Published : 10 Jun 2026, 01:01 PM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রসের বিদায়ে শিল্পীদের ‘ব্যান কালচার’ অধ্যায় শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্ডাস্ট্রির সংশ্লিষ্টরা।
ডিরেক্টরস গিল্ড ও টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত হয়ে কাজে ফিরতে পেরেছেন অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য। বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের কাজও পর্দায় আসছে আগামীতে। সরব হয়েছেন দীর্ঘদিন কাজ থেকে দূরে থাকা অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে শ্রীলেখা দাবি করেছেন 'এক দশক ধরে তাকে টলিউডে কাজ করতে দেওয়া হয়নি’।
তার কথায়, “তৃণমূল কংগ্রেস এবং শিল্পের নিয়ন্ত্রণকারী কিছু তথাকথিত শিল্পীর কারণে তিনি নিষিদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।”
এর আগেও সোশার মিডিয়ায় শ্রীলেখা ইন্ডাস্ট্রিতে সরকার দলীয় ব্যক্তিদের প্রভাব নিয়ে অভিযোগ করেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেছিলেন, ‘সোজাসাপ্টা কথার জন্য’ কাজের সুযোগ হারিয়েছেন তিনি।
এবার শ্রীলেখা সরাসরি ‘১০ বছর নিষিদ্ধ’ থাকার কথা জানিয়েছেন।
শ্রীলেখা সংবাদমাধ্যমের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার পোস্টে।
তিনি বলেন, যা বলার ছিল, তা বলে ফেলেছেন। ভবিষ্যতে কেউ সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে তার সময় ও বক্তব্যের মূল্য দিতে হবে, না হলে তিনি আর সাক্ষাৎকার দেবেন না।
টলিউডের প্রভাবশালী সংগঠক ও প্রযোজক স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তার হওয়ার পরও শ্রীলেখা তাকে নিয়ে কথা বলেন।
তিনি লিখেছেন, কেবল স্বরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করলে হবে না, দায়ী সেই ব্যবস্থাকেও করতে হবে, যা এমন ক্ষমতাকেন্দ্রিক সংস্কৃতির জন্ম দেয়।
শ্রীলেখার ভাষায়, “একজন মানুষ এক দিনে ‘স্বরূপ’ হয়ে ওঠেন না; তাকে তৈরি করে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা। সেই ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরাও সমানভাবে দায়ী।”
শ্রীলেখা প্রশ্ন তুলেছেন যারা একসময় স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছেন, তাদের ভূমিকা নিয়েও কি আলোচনা হবে?
অভিনেত্রী মনে করিয়ে দেন, একসময় স্বরূপ বিশ্বাস সম্পর্কে মাত্র একটি মন্তব্য করার কারণে তাকে ব্যাপক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। এখন সেই মানুষগুলোর অবস্থান কী—সেটাও জানতে চেয়েছেন তিনি পোস্টের মাধ্যমে।
স্বরূপ বিশ্বাস পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই। গেল ৪ জুন স্বরূপকে দুর্নীতিসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, নিউ আলিপুর এবং টালিগঞ্জ এলাকার একাধিক নির্মাণ ব্যবসায়ী ও প্রোমোটারের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, হুমকির অভিযোগ উঠছিল স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, এলাকায় কোনো নতুন বহুতল, আবাসন বা ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প শুরু করতে গেলে স্বরূপ বিশ্বাস এবং তার ঘনিষ্ঠদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘কাটমানি’ বা ‘চাঁদা’ দিতে হত। কেউ সেই দাবি মানতে অস্বীকার করলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশ বলছে, কদিন আগে এক নির্মাণ সংস্থার পক্ষ থেকে সরাসরি কোটি টাকার তোলা দাবি এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে মামলা করা হয় স্বরূপের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির পর বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় স্বরূপ বিশ্বাসকে। পরে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে সেদিন রাত প্রায় ১০টা নাগাদ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্বরূপের গ্রেপ্তারের পর অভিনেতা অনির্বাণ কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘‘অনেকে লড়াই করেছেন। আমি একা নই। আমি তো ইন্ডাস্ট্রির আলোর দিকের মানুষ। গ্ল্যামারের দুনিয়ায় অভিনেতাদের অবাধ চলাফেরা। তবে ইন্ডাস্ট্রির যারা কলাকুশলী, যারা উপার্জনের দিকে কিংবা গ্ল্যামারের দিক থেকে অনেকটা পিছনে, তারা অনেক বেশি ভুগেছেন।
“আর স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর মূলত আগে কী হত, সবাই এখন সবটা জেনেছে, তেমন নয়। আমরা এগুলো জানতাম বলেই, এর বিরোধিতা করেছিলাম।"
আরও পড়ুন-
‘অনিয়মগুলো জানতাম বলেই বিরোধিতা করেছিলাম,’ স্বরূপের গ্রেপ্তারের পর বললেন অনির্বাণ