অভিনয় করেও টাকা পাওয়া যায়! 'আড্ডানামায়’ শ্যামল মাওলা
“থিয়েটার করলে আপনি রেগুলার একটা প্র্যাকটিসের মধ্যে থাকবেন, নিজেকে ভাঙবেন, গড়বেন, নতুন নতুন কিছু শিখবেন।”
শৈশবে বাবার হাত ধরে থিয়েটারের মহড়া কক্ষে প্রথম পা রাখা, আর সেখান থেকে আজকের ওটিটি ও চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠা অভিনেতা শ্যামল মাওলা।
তার অভিনয়জীবনের যাত্রা যেন একটি নাটকের চিত্রনাট্য। বেড়ে উঠেছেন ঢাকার শাহবাগে। বাবা গোলাম মোস্তফা সরকারি চাকরি করতেন, সন্ধ্যায় যেতেন মঞ্চ নাটকের রিহার্সেলে। ছেলেও তার সঙ্গে ফ্লোরে গিয়ে বসে থাকতেন, রিহার্সেল দেখতেন, শো দেখতেন। এভাবেই মঞ্চনাটকের পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন তিনি।
শ্যামল মাওলার ভাষ্যমতে, থিয়েটার তার যাপিত জীবনের অংশ। বন্ধুরা যখন ছুটতেন খেলার মাঠে, তিনি পা বাড়াতেন নাটকের মহড়ায়।
প্রায় দুই দশক আগে, ২০০৬ সালে থিয়েটার শিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। মঞ্চে অভিনয় করে কখনো টাকা পাননি, উল্টো নিজের পয়সাকড়ি খরচ হয়েছে।
তাই পরবর্তীতে অভিনয় করে প্রথম পারিশ্রমিক হাতে পেয়ে অবাকই হয়েছিলেন। এরপর সিসিমপুরে পাপেটিয়ার, সহকারী পরিচালক এবং পার্শ্বচরিত্রের অভিনেতা হয়ে নানা ধাপ পেরিয়েছেন তিনি।
এখন নিয়মিত কাজ করছেন টেলিভিশন, ওটিটি ও চলচ্চিত্রে। 'মহানগর', 'কষ্টনীড়', 'ক্যাফে ডিজায়ার', 'আমি কি তুমি', 'সদরঘাটের টাইগার', 'ভাইরাস'সহ প্রতিটি সিরিজেই দর্শক তাকে দেখেছেন নতুন রূপে। কখনো পরিচালকেরা তাকে মূল চরিত্রে নিয়েছেন, কখনো তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের গ্লিটজের সাক্ষাৎকার সিরিজ 'আড্ডানামা'র ত্রয়োদশ পর্বে অতিথি হয়ে এসেছিলেন তিনি।
সেখানে তিনি শুনিয়েছেন, থিয়েটারের শুরুর দিনগুলো, নিজের মত করে অভিনয়ের 'ব্যাকরণ' বানানোর গল্প, 'ভাইরাস' ওয়েব সিরিজের সংলাপহীন অভিনয়ের চ্যালেঞ্জ।
এছাড়াও সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া 'চিরকুট' সিনেমার গল্প এবং চরিত্র হয়ে উঠা, ক্যারিয়ারের কঠিন বাস্তবতা এবং নিজের জীবনদর্শনের নানা বিষয়ও তার কথায় উঠে এসেছে।
আড্ডানামা সঞ্চালনা করেছেন মঞ্চের অভিনেত্রী নিকিতা নন্দিনী। গ্লিটজের এ আয়োজনে সহযোগিতা করেছে আলোক হেলথকেয়ার এন্ড হাসপাতাল।
আগের বারো পর্বে অতিথি হয়েছিলেন অভিনেতা আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, আফজাল হোসেন, চঞ্চল চৌধুরী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ এবং ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল, গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী, শামীম আজাদ, অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ, পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন ও অভিনেত্রী সানজিদা প্রীতি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ফেইসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামে দেখা যাচ্ছে এ অনুষ্ঠান।
