Published : 04 Mar 2026, 04:59 PM
সহশিল্পীদের মধ্যে একে অপরের সঙ্গে কোনো বিরোধ তৈরি হলে তা সংগঠনকে জানাতে হবে; নিজে থেকে তা সরাসরি সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করা যাবে না বলে সতর্ক করেছে ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন 'অভিনয়শিল্পী সংঘ'।
বুধবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে সংগঠনটি।
তাতে বলা হয়েছে, “একজন পেশাজীবী হিসেবে স্ব-সংগঠনের অথবা অন্যান্য বন্ধু প্রতীম সংগঠনসমূহের কোন সদস্যের সঙ্গে কোনো প্রকার জটিলতা বা মতভেদ সৃষ্টি হলে তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে অবহিত না করে, উপরন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রচার করা অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ এর আচরণবিধির পরিপন্থি।
শুটিং সেটে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ আনেন আরেক অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ। মঙ্গলবার মানিকগঞ্জে একটি নাটকের শুটিং চলাকালে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অথৈ ফেইসবুক লাইভে অভিযোগ করেন।
এই ঘটনার একদিন পর বুধবার এক বিবৃতিতে কারো নাম না নিয়ে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে 'অভিনয়শিল্পী সংঘ'।

বিবৃতিতে সংগঠনটি আরও লিখেছে, “এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পারস্পরিক আলোচনা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই সমাধান হওয়া উচিত বলে আমরা বিশ্বাস করি। কেননা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ঘটনা একতরফাভাবে উপস্থাপিত হলে তা একদিকে যেমন সামাজিক ভাবে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সমাজের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি ও নেতিবাচকতা ছড়িয়ে দিতে পারে।”
সংগঠনের কোনো সদস্য যদি এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তাহলে তার বিরুদ্ধে 'সাংগঠনিকভাবে যে কোসো ধরনের সিদ্ধান্ত' নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে অভিনয়শিল্পী সংঘ।
বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, “অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ দৃঢ়চিত্তে বিশ্বাস করে, দোষী যে-ই হোন না কেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে 'ট্রায়াল' বা জনমতের আদালত তৈরি না করে বা বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার না করে বরং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আসুন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই।”
অথৈয়ের অভিযোগ
অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ লাইভে এসে মারধরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, "গতকাল প্রথম দিনের শুটিং ছিল। তানজিন তিশা আপুর জন্য একটা সুন্দর উপহার নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেটি তিনি গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে কিছু বলিনি। প্রথম সিন শুরু করতে তিনি আমাকে মেরে হাত রক্তাক্ত করে ফেলেছিল।
"মনিটরে দেখে শহীদুজ্জামান সেলিম ভাই ও রিংকু ভাই জানতে চাইলেন ‘তোমাকে এভাবে মারল কেন?’ এক পর্যায়ে আমি বলেই দিই, এর আগে যখন মুশফিক ফারহানের (অভিনেতা মুশফিক আর ফারহান) সঙ্গে নাটকে কাজ করতাম, তখন তিশা আপু ফোন দিয়ে থ্রেট দিয়েছিল যে, ‘ফারহানের সঙ্গে কাজ করতে পারবে না’।"
অথৈ বলেন, "শুধু আমাকেই নয়, কেয়া পায়েলসহ অনেককেই এমন থ্রেট দিয়েছিলেন তিনি। কেন কাজ করব না জানতে চাইলে উত্তরে তিশা আপু বলেন, 'ফারহান আমার জামাই হয়।' আমি তখন আর কিছু বলিনি। যেহেতু এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। বিষয়টি ফারহানকে জানিয়েছিলাম। সেটা এক-দুই বছর আগের কথা। সেই ক্ষোভ হয়ত নিজের মধ্যে পুষে রেখেছেন কিনা জানি না।"
কান্নাজড়িত কণ্ঠে অথৈ বলেন, "মঙ্গলবার আমার সঙ্গে তিশা আপুর শেষ সিন। সিনটা এমন– আমি তিশা আপুকে চড় দেব, তিনি চড় খেয়ে চলে যাবেন। টেকনিক্যালি আমি আস্তে করে তিশা আপুর গালে হাত লাগিয়েছি সিনের প্রয়োজনে।
“কিন্তু তিশা আপু সেখান থেকে চলে না গিয়ে সিনের মধ্যে, ক্যামেরা চালু অবস্থায় আমাকে অনেক অনেক মেরেছে। আমার চোখ ফুলে গেছে। কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি এটা উদ্দেশ্যপ্রাণোদিতভাবে করেছেন। আমাকে কেন মারলেন?"
নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর শুটিং সেটে ঘটনাটি ঘটেছিল। সেটে কী হয়েছিল প্রশ্নে রিংকু গ্লিটজকে বলেন, "আমার নাটকের এই চরিত্রটা হচ্ছে 'পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে ভোগা এক মেয়ে। এখানে তিশার চরিত্রটা একটা স্পেশাল চাইল্ডের চরিত্র। আমরা শুটিং করছি, এখানে একটা দৃশ্য আছে থাপ্পড় দিতে হবে।
“তিশা অথৈকে জোরে থাপ্পড় দিয়েছে। শুটিংয়ের সময় থাপ্পড় হয় আস্তে। এখন ওদের ভেতরে ব্যক্তিগত সমস্যা আছে কিনা এটা তো আর আমি জানি না।"
বিষয়টি শুটিং সেটেই সমাধানের চেষ্টা হয়েছিল কী না জানতে চাইলণে রিংকু বলেন, “আমরা অথৈকে বললাম, 'বসো আপু, শান্ত হও, আমি দেখতেছি।' এখানে শহীদুজ্জামান সেলিম ভাই আছেন সিনিয়র শিল্পী। মোমেনা চৌধুরী, মনিরা আক্তার মিঠু আপাসহ অনেক শিল্পী আছেন। আমরা বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি চলে গেছেন।
“আমি তো দুই দিক দিয়ে ভুক্তভোগী। দুইজনই আমার শিল্পী। অথৈয়ের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। যদি আগে জানতাম তাদের ব্যক্তিগত কোনো জটিলতা আছে তাহলে হয়ত আমি শিল্পী বাছাইয়ে সতর্ক থাকতাম।"
আরও পড়ুন: শুটিংয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ সামিয়া অথৈয়ের