Published : 22 Dec 2025, 11:14 AM
দেশে যে অরাজক পরিস্থিতি চলছে তা একদিনে তৈরি হয়নি বলে মনে করে বিনোদন অঙ্গনের একদল কর্মীর সংগঠন ‘দৃশ্যমাধ্যম সমাজ’।
জুলাই অভ্যুত্থানে গড়ে ওঠা সংগঠনটি বলছে, “২০২৪ সালে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পর বাংলাদেশ আজ এমন একটি জটিল পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে, যখন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা দৈনিক ডেইলি স্টারের একজন সাংবাদিক বলতে বাধ্য হয়েছে- ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না, তোমরা আমাকে পুড়িয়ে মারছ’।
“এই দম-বন্ধকর পরিস্থিতি একরাতে তৈরি হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিটি বিভাগের চরম অবহেলা, আইনের শাসনের অনুপস্থিতি, মব ভায়োলেন্সকে প্রশ্রয় এবং উসকানি দেওয়া, একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর প্রতি নতজানু নীতি, গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সুষ্ঠ বিচার করতে না পারা, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার কোনরুপ উন্নতি করতে না পারা এবং সর্বোপরি দেশের সাধারণ নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতাসহ নানাবিধ কারণে বিগত দেড় বছরে ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
এ পরিস্থিতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করে ‘দৃশ্যমাধ্যম সমাজ’ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা এবং ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে মেরে পোড়ানোর বিচার দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বহুল প্রতীক্ষিত ক্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরের দিন গত ১২ ডিসেম্বর, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদির উপর রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়।
“হামলার এক সপ্তাহ পর, ১৮ ডিসেম্বর, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি মৃত্যুবরণ করার খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদীচী কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দেশব্যাপী নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।”
দৃশ্যমাধ্যম সমাজ অরাজকতার বর্ণনা তুলে ধরতে গিয়ে বলেছে, “ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার বানোয়াট অভিযোগে পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে এবং আগুনে পুড়িয়ে নির্মমভাবে জনসম্মুখে হত্যা করা হয়েছে।
“খুলনায় সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। লক্ষীপুরে এক বিএনপি নেতার বাড়িতে বাইরে থেকে দরজায় তালা মেরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং এই ঘটনায় ৭ বছর বয়সী শিশু আয়েশা আক্তার পুড়ে মারা যায়।”
এসব ঘটনার ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানিয়ে দৃশ্যমাধ্যম সমাজ প্রতিটি অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।
দৃশ্যমাধ্যম সমাজের পক্ষে এ বিবৃতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে পাঠিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন—আলোকচিত্রী ও অধিকারকর্মী তাসলিমা আখতার, অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন, সংগীতশিল্পী বিথী ঘোষ, চলচ্চিত্র নির্মাতা কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, ধ্রুব হাসান, ইয়াসির আল হক, জাহিন ফারুক আমিন; অভিনয়শিল্পী আনান এইচ সিদ্দিকা, চলচ্চিত্র নির্মাতা তানহা জাফরীন, তানভীর আহসান, পোশাকশিল্প নির্দেশক ইদিলা ফরিদ তুরিন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কবির আহমেদ।