Published : 14 Oct 2022, 11:10 AM
পুলিশের আপত্তিতে জাতীয় জাদুঘরে কবীর সুমনের গানের অনুষ্ঠান নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় নতুন জায়গা খুঁজছেন আয়োজকরা।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান পিপহোলের কর্মকর্তা মীর আরিফ বিল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই ‘কোনো খবর’ তারা দিতে পারবেন বলে আশা করছেন।
“আমাদেরকে ৩/৪ ঘণ্টা সময় দিন। এরপর সবাইকে জানিয়ে দেব। আমরা কবীর সুমনের অনুষ্ঠানটি করতে চাই। সবার সহযোগিতা চাই।”
শনিবার থেকে তিন দিনের আয়োজনে গান গাইতে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা পৌঁছান ভারতের বাংলা গানের জনপ্রিয় শিল্পী সুমন। ঢাকায় ১৩ বছর পর সুমনের গানের আয়োজন নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছে তুমুল আগ্রহ।
সূচি অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আধুনিক বাংলা গান গাওয়ার কথা ছিল সুমনের। ১৮ অক্টোবর আধুনিক বাংলা খেয়াল পরিবেশনার পর ২১ অক্টোবর আধুনিক বাংলা গান দিয়ে আয়োজন শেষ করার কথা ছিল।
তিন দিনের এই অনুষ্ঠানের টিকেট বিক্রি হয়েছে আগেই। বুধবার ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক প্রতিষ্ঠান পিপহোল বলেছিল, তাদের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। বিদেশি শিল্পীকে নিয়ে এই আয়োজনের সব অনুমতিই নেওয়া আছে।

কিন্তু ঢাকা মহানগর পুলিশ সায় না দেওয়ায় জাদুঘরে এই গানের অনুষ্ঠান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাতীয় জাদুঘর একটি কেপিআই, কেপিআইয়ের ভেতর জনসমাবেশ বা এধরনের কোনো অনুষ্ঠান করার সুযোগ নেই।”
আয়োজকরা বৃহস্পতিবারও জাদুঘরের আয়োজন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষও বলছিল, অনুষ্ঠানটি তাদের মিলনায়তনে হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের ভাষ্য আসার পর নতুন ভেন্যু খুঁজতে শুরু করে পিপহোল।
এ আয়োজন সম্পর্কে জানেন– এমন একাধিক ব্যক্তি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, পিপহোলের পক্ষ থেকে বিকল্প কয়েকটি ভেন্যুতে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তাদের কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনেও গিয়েছিলেন বরাদ্দের বিষয়ে কথা বলতে।
ঢাকায় তিন দিন গান শোনাবেন কবীর সুমন
‘এই বুড়োর গান শুনতে মানুষের আগ্রহ আনন্দ দেয়’
জাদুঘরে সুমনের গান: আয়োজকরা প্রস্তুত; অনুমতি দেয়নি পুলিশ
ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ এখনই এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে চায়নি। তবে পিপহোলের সাথে বৈঠকের সময় সেখানে উপস্থিত একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার সাথে কথা বলে আলোচনা সম্পর্কে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পেরেছে।
“ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ তাদের বলেছে, গানের অনুষ্ঠান করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এ মিলনায়তনে নেই। সাউন্ড সিস্টেমও ভালো না। এর আগে দেশের একটি শীর্ষ ব্যান্ডদল মিলনায়তন বরাদ্দ নিয়েও পরে সাউন্ড সমস্যার কারণে শো করেনি। তখন দর্শকরা মিলনায়তনে ভাঙচুর করেছিল।
“তবে তারা এটাও বলেছে, আয়োজকরা যদি সকল অনুমতি এবং নিয়ম মেনে অনুষ্ঠান করতে চান, বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট ইতিবাচক।”
ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের আলোচনা কতদূর এগোল জানতে চাইলে পিপহোলের আরিফ বিল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "জাতীয় জাদুঘরে ভেন্যু হিসেবে সরকারের একটা মত আছে, এই মতের সাথে আমাদেরও পূর্ণ সম্মান আছে। এখন বিকল্প কোথায় করা যায়, চেষ্টা করছি। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিউট নিয়েও ভাবছি। তবে অনুমতি না পেয়ে তো আমরা ঘোষণা দিতে পারি না।”
আয়োজকরা নতুন ভেন্যুর ব্যবস্থা করতে পারলে সেখানেও পুলিশের অনুমতির বিষয় থাকবে। আর সুমনের গান নিয়ে শ্রোতাদের অতি আগ্রহকে চাপ হিসেবে দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
জাদুঘরে অনুমতি না দেওয়া প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাদে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “শিল্পীদের অনেক ক্রেজ থাকে। উনারা যে পরিমাণ টিকেট বিক্রি করেছে, তার চেয়ে যদি অনেক বেশি লোক চলে আসে এবং বাই চান্স ভাঙচুর শুরু করে, তখন তো সমস্ত দোষ পুলিশের উপর এসে পড়বে।”
আয়োজকরা অন্য কোনো স্থানে অনুষ্ঠানটি করার আবেদন করলে সেক্ষেত্রেও ‘যাচাই করে’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছিলেন পুলিশ কমিশনার। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নতুন কোনো ভেনুর জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চায়নি পিপহোল।
বিখ্যাত অ্যালবাম ‘তোমাকে চাই’ এর তিন দশক পূর্তিতে পিপহোল ঢাকায় ‘সুমনের গান’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
৩০ বছর আগে ‘তোমাকে চাই’ অ্যালবামের মাধ্যমে বাংলা গানের জগতে এক নতুন ধারার সূচনা হয়। সেই ধারারা পুরোধা সুমন ১৩ বছর পর ঢাকায় এসেছেন, ফলে বাংলাদেশে তার অগুনতি ভক্তদের মধ্যে রয়েছে তুমুল আগ্রহ।
কবীর সুমন শেষবার ঢাকায় এসেছিলেন ২০০৯ সালের অক্টোবরে। তখন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গান পরিবেশনে বাধা পেয়ে কলকাতায় ফিরেছিলেন। মধ্যে এক যুগ কেটে গেলেও আর ঢাকায় আসেননি তিনি। এক সাক্ষাৎকারে অভিমানের সুরে বলেছিলেন, বাংলাদেশে আর কখনও আসবেন না তিনি।
এবারের অনুষ্ঠানটি ঘিরে তরুণদের উৎসাহ দেখে ঢাকার আসার আগে এক ভিডিও বার্তায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কবীর সুমন বলেছিলেন, “আমার ৭৩ বছর চলছে। আর বেশি দিন তো নেই। আরো অনেক বছরও যদি বাঁচি, এই গলাটা তো আর থাকবে না। সুর তো থাকবে না। তাই যতদিন আছি, সকলে যদি শোনেন আমার খুব ভালো লাগবে।”