ অনেকটাই কমে যায়।”
‘ওসিডি’ সিনেমার প্রস্তুতির জন্য ‘পিডোফিলিয়া বা শিশুকামিতা’ বিষয়টি নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেছেন এই অভিনেত্রী।
জয়ার কথায়, শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণ যে একটি মানসিক ব্যধি, এই বাস্তবতা না বুঝে এমন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়, যেখানে শিশুরা জড়িয়ে থাকে, সেখানে শিল্পীদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।
জয়া বলেন, "বাংলা সিনেমায় এখনো পর্যন্ত পিডোফিলিয়া নিয়ে তেমন কোনও কাজ না হওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক।"
সিনেমায় জয়ার চরিত্র নিয়ে তিনি বলেন, "এই সিনেমাতে আমার করা চরিত্রটা শৈশবে যৌন শোষণের শিকার এবং তার পরিণাম কী ভয়ঙ্কর হতে পারে সেটাই উঠে এসেছে।"

সমকামিতা ও হোমোফোবিয়া নিয়েও কথা বলেছেন জয়া। সিনেমায় একটা দৃশ্যে সমলিঙ্গের প্রতি ঘনিষ্ঠ হতে দেখা যাবে তাকে। এমন দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে অস্বস্তি কাজ করেছে কী না প্রশ্নে জয়া বলেন, "না, ওটা তো অভিনয়। যদি আমি দেখি, কোনো বিষয় অহেতুক উদ্দেশে দেখানো হচ্ছে, তা হলে আপত্তি রয়েছে। এমন কিছু করতে চাই না, যেখানে মনে হবে আমাকে ভুলভাবে ব্যবহার করা হল।"

নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোনের তোলা ৮ ঘণ্টা শিফটের দাবিতে বলিউউ ও টালিগঞ্জের শিল্পীরাও এ বিষয়ে দুভাগ হয়েছিলেন। কর্মঘণ্টা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জয়া। তিনি মনে করেন, অভিনয় করা শারীরিক ও মানসিক দুই দিক থেকেই কঠিন কাজ। তাই নির্দিষ্ট কাজের সময় থাকা জরুরি। আট ঘণ্টা কাজ করেও ভালো মানের কাজ সম্ভব বলে তার বিশ্বাস। প্রয়োজন হলে এর বাইরেও কাজ করেন তিনি, তবে গুণগত মানের প্রশ্নে কখনও আপস করেন না।
‘মশলাদার সিনেমায়’ কাজ করা নিয়েও ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা বলেছেন জয়া।
"আমি তো স্বার্থপর! অভিনয় থেকে যত রকমের রস নিতে পারব সব করব। অভিনয় করাটা আমার কাছে একটা নেশার মত। একটা জীবনে কতগুলো চরিত্র হয়ে বাঁচা যায় বলুন তো? এটা তো সবাই পারবে না, আমি পারি। মানে অভিনেতারা এই যাপনটা করতে পারে। আর এটার যে কি নেশা, যে করে সেই জানে।"