Published : 09 Dec 2025, 08:15 PM
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সাংস্কৃতিক ও সংগীতখাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিগত অবস্থান জানতে চেয়ে সোশাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের ভোকালিস্ট হামিন আহমেদ।
সোমবার ফেইসবুকে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “জাতীয় নির্বাচন কিছুদিন পরেই! সংগীতস্রষ্টা, শিল্পী ও সংগীতপ্রেমীরা জানতে চান, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য আপনার সাংস্কৃতিক ও সংগীতভিত্তিক ইশতেহার কী?”
আক্ষেপ প্রকাশ করে হামিন লিখেছেন, দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সংগীতকে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেনি।
হামিনের ভাষায়, “অন্য সবকিছু নিয়ে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, কিন্তু সংগীত নিয়ে নয়!”

পোস্টের মন্তব্যের ঘরে হামিন সংগীতপ্রেমীদের শক্তি ও নাগরিক ক্ষমতার ব্যবহার নিয়েও কথা বলেছেন।
তিনি মনে করেন, সংগীতপ্রেমীরা চাইলে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের অবস্থান জানাতে বাধ্য করতে পারে।
তিনি লিখেছেন, “১৮ কোটি মানুষের মধ্যে দুই, তিন বা চার কোটি মানুষ গান ভালোবাসেন, যাদের মধ্যে তরুণ, মধ্যবয়সী, প্রবীণ সবাই রয়েছে। যদি আমরা বলি দলগুলো সংস্কৃতি ও সংগীত নিয়ে তাদের পরিকল্পনা ঘোষণা করুক, নয়ত আমরা ভোট দেব না, অথবা যাদের পরিকল্পনা স্পষ্ট থাকবে, আমরা সবাই তাদের ভোট দেব তাহলে কী হতে পারে? সবারই তো ভোটের প্রয়োজন! এটাই নাগরিকদের শক্তি এই শক্তি ব্যবহার করুন।”
হামিন আহমেদের এই পোস্টের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন অনেক শিল্পী। পোস্টটি শেয়ার করে শিরোনামহীন ব্যান্ডের ভোকাল শেখ ইশতিয়াক লিখেছেন, "সংগীত করে জীবন পার করে দিতে চাই, এ দেশে সম্ভব না হলে অন্য দেশে।"
এ ছাড়া সংগীতশিল্পী জন কবির, অদিত রহমান, সাব্বির জামানসহ অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে ও মন্তব্য করে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার আরেক পোস্টে হামিন আহমেদ গুগল এআইয়ের তথ্য তুলে ধরে লিখেছেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মিউজিক, রেডিও ও পডকাস্ট মিলিয়ে অডিও কন্টেন্টের ব্যবহারকারী পৌঁছাবে জনসংখ্যার ২৮.৪০ শতাংশে।
২০৩০ সালে এই সংখ্যা দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫১.৯১ মিলিয়নে, যা ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
হামিন লিখেছেন, “ভাবুন তো, এটা কত বড় সংখ্যা! এখন যদি এই প্রায় ৩ কোটি বর্তমান শ্রোতার মধ্যে মাত্র ২ কোটি মানুষও বলে ‘বাংলাদেশে সংগীতের বিরোধী দল বা প্রার্থীকে আমরা ভোট দেব না’ তাহলে কী হতে পারে? বুঝে নিন সংগীতপ্রেমীদের শক্তি কতটা বড়।”
তিনি বলেন, “৫১.৯১ মিলিয়ন শ্রোতা এটা শুধু একটি শিল্প নয়, একটি শক্তিশালী ভোটব্যাংকও। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংগীতখাত নিয়ে পরিষ্কার নীতি জানানো।”
ফরিদ রশিদের হাত ধরে ১৯৭৯ সালে হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদ গড়ে তোলেন ব্যান্ড ‘মাইলস’। দুটি ইংরেজি গানের অ্যালবামের পর মাইলসের বাংলা গানের প্রথম অ্যালবাম ‘প্রতিশ্রুতি’ বের হয় ১৯৯১ সালে। তাদের জনপ্রিয়তার শুরু মূলত নব্বইয়ের দশকে।
এরপর ‘চাঁদ তারা সূর্য’, ‘প্রথম প্রেমের মতো’, ‘গুঞ্জন শুনি’, ‘ফিরিয়ে দাও’, ‘ধিকি ধিকি’, ‘পাহাড়ি মেয়ে’, ‘নীলা’, ‘পিয়াসী মন’সহ বহু গান দিয়ে দেশের শ্রোতা মনে জায়গা করে নেয় দলটি। 'প্রতিচ্ছবি' তাদের সর্বশেষ অ্যালবাম, যা প্রকাশ হয় ২০১৫ সালে।
এর আগে হামিন আহমেদ গ্লিটজকে বলেছিলেন, মাইলসের হাতে ছয় থেকে সাতটি গান তৈরি করা আছে। গানগুলো শিগগিরই আলোর মুখ দেখতে পাবে।