Published : 15 Jun 2026, 12:44 PM
পরিবেশ সুরক্ষা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার বার্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হল ‘বর্ষা উৎসব'।
সোমবার আষাঢ়ের প্রথম সকালে গান, আবৃত্তি, দলীয় নৃত্যের পাশাপাশি গাছের চারা বিতরণের মধ্য দিয়ে বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদ বাংলা পঞ্জিকার দ্বিতীয় ঋতুকে বরণ করে নেয়।
সকাল ৭টা ২০ মিনিটে নবীন শিল্পী মো. মিনহাজুল হাসান ইমনের রাগ ‘জয় জয়ন্তী’ পরিবেশনায় ‘বর্ষা উৎসব-১৪৩৩’ এর সূচনা হয়।
উৎসবের ‘বর্ষা কথন’ পর্বে সভাপতিত্ব করেন লেখক ও গবেষক, নৃত্যশিল্পী অধ্যাপক নিগার চৌধুরী।
আবৃত্তি শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা আশরাফুল আলম এবং বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শিল্পী কাজী মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে বাঁচতে নতুন প্রজন্মকে 'প্রকৃতির বন্ধু’ হতে হবে।

"আজকের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা দেওয়া। পরিবেশ সুরক্ষার বার্তার পাশাপাশি এ ধরনের উৎসবগুলোয় যত বেশি করে মিলিত হব আমরা, তত বেশি করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যেতে পারব।"
বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে বর্ষার চিরন্তন সম্পর্কের কথা তুলে ধরে সুইট বলেন, "একসময় বাংলার রূপ এরকম ছিল না। বাংলা ছিল অপরূপা, নদীমাত্রিক, খালকেন্দ্রিক, পুকুর ও জলাকেন্দ্রিক একটি বাংলাদেশ। এখন সেই রূপ হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নদীগুলো টিকিয়ে রাখতে হবে।"
বর্তমান জলবায়ু সংকটের জন্য মানুষের ‘প্রকৃতি-বিরোধী কর্মকাণ্ড’ দায়ী বলে মন্তব্য করেন সুইট।
তিনি বলেন, "পূর্বপুরুষদের কাছে শুনেছি এ দেশ ছিল নাতিশীতোষ্ণ, এখন এটি হয়ে গেছে চরমভাবাপন্ন। সেরকম গরম, সেরকম ঠান্ডা। এর কারণ হচ্ছে আমরা জলবায়ু রক্ষা করতে পারছি না। আমরা পাহাড় কেটে ফেলছি, নদী দূষণ করছি, পুকুর ভরাট করে ফেলছি, গাছ কেটে বন উজাড় করছি। প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নিচ্ছে এবং আমরা সেই প্রতিশোধের মধ্যে পড়েছি।"
এই সংকট থেকে উত্তরণে ঋতু উৎসবগুলোকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, "প্রকৃতির বন্ধু হয়ে কীভাবে কাজ করতে হবে, তা এই ঋতু উৎসবগুলোর মধ্য দিয়ে জানানো সম্ভব। এর মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত হবে এবং আগামীর বাংলাদেশ বৃক্ষ, নদী, পাহাড় সবকিছু মিলে একটি আদর্শ জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।"
উৎসবে একক আবৃত্তি পরিবেশন করছেন নায়লা তারাননুম চৌধুরী কাকলী ও মাশকুরে সাত্তার কল্লোল।
অনিমা রায়, তানজিলা তমা, নির্ঝর চৌধুরী, ফেরদৌস কাকলী, রত্না সরকার গেয়ে শোনান রবীন্দ্র সংগীত।

ইয়াসমিন মুশতারী, মাহমুদুল হাসান ও সঞ্জয় কবিরাজ শোনান নজরুল সংগীত।
এছাড়া আবু বকর সিদ্দিক, এস এম মেজবা ও তামান্না নিগার তুলি লোকসংগীত এবং শাহীন খান ও মাহবুব রিয়াজ আধুনিক গান গেয়ে শোনান।
নৃত্যম, দিব্য, স্পন্দন, ধৃতি নর্তনালয়, সমস্বর, নৃত্যাক্ষ ও নন্দ শিল্প একাডেমি দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে।
দলীয় সংগীতে অংশ নেয় পঞ্চভাস্কর, সুরতাল সংগীত একাডেমি, সমস্বর, নির্ঝরনী, সুরবিহার, সীমান্ত খেলাঘর আসর ও সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী।
উৎসবের এক পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
গত আঠারো বছর ধরে আষাঢ়ের প্রথম দিনে এ আয়োজন করে আসছে বর্ষা উৎসব উদযাপন পরিষদ। আবৃত্তি শিল্পী আহসান দিপুর পরিচালনায় এবারের উৎসবের সব পরিবেশনাও সাজানো হয়েছিল বর্ষা ঋতুকে ঘিরে।