Published : 23 Jun 2026, 04:27 PM
চিকিৎসাধীন চিত্রশিল্পী ও পাপেট নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ারের শারীরিক অবস্থার ‘কিছুটা উন্নতি হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার।
গত ১৪ জুন হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন। তবে অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এখন তাকে আইসিইউ থেকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার গ্লিটজকে মেরী মনোয়ার বলেন, "উনার শারীরিক অবস্থা আগে থেকে কিছুটা ভালো। এতদিন তো আইসিইউতে ছিলেন, চিকিৎসকেরা এখন ওনাকে এইচডিইউতে নিবেন।"
এদিকে ৯১ বছর বয়সী এই শিল্পীর খোঁজ নিতে সোমবার স্কয়ার হাসপাতালে যান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে এই শিল্পীর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি চিকিৎসকদেন সঙ্গে কথা বলে বর্ষীয়ান এই শিল্পীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনের সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মুস্তাফা মনোয়ারের চিকিৎসা ব্যয়ের সহায়তায় একটি আর্থিক অনুদানের চেক তার পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন মন্ত্রী নিতাই রায়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাদের যে কোনো সংকটে পাশে দাঁড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে এই শিল্পীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
গত ২০ মে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় মুস্তাফা মনোয়ারকে। সেখানে ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর জুনের ৫ তারিখে তিনি বাসায় ফেরেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি।
বাসায় ফেরার মাত্র ৩-৪ দিনের মাথায় মুস্তাফা মনোয়ারের শারীরিক অবস্থার আবার অবনতি ঘটে এবং ১৪ জুন আবারও তাকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় বলে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন।
মুস্তাফা মনোয়ারের দ্রুত আরোগ্য কামনায় সবার দোয়া চেয়েছেন তার স্ত্রী।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোরের শ্রীপুরে মুস্তাফা মনোয়ারের জন্ম। তার বাবা কবি গোলাম মোস্তফার পৈত্রিক নিবাস ছিল ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে।
পাঁচ বছর বয়সে মুস্তাফা মনোয়ারের মা জমিলা খাতুন মারা যান। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি।
নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে মুস্তাফা মনোয়ার কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হন। সেখানে তিনি পড়াশোনা না করে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।
১৯৬৫ সালে মেরী মনোয়ারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে সাদাত মনোয়ার ও এক মেয়ে নন্দিনী মনোয়ার।
মুস্তাফা মনোয়ার কর্মজীবন শুরু করেন পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে। পরে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার ও এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া জনবিভাগ উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ও এডুকেশনাল পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালকও তিনি ছিলেন।
শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০০৪ সালে একুশে পদক পাওয়া এই শিল্পী বর্ণিল কর্মজীবনে আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।
১৯৯০ সালে টিভি নাটকের জন্য টেনাশিনাস পদক, ১৯৯২ সালে চারুশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে শিশু শিল্পকলা কেন্দ্র কিডস কালচারাল ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম কর্তৃক কিডস সম্মাননা পদক, ২০০২ সালে চিত্রশিল্প, নাট্য নির্দেশক এবং পাপেট নির্মাণে অবদানের জন্য শিশুকেন্দ্র থেকে বিশেষ সম্মাননা লাভসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
আর পড়ুন-