Published : 25 Jan 2026, 12:05 AM
নানা আয়োজনে ১৩ বছরে পদার্পণ উদযাপন করল বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়।
ঢাকার ধানমন্ডিতে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের রমেশ চন্দ্র দত্ত মিলনায়তনে শনিবার সন্ধ্যায় 'শৈশবের গল্পে পুতুল বিয়ে' শিরোনামে এসব আয়োজন করা হয় বলে প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বাতিঘরের লালমাটিয়া, বনশ্রী, মিরপুর, সিদ্ধেশ্বরী ও ইস্কাটন শাখার অর্ধশতাধিক শিশু এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।
জাতীয় সংগীত শেষে ‘হে সামালো ধান হো’, ‘আমরা করবো জয়’ ও ‘জগতজুড়ে উদার সুরে’ গানের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে শিশুরা নৃত্য পরিবেশন করে।
এরপর শুরু হয় বাংলার লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ 'পুতুল বিয়ে'।
ছেলেবেলার গল্পে কেমন ছিল পুতুল বিয়ের কাহিনী, সে কথা বলতে মঞ্চে হাজির হন সংগীতশিল্পী রফিকুল আজিজ টিটো। এরপর গিটারে শিশুরা পরিবেশন করে তপন বাগচীর লেখা ও সুজিত মোস্তফার সুর করা ‘আজকে না হয় আমরা ছোট’ গানটি।
এরপর শুরু হয় পুতুল বিয়ের উৎসব। বিয়ের চিরায়ত গানের সঙ্গে মঞ্চের একপাশে চলতে থাকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। আর অপর পাশে চলে শিশুদের গীতনৃত্য।
'আসবে শ্যাম কালিয়া’, ‘ঢোল বাজে আকাশে’, ‘সোহাগ চাঁদ বদনী ধনি নাচতো দেখি’, ‘দাও গায়ে হলুদ’, ‘সাজ সুন্দরী কন্যা সাজো বিয়ার সাজে’ ইত্যাদি গানের সঙ্গে মিলনায়তনজুড়ে শ্রোতা-দর্শকরা উপভোগ করেন বিয়ের আনন্দ।
বধূবরণ, জামাইবরণ, গায়ে হলুদ থেকে শুরু মিষ্টিমুখ— সবই যেন নগরশিশুদের এক গ্রামীণজনপদের বিয়ের আনন্দে মাতিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ছিলেন বাতিঘরের শিক্ষক শ্রাবন্তী পাল তন্বী।
তিনি বলেন, "বাতিঘরের শিশুরা দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ সম্পর্কে জানুক। আনন্দের মধ্য দিয়ে সে তার শৈশব অতিক্রম করুক। সবচেয়ে বড়কথা ‘বিশ্বমানব হবি যদি শাশ্বত বাঙালি হ’ গুরুসদয় দত্তের এই অমিয় বাণীকে ধারণ করে আমাদের সন্তানেরা সর্বান্তকরণে মানুষ হয়ে উঠুক।"
বাতিঘরের পরিচালক মরিয়াম ইউসুফ বলেন, "আমরা চাই আনন্দের মধ্য দিয়ে শিশুদের শেখাতে। বাতিঘরের কাজই হলো শিশুদের হৃদয়ে আলো জ্বালানো; চিন্তার খোরাক জুগিয়ে দেওয়া। আমাদের সংস্কৃতির নানাবিধ উপাদানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।"