‘বন্ধুরা খেলতে যেত, আমি রিহার্সেলে’
সবকিছু মিলিয়ে কাজ নিয়ে সময় কেমন যাচ্ছে, জানতে চাইলে শ্যামল মাওলা বলেন, "কাজ তো একটু কম, দেশের মানে পুরো দেশেই এখন কাজ সবদিক থেকেই একটু কম। তারপরও সবকিছু মিলিয়ে আমি বলব বেশ ভালোই আছি।"
শ্যামলের অভিনয়জীবন শুরু হয়েছে থিয়েটার দিয়ে, সেই গল্প শুনতে চাইলে তিনি বলেন, "আমার যখন জ্ঞান হয়, একদম ছোটবেলায়, তখন বাবাকে দেখতাম রিহার্সেল করতে, শো করতে। বাবার সঙ্গেই রিহার্সেল ফ্লোরে গিয়ে বসে থাকতাম, রিহার্সেল দেখতাম, শো দেখতাম। তো ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরেই, বাবার সঙ্গেই মঞ্চে পারফরম্যান্স করা শুরু হয় আমার।
"আমি ভেবেছিলাম আমার জীবনও হয়তো এরকমই হবে; আমি ৯টা থেকে ৫টা জব করব, তারপর থিয়েটার করব। পড়াশোনাও করতে হত, খেলাধুলাও করতে হত, আবার রিহার্সেলও করতে হত। বন্ধুরা খেলতে যেত, আমি রিহার্সেলে। তো ওগুলো ব্যালেন্স করে আমি শুরু করেছিলাম। বড় হওয়া পর্যন্ত এভাবেই জীবন আমার।"
থিয়েটারে নিজেকে ভাঙা যায়, গড়া যায়
আড্ডানামায় আসা মামুনুর রশীদ, আবুল হায়াত ও আফজাল হোসেন সবাই একটি কথা বলেছেন, অভিনয়শিল্পীকে নির্মাণ করে থিয়েটার।
আপনার প্রজন্ম বা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই বিশ্বাস কেমন, প্রশ্নে শ্যামল মাওলা বলেন, "থিয়েটার তো অবশ্যই হেল্প করে। থিয়েটার ছাড়া আপনি যদি বাসাতে রেগুলার রিহার্সেল করেন, তাহলে আপনার হয়তো থিয়েটার না করলেও চলবে। কিন্তু যেহেতু সেই সুযোগটা নেই, আপনি থিয়েটার করলে আপনি রেগুলার একটা প্র্যাকটিসের মধ্যে থাকবেন, নিজেকে ভাঙবেন, গড়বেন, নতুন নতুন কিছু শিখবেন। সেখানে ৪০-৫০ জনের একটা গ্রুপ থাকে এক সঙ্গে রিহার্সেল করার।
"সেই ৪০-৫০ জন একেক জায়গা থেকে আসে, কেউ উত্তরবঙ্গ, কেউ দক্ষিণবঙ্গ, কেউ অমুক, মানে নানান জায়গা থেকে আসে। তো তাদের কালচার, তাদের টেস্ট, তাদের চিন্তাভাবনা এগুলো সব মিক্সড হয় থিয়েটারে। মিক্সড হয়ে আমি ওর কাছ থেকে কিছু নিচ্ছি, আমার কাছ থেকে ও কিছু নিচ্ছে, মানে এভাবেই গড়ে ওঠার একটি খেলা হয়। তো এটা অবশ্যই পজিটিভ দিক সবদিক থেকেই।"
অভিনয় শুরুর সংগ্রাম এখন স্তিমিত হয়েছে, নাকি আরও কঠোর হয়েছে প্রশ্নে তিনি বলেন, "না, শুরুর সংগ্রামের সঙ্গে তো আর এখনকার সংগ্রাম মিল থাকবে না। সবসময়ই সংগ্রামটা থাকে। সে যত বড়ই হোক, বড় হলেও বড় মানুষের সংগ্রাম হচ্ছে সে আরও কীভাবে বড় হবে, কীভাবে ওই বড় জায়গাটা ধরে রাখবে, সেই সংগ্রাম।”
এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে শ্যামল বলেন, "ওই সময়ে ছোট ছোট ক্যারেক্টার দিয়ে স্টার্ট করা, আমি পার্শ্ব চরিত্র দিয়ে আমার শুরু ক্যারিয়ার, এবং আমি প্রথম যখন করি, আমি হয়ত ৫০০-১০০০ টাকা পেমেন্ট দিয়েছিল। আমি তখন খুব অবাক হয়েছিলাম, অভিনয় করলে টাকা পাওয়া যায়? আমি তো ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছি অভিনয় করতে করতে থিয়েটারে, আমার টাকা দিতে হয়েছে। আমি কখনো টাকা পাইনি। আমি প্রথম যেদিন পেমেন্ট পেলাম আমি খুব অবাক হলাম যে অভিনয় করলে টাকা পাওয়া যায়! আমি তো সারাজীবন অভিনয়ই করলাম, তাহলে আমি কেন অভিনয়ে ট্রাই করি না? তো আমি তখন থেকে শুরু করলাম।
