Published : 25 Jun 2026, 11:19 AM
পরিচালক, প্রযোজনা সংস্থা বদলেও লাভ হল না, যুক্তরাষ্ট্রের পপ তারকা ম্যাডোনার সুর-সংগীতে জমজমাট বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে সিনেমাটি আর বানানো হচ্ছে না।
এই ব্যর্থতার পেছনে আছে মূলত অর্থ সংকট। বায়োপিক বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় ম্যাডোনার ভাষ্য, “আমার জীবনটা বিশাল, তাই বড় বাজেট প্রয়োজন ছিল।”
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০২১ সালে হলিউডের স্টুডিও ইউনিভার্সাল এই বায়োপিক নির্মাণ করবে বলে খবর আসে। সিনেমার চিত্রনাট্যে অবদান রাখার পাশাপাশি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ম্যাডোনা। তবে প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে একটা সময়ে বাজেট নিয়ে সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন ম্যাডোনা।
তিনি বলেন, “বাজেট নিয়ে আমার এবং ইউনিভার্সালের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছিল, কারণ আমার একটি অসাধারণ জীবন। যে জীবনের ব্যাপ্তি বিশাল, বিস্তৃত ও ঘটনাবহুল। তাই বায়োপিক বানাতে বড় বাজেটের প্রয়োজন ছিল বলে আমি মনে করি।”
বায়োপিকের চিত্রনাট্যে লিখতে এবং প্রি-প্রোডাকশনের কাজ চলেছে দুবছর ধরে। খরচ কমাতে এক পর্যায়ে সার্বিয়ায় শুটিংয়েরও প্রস্তাব দেন ম্যাডোনা। কিন্তু স্টুডিও কর্তৃপক্ষ তাতে কান দেয়নি বলে অভিযোগ পপ তারকার।
“সার্বিয়ায় শুটিংয়ের প্রস্তাবে ইউনিভার্সাল আগ্রহ ছিল বলে আমার মনে হয় না। আমার উপরে হয়ত তারা আস্থাই রাখতে পারেনি। ওদের মনোভাব এমন ছিল যে, আমি সার্বিয়ায় চারদিনের বেশি থাকব বলে বিশ্বাসই করা যায় না।”

ম্যাডোনা স্টুডিও কর্তাব্যক্তিদের তখন বলেন, “তোমরা কি স্ক্রিপ্ট পড়ে দেখেছ? আমার পুরো জীবনই কেটে যাচ্ছে টিকে থাকার সংগ্রাম। আমি সেখানে ছুটি কাটাতে যাচ্ছি না।”
বায়োপিক নিয়ে ইউনিভার্সালের সঙ্গে চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর ম্যাডোনার সঙ্গে যোগাযোগ হয় নেটফ্লিক্সের। তারা ম্যাডোনার জীবনের গল্পকে সিরিজ আকারে নির্মাণের কথা জানায়। কিন্তু তাতেও জটিলতা বাধে। কারণ হল চিত্রনাট্য।
ম্যাডোনা বলেন, ইউনিভার্সালের সঙ্গে তৈরি করা চিত্রনাট্য নতুন করে ব্যবহার করতে হলে সেটি কিনে নিতে হত। ওই খরচকে ম্যাডোনা ‘অযৌক্তিক’ বলে মনে করেছিলেন।
তাই সবকিছু শুরু থেকে ম্যাডোনাকে শুরু করতে হয়েছিল। চিত্রনাট্যকার খুঁজে বের করা, কাজের পরিকল্পনা করাসহ সব কিছু আয়ত্বে সময় চলে যায় আরও আট থেকে নয় মাস। এতকিছু করেও বায়োপিকের কাজটা আর এগোয়নি।
ম্যাডোনা বলেছিলেন, চিত্রনাট্যে তার শৈশব থেকে আশির দশকের প্রথমদিকে তার ক্যারিয়ার নিয়ে সংগ্রামের কথা বলা হবে। ওই সময়ে সংগীতে কেরিয়ার গড়তে নিউ ইয়র্কে এসে সমস্যায় পড়া, সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতে তাকে বাঁকা চোখে দেখা এবং ব্যক্তিজীবনের সম্পর্কগুলো নিয়ে তৈরি হবে সিনেমাটি।
১৯৮৩ সালে নিজের প্রথম অ্যালবাম দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত জগৎ কাঁপিয়ে দেন ম্যাডোনা। পরের বছরের অ্যালবাম ‘লাইক আ ভার্জিন’ও বিক্রির হিসাবে উঠে আসে টপচার্টের শীর্ষে। এসব চিত্রনাট্যে বড় আকারে দেখানো হবে।
দীর্ঘ অডিশন পর্ব উৎরে ম্যাডোনার বায়োপিকে অভিনয় করার সুযোগ পান জুলিয়া গার্নারের।