Published : 23 May 2025, 08:33 PM
তেইশতম জাতীয় সম্মেলনে কমিটি গঠনকে ঘিরে বিভক্ত হওয়া বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর একাংশের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন দাবি করেছেন আদর্শিক কারণেই সংগঠন বিভক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “উদীচীর বিভক্তি মূলত জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে প্রকট হয়ে ওঠে। এটা ছিল স্পষ্ট আদর্শিক বিভক্তি এবং গত জাতীয় সম্মেলনে মাহমুদ সেলিম ও বদিউর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামীপন্থী অংশটিকে আদর্শিক কারণেই প্রত্যাখ্যান করেছে সারাদেশের কর্মীরা।”
শুক্রবার বিকালে ঢাকার তোপখানা রোডে উদীচীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জামসেদ।
তিনি দাবি করেন, মাহমুদ সেলিম ও বদিউর রহমান কাউন্সিল অধিবেশনে ‘প্রত্যাখ্যাত’ হয়েই বাইরে গিয়ে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছেন। এরপর থেকে নানা ‘বিভ্রান্তিকর তৎপরতা’ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তাদের বিরুদ্ধে সংগঠন ও সংগঠনের নেতৃত্বের নামে ‘মিথ্যাচার ও কুৎসা’ রটানোর অভিযোগও তোলেন জামসেদ।
তিনি বলেন, “আদর্শে আপোস নয়। উদীচী গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই পরিচালিত হচ্ছে এবং পরিচালিত হবে।”
এরপর জামসেদ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন হাবিবুল আলম।
গত ৬-৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সম্মেলনে কমিটি গঠনকে ঘিরে বিভক্ত হয়ে যায় দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটি। এরপর থেকে উভয় পক্ষ আলাদা ব্যানারে অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।
বিভ্ক্ত বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দুটি পক্ষই অধ্যাপক বদিউর রহমানকে সভাপতি হিসেবে মেনে নিলেও ২১ মে জামসেদ পক্ষ তাকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামসেদ বলেন, “এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে বদিউর রহমান সম্প্রতি একটা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে গঠনতান্ত্রিক নিয়মে সম্পন্ন হওয়া সম্মেলনকে অসম্পূর্ণ আখ্যা দিয়ে তিনি নতুন করে সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন, যা সারাদেশের উদীচী কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।”
বদিউর রহমানের মতো বয়জ্যেষ্ঠ সংগঠক কোনো শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে ও ‘অগঠনতান্ত্রিকভাবে’ এ তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন দাবি করেন উদীচীর একাংশের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার।
তিনি বলেন, “এ ধরনের সংগঠনবিরোধী কর্মকান্ডের কারণে তাকে উদীচীর সভাপতি পদ থেকে অব্যহিত প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সেইসঙ্গে সংগঠনবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত থাকায় মাহমুদ সেলিমকেও সংগঠনের সহসভাপতি পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।”
বদিউর রহমান, মাহমুদ সেলিমসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে ‘সংগঠনবিরোধী’ তৎপরতার অভিযোগ তুলে এ নিয়ে তদন্ত চলছে জানিয়ে জামসেদ বলেন, “তদন্তের স্বার্থে আপাতত এ দুজনকে অব্যহিত দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর যথাযথ সাংগঠনিক প্রক্রিয়া মেনে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তার দাবি, “উদীচীর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটা অংশ রাজনীতি ও সংস্কৃতির গণবয়ান নির্মাণের চাইতে আওয়ামী বয়ান নির্মাণেই বেশি আগ্রহী ছিল। আওয়ামী দুঃশাসন দীর্ঘ হতে হতে ওই অংশের সঙ্গে উদীচীর প্রকৃত কর্মীদের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠছিল।
“জুলাই অভ্যুত্থানে বদি-সেলিম-অমিতের নেতৃত্বাধীন অংশ চেয়েছিল আওয়ামী লীগের গণহত্যার পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করতে। কিন্তু আমরা সেটা হতে দিইনি। তাদেরকে বাধ্য করেছি গণমানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে গণহত্যার প্রতিবাদ করতে, শেখ হাসিনার পতন চাইতে।”
এক প্রশ্নের জবাবে হাবিবুল আলম বলেন, “উদীচীর এই বিভক্তি আমরাও চাই না। কেউ যদি বিভক্তি দূর করার উদ্যোগ নেন, তবে আমরা স্বাগত জানাবো। তবে আদর্শে আপোস নয় এবং গঠনতন্ত্র মেনে উদীচী পথ চলবে।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন, অধ্যাপক জুলফিকার আহমেদ গোলাপ, অধ্যাপক আব্দুল মোতালেব, মোল্লা হাবিবুর রসূল মামুন, ইকরামুল কবির ইল্টু, সারওয়ার কামাল রবিন।
আগের খবর:
বিভক্ত উদীচী: অধ্যাপক বদিউরকে 'অব্যাহতি' দিল একাংশ
অধ্যাপক বদিউরের সংবাদ সম্মেলন, উদীচীর অপর অংশ বলল, সম্পৃক্ততা নেই
কমিটি নিয়ে বিভক্তি, উদীচীর সভাপতি বদিউর, সাধারণ সম্পাদক কে?