অভিনেতা হওয়ার আগে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন এই অভিনেতা।
'প্রথমে গল্প, তারপর চরিত্র ও ডিরেক্টর।'
চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার কোন বিষয়কে দেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "প্রথমেই গল্প। তারপর চরিত্র। তারপর ডিরেক্টর।"
নাটক, চলচ্চিত্র ও ওটিটির মধ্যে ওটিটিতে নিয়মিত হওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে কি না, জানতে চাইলে শ্যামল মাওলা বলেন, "কারণ রয়েছে বলতে আমি যখন নাটক করতাম তখন দুই দিন তিন দিনেই তো একটা নাটক, একটা গল্প শেষ, বলা শেষ হয়ে যেত আমাদের কাজ। তো আফসোস লাগত গল্পগুলো ভালো ছিল, পারফরম্যান্স করার যে সময়টা সেই সময়টা ঠিকঠাক পাওয়া যেত না।
"তো আমি খুব আফসোস করতাম যে ইস কবে যে আমরা, মানে আমি যে ক্যারেক্টারটা করছি সেটা দুই দিন তিন দিনের জার্নি না হয়ে সেটা যদি ১৫ দিন, ২০ দিন, এক মাসের জার্নি হতো, তাহলে কী ভালো হতো! তারপর আমার কাছে ওটিটির কাজ আসা শুরু হলো যখন, তখন দেখতে পেলাম যে আমি একটা ক্যারেক্টারের ১৫-২০ দিন, ২৫ দিন, এক মাস জার্নি করতে পারছি। আমার স্বপ্নগুলো আস্তে আস্তে পূরণ হতে থাকল ওটিটির কাজে। তো ওভাবেই আসলে তো ভালো লাগা শুরু, একটা ক্যারেক্টারের মধ্যে অনেকদিন বাস করার একটা মজা আছে।"
সময় নিয়ে কাজ করা ও চর্চার এই অভ্যাস থিয়েটার থেকেই এসেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "না, থিয়েটারে নিজেকে প্রস্তুত করেছি, নিজেকে রেডি করে রেখেছি।”
‘প্রতিদিনই মনে হয় পরীক্ষা দিচ্ছি’
'মহানগর', 'কষ্টনীড়', 'ক্যাফে ডিজায়ার'সহ এসব ওয়েব সিরিজের মধ্যে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কোনটি ছিল, প্রশ্নে শ্যামল মাওলা বলেন, "সবকিছুতেই চ্যালেঞ্জ থাকে। মানে নরমাল কোনো ক্যারেক্টার করলেও তো ওটা চ্যালেঞ্জ, ওই নরমালভাবেই পারফরম্যান্সটা ফুটিয়ে তোলার জন্যও তো একটা চ্যালেঞ্জ অনুভব হয়। প্রতিদিনই মনে হয় পরীক্ষা দিচ্ছি। যখনই সিনটা করছি সিনটা পরীক্ষা দেয়ার মতই। জানি না এটার রেজাল্ট কী হবে, পরবর্তীতে স্যার আমাকে কী মার্কস দেয় জানি না।"
সংলাপহীন সিরিজ 'সাইলেন্স' এ কাজ করা চ্যালেঞ্জিং ছিল জানিয়ে শ্যামল মাওলা বলেন, "কারণ ডায়লগ দিয়ে একটা কাজ করা, আর ডায়লগবিহীন আপনি পুরো সিরিজ আপনি পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন, কোনো ডায়লগ বলতে পারছেন না, শুধু এক্সপ্রেশন। আপনি আপনার কাছে মনে হবে যে হ্যাঁ এক্সপ্রেশন তো দিয়ে দিলেই তো হয়ে গেল। কিন্তু আপনি তিন-চারদিন পরে মনে হবে যে শেষ, আমার যা এক্সপ্রেশন আমার যা আছে সব তো দিয়ে ফেলেছি, এখন কী করব!
