Published : 28 Apr 2026, 12:12 PM
পপ সঙ্গীতের দুই কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসন ও প্রিন্সের শীতল সম্পর্কের কথা ভক্তদের কাছে অজানা নয়। আশির দশকে ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকার সময় একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তারা। তবে, সংগীত প্রযোজক জিমি জ্যাম জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতা করলেও প্রিন্স ও জ্যাকসন একে অপরকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন।
পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে দুই মহাতারকার সঙ্গে কাজ করা জিমি জ্যাম বলেন, “তারা প্রতিদ্বন্দ্বি মনোভাবের ছিলেন। কিন্তু একে অপরকে অত্যন্ত শ্রদ্ধাও করতেন।”
জিমি আরও বলেন, “তারা যেভাবে কাজ করতেন সেটা ছিল একেবারে ভিন্ন। প্রিন্স কোনো গানের কাজ শুরু করতেন সকালে। দিন শেষে ওই গানটা পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যেত, মিক্সিংসহ। খুবই স্বতস্ফূর্তভাবে হত সব কিছু। আর প্রিন্স এভাবেই কাজ করতেন।”
মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে জ্যামের ভাষ্য, “মাইকেল নিজের কাজ নিয়ে একেবারে নিঁখুত হতে চাইতেন। আমার মনে আছে ‘স্ক্রিম’ গানটা যখন তৈরি হচ্ছিল, তখন একটা লাইন নিয়েই আমরা তিনদিন কাজ করেছি। তিনি আমাদেরকে বলতেন, ‘নিজেদেরকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে।’ আমরা কাজ শেষে তাকে বলতাম, ‘ঠিক আছে। এই গানটা নিয়ে যে চ্যালেঞ্জ ছিল সেটা আমরা সামলেছি। দারুণ শোনাচ্ছে এখন।’”
আশির দশকে দুই অ্যালবাম ‘থ্রিলার’ ও ‘ব্যাড’ দিয়ে বিশ্বের জনপ্রিয়তম তারকায় পরিণত হন জ্যাকসন। অন্যদিকে, ‘পার্পল রেইন’ ও ‘প্যারেড’ অ্যালবাম দিয়ে চার্টে ঝড় তোলেন প্রিন্স।
দুই তারকার রেষারেষি নিয়ে ওই সময়ে নিয়মিত নানা মুখোরোচক ঘটনা প্রকাশ হত সংবাদমাধ্যমগুলোয়।
গুঞ্জন আছে, জ্যাকসন ও লায়োনেল রিচির উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে রেকর্ড করা ‘উই আর দ্য ওয়ার্ল্ড’ গানটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ জনপ্রিয় শিল্পী হাজির হলেও, জ্যাকসনের কারণে নাকি হাজির হননি প্রিন্স।
তবে জিমি জ্যামের দাবি, শ্রদ্ধার দিক থেকে কমতি ছিল না দুই তারকার। তিনি বলেন, “সৃষ্টিশীলতার দিক থেকে তারা দুই ভিন্ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কিন্তু তারা একে অপরকে শ্রদ্ধা করতেন।”
তিনি যোগ করেন, “মাইকেলের কাজের প্রভাব প্রিন্সের ওপর ছিল। আমার মনে হয়, প্রিন্সের কাজের প্রভাবও মাইকেলের ওপর পড়েছে।”
২০০৯ সালের ২৫ জুন ৫০ বছর বয়সে মারা যান জ্যাকসন। সাত বছর পর, ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল, ফেন্টানিল ওভারডোজে মিনেসোটায় নিজ বাড়ি ও রেকর্ডিং স্টুডিওতে ৫৭ বছর বয়সে মারা যান প্রিন্স।