Published : 11 Mar 2026, 03:08 PM
আশির দশকের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা ও অ্যাকশন কিংবদন্তি আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারকে এখন আর নিয়মিত পর্দায় দেখা যায় না। ৭৯ বছর বয়সী এই অভিনেতা কাজ করেন বেছে বেছে। সে সব কাজেও ধুন্ধুমার অ্যাকশন দৃশ্যে নেই তিনি।
বিশ্বজুড়ে তার আশির দশকের ক্ল্যাসিক সিনেমাগুলো এখনও দারুণ জনপ্রিয়। সেগুলো নিয়ে ভক্তদের দারুণ সুখবর দিয়েছেন শোয়ার্জনেগার। আশির দশকের অন্যতম তিন ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘কোনান’, ‘কমান্ডো’ ও ‘প্রেডিটর’ এর নতুন পর্ব তৈরি করছেন তিনি।
ওহাইয়ো রাজ্যের কলম্বাসে আর্নল্ড স্পোর্টস ফেস্টিভ্যাল আয়োজিত হয় শনি ও রোববার। সেখানে শোয়ার্জনেগারের বরাত দিয়ে তার ভক্তদের সাইট ‘দ্য আর্নল্ড ফ্যানস’ এ খবর নিশ্চিত করেছে।
দ্য হলিউড রিপোর্টার বলছে, শোয়ার্জনেগার ওই ইভেন্টে বলেন, “তারা পরে প্রেডিটর নিয়ে আরও একটি সিনেমা তৈরি করেছে। সিনেমার পরিচালক ড্যান ট্র্যাকটেনবার্গ খুবই ভালো কাজ করেছে। এখন সে চায় আমি যেন পরবর্তী ‘প্রেডিটর’ এ অভিনয় করি।

“ফক্স স্টুডিওসও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছে, ‘আমরা চাই আপনি প্রেডিটর-এ অভিনয় করুন, আমাদের কাছে আপনার জন্য কমান্ডো টু-র ও একটি স্ক্রিপ্ট আছে’।”
দ্য হলিউড রিপোর্টার নিশ্চিত করেছে শোয়ার্জনেগারের আরেক জনপ্রিয় সিনেমা কোনান এর সিক্যুয়েলের খবর।
কোনানের নতুন সিনেমা ‘কিং কোনান’ নিয়ে ওই একই ইভেন্টে ভক্তদের শোয়ার্জনেগার বলেন, “দারুণ একটা কাহিনী যেখানে কোনানের বয়স ৪০ হয়ে গেছে ও সে তার সাম্রাজ্য নিয়ে বেশ আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। ধীরে ধীরে নিজের সাম্রাজ্য থেকে তাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়।

“সিনেমায় ভায়োলেন্স, জাদু ও স্পেশাল এফেক্টের অনেক ব্যবহার আছে। স্টুডিওগুলো সাধারণত এইসব সিনেমায় প্রচুর অর্থ খরচ করে। যে কারণে আমি সিনেমাগুলোতে কাজ করতে মুখিয়ে আছি।”
শোয়ার্জনেগার এও জানিয়েছেন যে, ‘কিং কোনান’ পরিচালনা করবেন ক্রিস্টোফার ম্যাককোয়েরি। যিনি এর আগে টম ক্রুজের মিশন ইম্পসিবল সিরিজের চারটি সিনেমা পরিচালনা করেছেন।
‘কোনান’ কমিকস অবলম্বনে প্রথম সিনেমা ‘কোনান দ্য বারবেরিয়ান’ মুক্তি পায় ১৯৮২ সালে। ব্যবসাসফল এই সিনেমা দিয়েই হলিউডের সেরা তারকাদের একজন হয়ে ওঠেন আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার। এর দুই বছর পর আসে ‘কোনান দ্য ডেস্ট্রয়ার’। এটিও বক্স অফিসে হিট হয়।

১৯৮৫ সালে মুক্তি পায় ‘কমান্ডো’। ব্লকবাস্টার এই সিনেমার এখন পর্যন্ত কোনো সিক্যুয়েল নির্মাণ করা হয়নি। ১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেডিটর’ হিট হওয়ার পাশাপাশি জন্ম দেয় নতুন সিনেমা ফ্র্যাঞ্চাইজের।
যার অধীনে নির্মিত হয়ে আটটি সিনেমা ও একাধিক ভিডিও গেম। মূল পর্ব ছাড়া কোনোটিতেই দেখা যায়নি শোয়ার্জনেগারকে। ২০১৯ সালের ‘টারমিনেটর ডার্ক ফেইট’ সিনেমায় সবশেষ কোনো কেন্দ্রীয় চরিত্রে বড় পর্দায় অভিনয় করেছেন তিনি।
নতুন প্রজন্মের জন্য নেটফ্লিক্সে ‘ফুবার’ সিরিজ নিয়ে হাজির হন ২০২৩ সালে। ১৬ এপিসোডের এই সিরিজের পর আর অভিনয়ে দেখা যায়নি তাকে।

১৯৪৭ সালে অস্ট্রিয়ার টাল এ জন্ম নেওয়া আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ছেলেবেলা থেকে শরীরচর্চায় আগ্রহী ছিলেন। সাতবার বডিবিল্ডিংয়ের সবচেয়ে বড় শিরোপা ‘মিস্টার অলিম্পিয়া’ জেতেন তিনি। সত্তরের দশকে হলিউডে পা রাখলেও সাফল্য ধরা দেয় আশির দশকে। কোনান, কমান্ডো, টার্মিনেটর, প্রেডিটর, র ডিল, টার্মিনেটর টু-সহ অভিনয় করেছেন একাধিক ব্লকবাস্টার সিনেমায়।
ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন রিপাবলিকান সমর্থক শোয়ার্জনেগার। ২০০৩ থেকে ২০১১ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।