Published : 08 May 2026, 10:26 PM
গান-কবিতা-আলোচনা আর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপান করেছে শিল্পকলা একাডেমি, রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
শুক্রবার তিন মঞ্চে আলোচকরা রবীন্দ্রচিন্তার প্রাসঙ্গিকতা, দর্শন ও সমকালীন সমাজে এর প্রভাব নিয়ে কথা বলেন।
রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে চার দিনের আয়োজন রেখেছে শিল্পকলা একাডেমি। শুক্রবার বিকালে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এ আয়োজন উদ্বোধন করা হয়। জেলাগুলোতেও শিল্পকলা একাডেমির আয়োজন একযোগে চলবে।

শিল্পকলা একাডেমির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, “চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও গভীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। বিজ্ঞান ও দর্শনের বাইরেও তিনি মানুষের বৃহৎ জগৎকে দেখেছেন।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত ‘হে নূতন, দেখা দিক আরবার’। এরপর একক ও দলীয় সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ‘ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়’, ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’, ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’, ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’সহ একাধিক রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতার আবৃত্তি এবং সমবেত নৃত্য পরিবেশিত হয়।
চার দিনের এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শনিবার একই স্থানে হবে।

রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা দুই দিনের আয়োজন করেছে। আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজনের প্রথম দিন শুক্রবার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাশিল্পী আনোয়ারা সৈয়দ হক।
অনুষ্ঠানে এ বছরের কলিম শরাফী পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক শিল্পী তিমির নন্দীকে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীরা একক ও সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা), বিশ্ববীণা, উত্তরায়ণ ও সুরতীর্থসহ বিভিন্ন সংগঠন এতে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী রফিকুল আলম, লাইসা আহমেদ লিসা, লিলি ইসলাম, পীযূষ বড়ুয়া, তানজীনা তমা, নির্ঝর চৌধুরী, আজিজুর রহমান তুহিন, জয়ন্ত আচার্য, মিতা দে, ইন্দ্রানী কর্মকাসহ অনেকে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনের আয়োজন চলবে শনিবার।

রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনে শুক্রবার বাংলামোটরে ‘রবীন্দ্রনাথ ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক রাজীব সরকার। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক নীলিমা তাবাসসুম এবং লেখক ও গবেষক খন্দকার স্বনন শাহরিয়ার সেখানে বক্তব্য দেন।
রাজীব সরকার বলেন, “বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম মহৎ শিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার জীবদ্দশা থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়েও নানা বিরূপ সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে তার অতুলনীয় সৃজনশীলতা ও মানবিক দর্শনের কাছে এসব সমালোচনা টিকতে পারেনি।”
আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ও কবিতা পরিবেশিত হয়। এতে অংশ নেন মোস্তাফিজুর রহমান তূর্য, সেঁজুতি বড়ুয়া, সফিকুল ইসলাম সোহাগ, নীলা হাসান, ইসরাত জাহান মেরিন ও হাসান সালেহ জয়।