Published : 05 Jun 2026, 12:06 PM
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্মরণে তার সাহিত্য, গান আর চলচ্চিত্র নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
শুক্রবার বিকেল ৪টায় ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মরণ’ শিরোনামে এ আয়োজনে আলোচনা পর্বের পাশাপাশি তার লেখা গান পরিবেশন এবং নির্বাচিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।
হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১৩ নভেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘হুমায়ূন উৎসব’ আয়োজন করার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ‘অনিবার্য কারণের’ কথা বলে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়।
অবশেষে শিল্পকলার জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে স্মরণ করা হবে হুমায়ূন আহমেদকে।
জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বিকাল ৪টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান। সে সময় প্রদর্শিত হবে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত সিনেমা ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হবে ‘চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ: নির্মাণশৈলী ও শিল্পদর্শন’ শীর্ষক সেমিনার।
প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন চলচ্চিত্র গবেষক ও সমালোচক ড. শাহাদৎ রুমন। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং শিক্ষক অধ্যাপক ড. মতিন রহমান।
এ ছাড়া আলোচক হিসেবে থাকবেন হুমায়ূন আহমেদের সন্তান নুহাশ হুমায়ূন এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। এরপর পরিবেশিত হবে হুমায়ূন আহমেদ রচিত গান।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার ও নাট্যকার হুমায়ূন আহমেদ। আশি থেকে নব্বইয়ের প্রজন্মের কাছে হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন গল্পের জাদুকর৷ ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’থেকে শুরু করে ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নক্ষত্রের রাত’এর মত জনপ্রিয় নাটক নির্মীত হয় তার গল্পেই।
১৯৯২ সালের ‘শঙ্খনীল কারাগার’ সিনেমাটির গল্পকারও তিনিই। এই সিনেমার মাধ্যমেই সেরা গল্পকারের জাতীয় চলচ্চিত্রকারের সম্মান অর্জন করেন হুমায়ূন আহমেদ।
ধীরে ধীরে এক ঘণ্টার নাটক তৈরির মাধ্যমে পরিচালনাতেও আসেন হুমায়ূন। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় হুমায়ূন আহমেদ নির্মীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’। এরপর একে একে তিনি নির্মাণ করেছেন আরও সাতটি সিনেমা। ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ তার জনপ্রিয় সৃষ্টি।
হুমায়ূন আহমেদ প্রথম বিয়ে করেন ১৯৭৩ সালে গুলতেকিন খানকে। তাদের চার সন্তান হলেন- নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ, বিপাশা আহমেদ ও নুহাশ আহমেদ ।
নুহাশ পরিচালকের খাতায় নাম লিখিয়েছেন আরো আগেই। এই তরুণের নাটক, সিরিজ এসেছে প্রচারে।
২০০৫ সালে গুলতেকিন খানের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর বিয়ে করেন মেহের আফরোজ শাওনকে। এই দম্পতিরই দুই সন্তান- নিষাদ আহমেদ ও নিনিত আহমেদ ।
২০১২ সালে ১৯ জুলাই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান হুমায়ূন।