Published : 21 Feb 2026, 01:43 PM
যে জাতির পরিচয় তার ভাষায়, যে জাতির সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে তার জীবনযাত্রার প্রকাশ ঘটে, সেই সংস্কৃতির সাধনায় ব্রতী ছায়ানট; ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে এবং এই ব্রত নিয়ে একুশ ফেব্রুয়ারি উদযাপন করছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের মিলনায়তনে ভাষা-শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন করে ছায়ানট।
সম্মেলক কণ্ঠে নাজিম মাহমুদের লেখা ‘আমদের চেতনার সৈকতে’ গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে ছায়ানটের পক্ষে বক্তব্য দেন সারওয়ার আলী। এরপর একের পর এক গান ও আবৃত্তিতে মুখরিত হয় একুশের অনুষ্ঠান।

ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘অসাম্প্রদায়িক’ দেশ গড়ার যে চিন্তার বীজ বপন হয়েছিল, তার পথ ধরেই ৭১ এসেছে বলে অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী।
তিনি বলেন, “এজন্য এদেশের মানুষের ৫২’র ভাষাশহীদদের কাছে ঋণ রয়েছে। তারা যে বীজ বপন করেছিলেন, সেই বীজ থেকেই বাঙালি নিজেকে গর্ব করে বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে পেরেছে।
“বাংলাদেশ নামে যে স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক আমরা। তার জন্মকথার রচনা করেছিলেন ভাষাসংগ্রামের শহীদেরা। ছায়ানট একুশকে উদযাপন করছে, ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে।”
ছায়ানটের ব্রতের কথা তুলে ধরে সারওয়ার আলী বলেন, “একটি জাতির পরিচয় তার ভাষায়, আর তার জীবনযাত্রার প্রকাশ ঘটে সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে। যে সংস্কৃতির সাধনায় ব্রত রয়েছে ছায়ানট।
“যে জাতির ভাষা মুদ্রিত নেই, সে ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যায়। বাঙালির সৌভাগ্য যে এমন একটি সমৃদ্ধ ভাষায় আমরা ভাব প্রকাশ করি, যার ঐতিহ্য তাকে মহিমান্বিত করেছে।”

‘জাতীয়তাবাদ’ সবসময় ভাষাকেন্দ্রিক মন্তব্য করে সারওয়ার আলী বলেন, “ভাষা সবসময় ধর্মীয় পরিচয়কে উপেক্ষা করে, সকল ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে।”
৫২’র ভাষা আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছিলেন, তাদের অনেকে ষাটের দশকে ছায়ানট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলেও জানান সারওয়ার আলী।
তিনি বলেন, “একুশকে আড়াল করলে ৭১ আড়াল হয়ে যায়। আর ৭১’কে আড়াল করলে বাঙালি জাতিস্বত্ত্বা টিকে না। সে কারণে ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জীবনে পরম সত্য।”
অনুষ্ঠানে একক কণ্ঠে গান শোনান সুস্মিতা দেবনাথ শুচি। তিনি শোনান অতুলপ্রসাদ সেনের লেখা ‘মোদের গরব মোদের আশা’। ইফ্ফাত বিনতে নাজির শোনান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নিশিদিন ভরসা রাখিস’।
ধ্রুব সরকার শোনান ফজল – এ – খোদার লেখা ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’। প্রিয়ন্তু দেব শোনান আবু হেনা মোস্তফা কামালের লেখা ‘অপমানে তুমি জ্বলে উঠেছিলে’। ঐশ্বর্য সমদ্দার শোনান আব্দুল লতিফের ‘ও আমার এই বাংলা ভাষা’।

এছাড়া মোহিত খান শোনান এস এম হেদায়েতের ‘মাগো ধন্য হলো’। নুসরাত জাহান রুনা শোনান নজরুল ইসলাম বাবু ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো’।
অর্ণব বড়ুয়া আব্দুল লতিফের ‘মাগো আটই ফাল্গুনের কথা’ গেয়ে শোনান। ফারজানা আফরিন ইভা করেছেন আব্দুল লতিফের ‘আমার দেশের মতন এমন’ গানটি। সুমন মজুমদার শোনান মোস্তাফিজুর রহমানের (গামা) ‘ভেবো নাগো মা তোমার ছেলেরা’।
আবৃত্তিশিল্পী ডালিয়া আহমেদ পরিবেশন করেন সৃজন সেনের ‘মাতৃভূমির জন্য’ এবং দেওয়ান সাঈদুল হাসান পরিবেশন করেন অসীম সাহার ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে সম্মেলক কণ্ঠে শিল্পীরা শোনান ‘আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর লেখা সেই কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’।
অনুষ্ঠান শেষ হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে।