Published : 10 Jun 2026, 09:41 PM
প্রায় ১৪ বছর পর নিজের লেখা ও সুর করা গান নিয়ে ফিরছেন সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আরমান খান। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তৈরি এই গানের শিরোনাম ‘ফুটবল ফুটবল’।
বুধবার বিকেলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘সংগীতা মিউজিক’ এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে শোনা যাবে গানটি।
গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন সংগীতশিল্পী বিজয় মামুন। পাশাপাশি এর একটি অংশে অতিথি কণ্ঠশিল্পী হিসেবে র্যাপ গেয়েছেন আরমান খান।
দীর্ঘ বিরতি ভেঙে নতুন গান নিয়ে আসা নিয়ে গ্লিটজকে আরমান খান বলেন, “বাংলাদেশে সাধারণত বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে তেমন একটা গান তৈরি হয় না। এবার বিজয় মামুনের আগ্রহ ও অনুরোধেই গানটি করা। ফুটবলপ্রেমীদের এই আন্তর্জাতিক উদ্দীপনার সঙ্গী হতেই আমাদের এই আয়োজন।”

পারিবারিকভাবেই সংগীতের আবহে বেড়ে উঠেছেন আরমান খান। তিনি দেশের কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলম খানের ছেলে এবং পপ সম্রাট আজম খানের ভাতিজা।
২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে সংগীতে একাধিক কালজয়ী ও দর্শকপ্রিয় গান উপহার দেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে প্রমিথিউস ব্যান্ডের বিপ্লবের কণ্ঠে ‘চান্দের বাতির কসম দিয়া’, আর্ক ব্যান্ডের হাসানের গাওয়া ‘শীত নয় গ্রীষ্ম নয় এসেছে বসন্ত’ ও ‘লাল বন্ধু নীল বন্ধু’সহ বেশ কয়েকটি গান।
এই তিন বছরে তিনি প্রায় ২৩টি অডিও অ্যালবামের কাজ সম্পন্ন করেন। সে সময় দেশের প্রায় সব দর্শকপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গেই কাজ করেছেন তিনি।
২০০৫ সালের পর সংগীতের প্রতি একপ্রকার ‘ব্যক্তিগত অভিমান’ থেকে নতুন অ্যালবাম করা বন্ধ করে দেন তিনি। এরপর ২০১৩ সাল পর্যন্ত কেবল নাটকের আবহ সঙ্গীত নিয়ে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে সংগীত জগত থেকে পুরোপুরি দূরে সরে গিয়ে পেশা পরিবর্তন করেন এই সুরকার।
এখন তিনি শ্রীমঙ্গলের ‘গ্র্যান্ড সুলতান টিউলিপ গলফ’ রিসোর্টে জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরা নিয়ে আরমান খান বলেন, “আমাদের রিসোর্টের ম্যানেজমেন্ট এবং এর চেয়ারম্যান খাজা টিপু সুলতানের বিশেষ আগ্রহে গত বছরের নভেম্বর মাসে রিসোর্ট প্রাঙ্গণেই আমার জন্য একটি আধুনিক স্টুডিও তৈরি করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের উৎসাহ এবং নিজের আগ্রহ থেকেই আবার সংগীতচর্চায় সময় দিচ্ছি।
“গান থেকে একবারে যে সরে গেছি বিষয়টা তেমন নয়। ২০২১ সালের দিকে শখের বশে নিজের কণ্ঠে ‘বন্ধু’, ‘কথা দিলাম’ গানগুলো প্রকাশ করি। এছাড়াও পপ গুরু আজম খান ও আইয়ুব বাচ্চুকে উৎসর্গ করে ‘গুরু রে’ ও ‘আসা যাওয়া’ শিরোনামে গান করি।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আরমান খান বলেন, “প্রফেশনালি মিউজিক আর করব না। তবে ইচ্ছে আছে কিছু গান করার, এখন গানের বাজার পুরোপুরি বদলে গেছে। কোম্পানিগুলো এখন গান করে না, গানের চেয়ে নাটকে বিনিয়োগের দিকে বেশি ঝুঁকছে। তবে শ্রোতাদের দাবি ও নিজের তাগিদ থেকে আমি আমার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল নতুন করে গোছানোর পরিকল্পনা করছি। ভবিষ্যতে যার জন্যই গান করি না কেন, তা যেন নিজের চ্যানেলেই পেয়ে যান সেভাবেই কাজ করব।”