"কিন্তু ওটা যেহেতু সিরিজ, সিরিজ তো অনেক সময় এবং সেই সময় ধরে আপনার পারফরম্যান্স টেনে নেয়া, দর্শক বোর হবে কি না, কারণ কোনো কথা বলছি না তো। কথাবিহীন আপনি পারফরম্যান্স করছেন, পুরো সিরিজটা আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে। সো ওইটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।"
'সদরঘাটের টাইগার', 'আমি কি তুমি' ও 'ভাইরাস' এই তিন কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, "'আমি কি তুমি'-তে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, দুইটা ওয়ার্ল্ডের দুই রকম ক্যারেক্টার, ওইটা চ্যালেঞ্জ ছিল। সদরঘাটের টাইগার চ্যালেঞ্জ ছিল, ঘিঞ্জি ঘিঞ্জি পরিবেশে আমাদের শুট করতে হয়েছে। নানান, একেকটা প্রজেক্টের চ্যালেঞ্জ একেক রকম।
"ভাইরাসে অনেক গরম ছিল, সেই গরমের মধ্যে চাদর পেঁচিয়ে শুট করতে হয়েছিল। হিট ওয়েভ চলছিল বোধহয় তখন, তাও এমন একটা জায়গায় শুট হয়েছিল যেখানে কোনো শ্যাডো নাই গাছের, প্রচণ্ড গরম, সাদা পাথরের যে হিট সেই হিট এবং তখন হিট ওয়েভ চলছিল। আবার আমার মেকআপ, ভাইরাসের মেকআপ এই পর্যন্ত। আবার চাদর দিয়ে পুরো ঢাকা শুধু এইটুকু দেখা যাচ্ছে, মানে ভয়ঙ্কর অবস্থা। তো একেকটা প্রজেক্টের চ্যালেঞ্জ একেকরকম।"
‘টায়ার্ড হয়ে গিয়েছিলাম’
অনম বিশ্বাসের 'ভাইরাস'-এর পর কেন বিরতি নিয়েছিলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ভাইরাস যখন শেষ করি তখন অলরেডি ওই বছর আমার আটটা ওটিটির কাজ রিলিজ হয়েছিল। আমি নিজেও আসলে টায়ার্ড হয়ে গিয়েছিলাম। সবগুলোই সিরিয়াস ক্যারেক্টার, 'আমি কি তুমিতে' সিরিয়াস ক্যারেক্টার, সাইলেন্সে, ভাইরাস, সদরঘাটের টাইগার, নিখোঁজ, আরও কী কী যেন করেছিলাম, সবগুলোই সিরিয়াস সিরিয়াস ক্যারেক্টার।
“তো আমি টায়ার্ড হয়ে গিয়েছিলাম, আমি ইচ্ছাকৃত বিরতি নিয়েছিলাম যে একটু টাইম নিই, তা না হলে সব কাছাকাছি লেভেলের হয়ে যাবে।"
'চিরকুট', 'বনলতা এক্সপ্রেস', 'গেরিলা', 'আগন্তুক', 'ডেডবডি', 'ইতি তোমার ঢাকা', 'স্ফুলিঙ্গ' সিনেমায় কাজ করেছেন শ্যামল।
‘সিনেমার উপরে তো আর কিছুই নেই’
সিনেমাগুলোতে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে শ্যামল মাওলা বলেন, "আমাদের মেইন বিষয় তো সিনেমা। সিনেমার উপরে তো আর কিছুই নেই। সিনেমা করতে পারা তো অন্যরকম আনন্দের বিষয়। তো সেইদিক থেকে গেরিলা যখন শুরুতে কাজ করি, তখন তো থিয়েটারে রেগুলার আমি থিয়েটার করতাম, ওই সময়ে টুকটাক কাজ করতাম টেলিভিশনে, তার মধ্যে বড় একটা সিনেমা হচ্ছে গেরিলা। আর টপিকটাও আমার খুব পছন্দের যে টপিকে গেরিলা। সবকিছু মিলিয়ে গেরিলার জার্নিটা আসলে হাসতে খেলতে খেলতেই ওটা শুরু হয় এবং শেষও হয়ে যায় কোনো কিছু বোঝার আগে।
