Published : 08 May 2026, 09:52 PM
রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ‘বিশ্বশান্তির আকুতি’ নিয়ে ছায়ানটের আয়োজনে রাজধানীতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র উৎসব।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে শুরু হওয়া এই উৎসবে পরিবেশিত হয় একক ও সম্মেলক গান, নৃত্য এবং পাঠ-আবৃত্তি। ছায়ানটের নিজস্ব শিল্পীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত শিল্পী ও দল আয়োজনে অংশ নেয়।
এবারের রবীন্দ্র উৎসব শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক উদযাপনে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিশ্বজুড়ে চলমান মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী।
উদ্বোধনী পরিবেশনা শুরু হয় ছায়ানটের শিল্পীদের পরিবেশনায় সম্মেলক নৃত্যগীত ‘ভুবনজোড়া আসনখানি’ দিয়ে।
এরপর বক্তব্যে ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের শেষ ভাষণের কথা স্মরণ করে বলেন, “মনুষ্যত্বের এই প্রতিকারহীন পরাভবকে চরম সত্য বলতে আমি অস্বীকার করছি–এই উচ্চারণ ছিল স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের। যে রবীন্দ্রনাথ শান্তির জন্য, সংঘাতহীন বিশ্বের জন্য, হিংসা-বিদ্বেষশূন্য বিশ্বের জন্য প্রাণপাত করেছেন; লিখেছেন গল্প, প্রবন্ধ, নাটক, সেই রবীন্দ্রনাথকে আজ স্মরণ করছি।”
কয়েক দশক আগেও বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত হলে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ প্রতিবাদে রুখে দাঁড়াত। কিন্তু আজ সেই সমাজ অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ও নিশ্চুপ বলে মন্তব্য করেন সারওয়ার আলী।

তিনি বলেন, “ছায়ানট কেবলই একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়। ছায়ানট এই তাগিদটি বোধ করছে যে, বিশ্বশান্তির জন্য আকুতি, ক্ষমতার দম্ভ যে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে, তার বিরুদ্ধে কথা বললে প্রকৃত সংস্কৃতির শক্তিকেই কথা বলতে হয়। তাই ছায়ানট রবীন্দ্র-উৎসব উদযাপন করছে শান্তির আকুতি নিয়ে, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে।”
বক্তব্যের শেষে সারওয়ার আলী বলেন, “আমরা সেই রবীন্দ্রনাথের কথা বলছি, যে রবীন্দ্রনাথ গদির উপরে ব্রাহ্মণ পাশে আর মুসলমান গরিব প্রজারা এমনি মেঝের উপরে–তার প্রতিবাদ করেছিলেন। আমি সেই রবীন্দ্রনাথের কথা বলছি, যে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহ, পতিসরে সাদাসিধে কর্মী রবীন্দ্রনাথে রূপান্তরিত হন। যে রবীন্দ্রনাথ ক্ষুদ্র ঋণের প্রবর্তন করেন, যে রবীন্দ্রনাথ এই পদ্মা পারে এসে কিশোরী বধূ, পোস্টমাস্টার, গরিব অসহায় প্রজা–তাদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন। যার প্রভাব রবীন্দ্রনাথের কর্মে বারবার ফিরে এসেছে।”
এরপর অনুষ্ঠানে সম্মেলক গান, একক পাঠ, একক সংগীত ও নৃত্যগীতের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয় একাধিক রবীন্দ্রসৃষ্টি।
একক পাঠে অংশ নেন আবৃত্তিশিল্পী ও অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।
তার আবৃত্তির ফাঁকে ফাঁকে একক সংগীত পরিবেশন করেন মহুয়া মঞ্জরী সুনন্দা, আজিজুর রহমান তুহিন, ফারজানা আক্তার পপি, সত্যম দেবনাথ ও সেঁজুতি বড়ুয়া।
পরবর্তীতে ছায়ানটের শিল্পীরা পরিবেশন করেন সম্মেলক গান। এছাড়া একক নৃত্য পরিবেশন করেন সামিনা হোসেন প্রেমা।
অনুষ্ঠানে একক আবৃত্তি 'সুপ্রভাত' পরিবেশন করেন নাজমুল আহসান।

আড়াই ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে একক সংগীতে অংশ নেন ঊর্মী রায় বর্ণা, বুলবুল ইসলাম, মাইনুর রহমান খান, নাঈমা ইসলাম নাজ, অসীম দত্ত, ইফফাত আরা দেওয়ান, এ টি এম জাহাঙ্গীর, মাকসুরা আখতার অন্তরা, চঞ্চল কৃষ্ণ বড়াল, রিয়া চক্রবর্তী ও সাজেদ আকবরসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠান শেষ হয় বেশ কিছু সম্মেলেক গানের মধ্য দিয়ে।
রবীন্দ্র উৎসব উপলক্ষে এ দিন দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল ছায়ানট ভবনে। মিলনায়তনের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি দর্শক আসায় অনেকেই বাইরে প্রজেক্টরের পর্দায় অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন আয়োজন শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন ছায়ানট সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা।