Published : 12 Jun 2026, 12:35 AM
আটটি নাটক নিয়ে আট দিনব্যাপী নাট্যো উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ।
‘নতুন নাটকের উৎসব’ শিরোনামের এই উৎসব শুরু হবে শুক্রবার, শেষ হবে আগামী ১৯ জুন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই উৎসবে গেল বছরে একাধিক নাট্যদল মঞ্চে যে নতুন নাটকগুলো নিয়ে এসেছে সেগুলো থেকে নির্বাচিত নাটকগুলো দেখানো হবে।
বৃহস্পতিবার নাট্যোৎসব নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী জানিয়েছেন, 'নতুন নাটক, নতুন সময় মঞ্চে জাগুক মানুষের কথা' স্লোগানকে সামনে রেখে এই উৎসবের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উৎসবের প্রতিটি নাটকই প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে দর্শনীর বিনিময়ে প্রদর্শনী হবে।
এর পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় একই হলের লবিতে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে ‘বাংলা নাটকের গান’ এর বিশেষ পরিবেশনা।
ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের মোট ৮টি দল ধারাবাহিকভাবে এই বাংলা নাটকের গানে অংশগ্রহণ করবে। দলগুলো হচ্ছে মানিকগঞ্জ থেকে আগত আলেয়া বেগম ও আলমাস সরকার এর দল, পদাতিক নাট্য সংসদ টিএসসি, ভৈরবী গীতরঙ্গ দল, থিয়েটার সার্কেল (মুন্সিগঞ্জ), তীরন্দাজ রেপার্টরী, আরণ্যক নাট্যদল, বটতলা ও উদীচি নাট্যবিভাগ।
উৎসবটি নিয়ে একাডেমির মহাপরিচালক, কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি যে সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রে যেন নতুন সৃষ্টিশীলতা তৈরি হয় এবং গণমানুষকে সম্পৃক্ত করা যায়। ৭০ ও ৮০’র দশকে দেখেছি যে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক ভালো নাটক মঞ্চায়ন হত। এখন তা অনেকটাই স্থবির হলেও গত দুই বছরে পরিস্থিতির অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। এই নাট্যোৎসবের মাধ্যমে নাটককে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাই। সামাজিক অবক্ষয় দূর করার অন্যতম হাতিয়ার নাটক। যা বেঁচে থাকার এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়। আমরা চাই দর্শকরা এসে মঞ্চনাটক দেখুক, সমালোচনা করুক।”
আট দিনের নাট্যপরিক্রমা
উৎসবের উদ্বোধনী দিন শুক্রবার মঞ্চায়ন হবে দিনাজপুর নাট্য সমিতির বিশেষ নাটক ‘চোরের নাম চরনদাস’, যার নির্দেশনা দিয়েছেন নয়ন বাট্টেল।
পরদিন ১৩ জুন মঞ্চে আসবে বান্দরবানের ইয়াং বংহুং থিয়েটারের প্রযোজনা ও সিংয়ং ম্রো এর নির্দেশনায় নাটক ‘রিনা পুং’।
১৪ জুন পরিবেশিত হবে নাট্যদল দৃশ্যকাব্যের নাটক ‘ইডিপাস’, এটি পরিচালনা করেছেন হাবিব মাসুদ।
উৎসবের চতুর্থ দিন ১৫ জুন ডায়না ম্যারেলিন চৌধুরীর নির্দেশনায় হ্যান্ট থিয়েটার মঞ্চে নিয়ে আসবে তাদের নাটক ‘ক্যাফে দ্যা ভলতে’।
১৬ জুন মঞ্চায়ন হবে নাট্যদল প্রাচ্যনাট এর আলোচিত নাটক ‘ব্যতিক্রম ও নিয়ম’, নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম।
১৭ জুন মঞ্চে দেখা যাবে ঢাকা থিয়েটারের নাটক ‘রঙমহল’, যার নির্দেশনায় রয়েছেন ফারুক আহমেদ।
১৮ জুন নাট্যায়ন সিলেট পরিবেশন করবে মোস্তাক আহমেদের নির্দেশনায় নাটক ‘মহাকালের অন্তর্যাত্রা’।
উৎসবের সমাপনী দিন ১৯ জুন মঞ্চায়ন হবে যশোরের শব্দ থিয়েটারের নাটক ‘দি গ্রেট স্মাগলার’, যার নির্দেশনা দিয়েছেন মাসুদুজ্জামান।
উদীয়মান নির্দেশকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ

এই উৎসবে তরুণ ও উদীয়মান নাট্যনির্দেশকদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে একটি বিশেষ কর্মশালা। ‘সমকালীন বিশ্ব বাস্তবতায় নাট্য সৃজন: দর্শন, নন্দন ও কৃতকৌশল’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি আগামী ১৫ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হবে।
একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মশালায় তরুণ নির্মাতাদের প্রযোজনার দর্শন, নান্দনিকতা ও নির্মাণের কৌশলগত বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
কর্মশালার মূল পরিকল্পক ও প্রশিক্ষক হিসেবে থাকছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহমান মৈশান।
এছাড়া প্রশিক্ষকমণ্ডলী হিসেবে যুক্ত থাকবেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইউসুফ হাসান অর্ক;
অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক আজাদ আবুল কালাম, নাট্যনির্দেশক ও পরিকল্পক জনাব ফয়েজ জহির, নাট্যকার ও নির্দেশক জনাব শুভাশিষ সিনহা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক রেজা আরিফ।