"তারপর আসলে যখন একটু একটু করে সিনেমা সম্পর্কে বুঝতে থাকি, তখন আসে স্ফুলিঙ্গ, তখন আসে অন্যান্য সিনেমাগুলো। তখন রিয়েল চ্যালেঞ্জগুলো আসলে বুঝতে থাকি যে সিনেমা আসলে অন্যরকম। সিনেমা আরও বড় জিনিস এবং সিনেমার জন্য আপনার আরও বড় রকম করে আপনাকে রেডি হয়ে সিনেমা করতে হবে। তো আমি আসলে তখন সিনেমার জন্য রেডি হওয়া শুরু করি।"
চলচ্চিত্রের জন্য সেই প্রস্তুতি কেমন ছিল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "প্রস্তুতি তো আসলে একেক জনের একেক রকম, আমি আমার মত করে যেকোনো কিছু আমার রুলস মানে আমার মত করে ফেলতাম। আমি আমার মত গ্রামার বানিয়ে রাখতাম। অ্যাক্টিংয়ের ক্ষেত্রেও আমি গ্রামারটা আমার মত করেই আসলে বানিয়ে নিয়েছি, আমার সুবিধার্থে, আমার বোঝার ক্ষেত্রে। তো সেই জায়গাগুলোতে মেইন যে পয়েন্টগুলো যেটা হয়ত অটো বিল্ডআপ ছিল আমার মধ্যে, লাইক আমি ছোটবেলা থেকেই অবজার্ভ করতাম, প্রচুর অবজার্ভ করতাম।
"এর মধ্যে ইন্টারেস্টিং কিছু পেলে সেটাকে আমি আমার মধ্যে গেঁথে ফেলতাম। সেটা হোমওয়ার্কের মাধ্যমে, মিরর ওয়ার্কের মাধ্যমে সেটা আবার আমি বের করে আনার চেষ্টা করতাম। সো সিনেমার প্রস্তুতি বলতে আলাদা করে সিনেমার প্রস্তুতি, আলাদা করে ওটিটির প্রস্তুতি, আলাদা করে নাটকের প্রস্তুতি,ওভাবে না গিয়ে, আমি নিজেকে রেডি করতাম যে ওটিটি হোক, সিনেমা হোক, কোন ক্যারেক্টার"
অদ্ভুত ও মজাদার চরিত্রে অভিনয় করতে যান শ্যামল মাওলা। তা জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, তিনি যে মজার চরিত্রেও কাজ করতে পারেন বা চাইছেন, সেটি নির্মাতারা ভাবতে পারছেন না।
'নাইন্টিজ আমার খুবই পরিচিত’
গেল ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এই অভিনেতার 'চিরকুট' সিনেমা। নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহ নিয়ে 'চিরকুট' এর জন্য অভিনয়শিল্পী হিসেবে কী কসরত করতে হয়েছে প্রশ্নে শ্যামল মাওলা বলেন, "না, আমার কিছুই করতে হয়নি, কারণ নাইন্টিজ আমার খুবই পরিচিত, আমার দেখা। আর আমি এমন জায়গায় বেড়ে ওঠা, শাহবাগ মেইন কেন্দ্রস্থল। যেকোনো উৎসব শুরু শাহবাগ থেকে, যেকোনো বিক্ষোভ শুরু শাহবাগ থেকে, যেকোনো কিছু শুরু শাহবাগ থেকে। তাই আমার চোখের সামনে থেকে সবকিছু শুরু, মানুষ আসত সেখানে সেগুলো দেখার জন্য আর আমি হয়তো ঘুম থেকে উঠেই সেগুলো দেখছি।
"আমার ওই বেড়ে ওঠার কারণে আর পুরো নাইন্টিজটা আমি শাহবাগে থাকার কারণে, আমার এই সবকিছু চিরকুট, নাইন্টিজ এগুলো আমার জন্য খুব কঠিন কিছু ছিল না। সহজ ছিল এবং আমার সিরিয়াস চরিত্রগুলোর সেই রেঞ্জ ভাঙার জন্যই আসলে চিরকুটটা করেছি।"
অভিনয়ে না এলে কী হতেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ক্রিকেটার হতাম অথবা এমন একটা দায়িত্বে ঢুকতাম যেটাতে দেশ ঠিক করার দায়িত্ব।”
জীবনের সবচেয়ে কড়া সমালোচনা কার কাছ থেকে পেয়েছিলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, "কড়া সমালোচনা তো সবসময় বউয়ের কাছ থেকেই পাই।"
